ঢাকা বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৭
২৪ °সে

ব্রিটেনের নির্বাচনে জনসনের জয়জয়কার

ব্রিটেনের নির্বাচনে জনসনের জয়জয়কার

ব্রিটেনের নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লইয়া জয় লাভ করিয়াছে বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টি। পক্ষান্তরে, জেরেমি করবিনের নেতৃত্বে প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির ফল হইয়াছে যারপরনাই খারাপ। জনসনের নির্বাচনের মধ্য দিয়া যে কোনো মূল্যেই হউক ব্রেক্সিট সম্পন্ন করিবার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্রসর হইবার পথ করিয়া লইয়াছে ব্রিটেন।

গত কয়েক বত্সর ধরিয়া পশ্চিমা বিশ্বে রাজনীতি ‘সত্য-পরবর্তী’ যুগে প্রবেশ করিয়াছে বলিয়া একটি কথা চালু হইয়াছে। সত্য-মিথ্যার ভেদ মুছিয়া যাওয়াই হইতেছে এই যুগের বৈশিষ্ট্য। সততা বনাম অসততা কিংবা বস্তুনিষ্ঠতা বনাম অবান্তরতার মধ্যেকার পার্থক্য রাজনীতিতে দ্রুতই বিলীন হইতেছে। বরিস জনসনের বিজয়ে এই বার্তাটি নতুন করিয়া সামনে তুলিয়া আনিয়াছে। জনসন নির্বাচনে নামিয়াছিলেন উগ্র জাতীয়তাবাদী আবেগকে সম্বল করিয়া। যে কোনো মূল্যেই হউক, ব্রেক্সিট নিষ্পন্ন করাই ছিল তাহার আপ্তবাক্য। ব্রেক্সিটের মধ্যে উপাদান হিসাবে রাখিয়াছিলেন উগ্র জাতীয়তাবাদী উপাদানগুলি। গোটা ইউরোপের তুলনায় ব্রিটেন হইতেছে আলাদা, অভিবাসীরা হইতেছে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান হ্রাস পাইবার কারণ, মুসলিমরা হইতেছে উগ্রবাদের সমর্থক—মোটামুটি এইগুলিই হইতেছে জনসনের দলের প্রচ্ছন্ন প্রচারণা। ইহা সত্য যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ ব্রিটিশ তথ্য-প্রমাণহীন এই সকল বক্তব্য সমর্থন করিয়াছে। উগ্র জাতীয়তাবাদী প্রচারণায় জনসন ও তাহার দল কতবার অসত্য-অবাস্তব তথ্য দিয়াছেন, সেই হিসাব দেখাইতে-দেখাইতে সংবাদমাধ্যমগুলি হয়রান হইয়া গিয়াছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাইতেছে যে এইসবে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার কিছু মনে করেন নাই। জনসনের বিপরীতে করবিনের প্রচারণা ছিল বস্তুনিষ্ঠতানির্ভর। তিনি ব্রেক্সিটকেই একমাত্র বিষয় হিসাবে বিবেচনা করেন নাই; জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা, আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির মতো মৌলিক বিষয়গুলিকে গুরুত্বের সহিত সামনে আনিয়া ধরিয়াছেন। কিন্তু তাহাতে ভোটারদের মন গলে নাই।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হইতেছে যে, ব্রিটিশরা অর্থনৈতিক ও জাতীয় স্বার্থের ব্যাপারে সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের পরিবর্তে জাতীয় আবেগকেই সর্বাগ্রে স্থান দিয়াছে। এমতাবস্থায় মূলধারা ও অভিবাসী মিলাইয়া জাতীয় সংহতি অর্জন কিংবা গোটা ইউরোপ হইতে হ্যাঁচকা টানে বিচ্ছিন্ন না হইয়া ব্রেক্সিট বিষয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণসংক্রান্ত করবিনের যুক্তির বহর সংখ্যাগরিষ্ঠকে কাছে টানিতে ব্যর্থ হইয়াছে। ব্রিটেনে যাহা ঘটিয়াছে তাহা গত কয়েক বত্সরের বিবেচনাতে নতুন কিছু নহে। নানা দেশেই আজকাল লোকরঞ্জনবাদী রাজনীতিকেরা জাতীয় বা গোষ্ঠী ভাবাবেগের ঢেউ তুলিয়া নির্বাচনী বৈতরণী পার হইতেছে। নির্বাচনে জিতিয়া আসিয়া তাহার আইনের শাসন সর্বোপরি সাংবিধানিক মূল্যবোধেরও লঙ্ঘন ঘটাইতেছেন। বরিস জনসনের ব্রিটেন একই পথে হাঁটিবে কি না, তাহা সময় বলিয়া দিবে। নির্বাচনী ভরাডুবির পরে করবিন খুব বেশিদিন দলীয় নেতৃত্বে থাকিবেন বলিয়া মনে হয় না। তবে রাজনীতিতে সততা ও বস্তুনিষ্ঠতা ফিরাইয়া আনিবার চেষ্টার জন্য তিনি যে স্মরণীয় হইয়া থাকিবেন, তাহাতে তেমন কোনো সন্দেহের কারণ দেখা যাইতেছে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন