ঢাকা বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৭
২৪ °সে

অনলাইনে বিছানো প্রতারণার জাল

অনলাইনে বিছানো প্রতারণার জাল

ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দস্যুতা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় কমিয়াছে বলিয়া জানাইয়াছে সিআইডির অরগানাইজড ক্রাইম শাখা। তবে ইহাতে সন্তোষ প্রকাশ করিবার কোনো কারণ নাই। কারণ, অপরাধের ট্রান্সফরমেশন ঘটিয়াছে। ‘ম্যানুয়াল অপরাধ’ রূপ বদলাইয়া ‘ডিজিটাল’ হইতেছে। ইহা স্পষ্ট যে বিশ্বের প্রতি প্রান্তেই ঠগ, জোচ্চর ও প্রতারকরা প্রতিনিয়ত তৈরি করিতেছে নিত্য নূতন ফাঁদ। তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্যে কীভাবে সাধারণ মানুষদের প্রতারিত করা হইতেছে, সেই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সম্প্রতি ইত্তেফাকে প্রকাশিত হইয়াছে যেইখানে দৃষ্টান্ত হিসাবে উঠিয়া আসিয়াছে প্রতারক চক্রের সম্মোহনী কিছু ঘটনা। যেমন—কথিত ‘জীনের বাদশা’র মাধ্যমে নিজের সঞ্চয়ের টাকা দ্বিগুণ করিবার ফাঁদে পা দিয়া ২৫ লক্ষাধিক টাকা খুইয়াছেন একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। এই টাকা ছিল ঐ সাবেক নারী কর্মকর্তার সারাজীবনের সঞ্চয়। তিনি এতটাই সম্মোহিত হইয়া পড়িয়াছিলেন যে, ‘জীনের বাদশাহ’কে আরো অর্থ প্রদানের জন্য তাহার এক প্রতিবেশীর নিকটও ঋণের জন্য হাত পাতিয়াছিলেন। ইহার পরই বাহির হইয়া আসে এমন ভয়াবহ প্রতারণার ঘটনা।

এই ধরনের প্রতারণার পাশাপাশি ফেসবুক, মেসেনজার, হোয়াটসঅ্যাপস, ইমো-জাতীয় যোগাযোগমাধ্যমে বিমুগ্ধকর জাল পাতিয়া শিকার ধরিতেছে ধূর্ত প্রতারকরা। নানা প্রলোভনে কেহ অর্থ, কেহ পণ্য ক্রয়, কেহ প্রেমের ফাঁদে আটকা পড়িতেছে। বিশেষ করিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীরা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় কাটান বলিয়া একটুখানি অসচেতন হইলে কিংবা বাস্তববুদ্ধির ঘাটতি থাকিলেই ফাঁদে পড়িতেছেন খুব সহজে। ইহাতে নষ্ট হইতেছে তাহাদের ব্যক্তিগত জীবন, গৃহশান্তি, সহায়সম্পত্তি। কিছুদিন পূর্বে একজন গৃহবধূকে মোবাইলে বলা হয় যে, তাহার সন্তান অপহূত হইয়াছে। সন্তানকে ফেরত পাইতে হইলে তাহাকে ইমোতে নগ্ন হইয়া ভিডিও কল দিতে হইবে। সন্তানের কথা ভাবিয়া তিনি তাহাই করেন এবং কিছু সময় পর বুঝিতে পারেন যে, অপহরণের ঘটনাটি মিথ্যা। কিন্তু ততক্ষণে যাহা হইবার হইয়া গিয়াছে। কারণ, প্রতারক চক্র ইহার পর ঐ নারীর ছবি অনলাইনে ছড়াইয়া দেওয়ার হুমকি দিয়া টাকা দাবি করিতে শুরু করে। অর্থাত্, ব্ল্যাকমেইলের নূতন আরেকটি ফাঁদে আটকাইয়া পড়েন ঐ নারী। প্রতারণার আরেকটি সহজ ক্ষেত্র হইল অনলাইনে কেনাকাটা। বিশ্বব্যাপী অনলাইনে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় জনপ্রিয় হইয়া উঠিবার ক্ষেত্রে কিছু বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতার ভূমিকা রহিয়াছে। অর্থাত্ ভোক্তা যাহাতে প্রতারিত না হন, তাহার জন্য নানা ধাপে রক্ষাকবচ রহিয়াছে। কিন্তু ফেসবুক বা নানান ওয়েবসাইটে চমকপ্রদ ভাষায় বিজ্ঞাপন প্রদানের মাধ্যমে ইনবক্সিংই-কমার্সে প্রতারণা করিতেছে একশ্রেণির অসত্ ব্যক্তি ও গোষ্ঠী। এই ক্ষেত্রে প্রধান অভিযোগ হইল, ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত ছবির সঙ্গে পণ্যের মিল থাকে না। প্রকৃতপক্ষে যথাযথ তদারকি না থাকিবার দরুন এই ধরনের প্রতারণার সুযোগ লইতেছে কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। এই বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কেন্দ্রে অভিযোগের সুযোগ থাকিলেও খুব কম ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করেন। দেশ ডিজিটাল হইতেছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ প্রযুক্তির উল্লম্ফনের সহিত পাল্লা দিতে পারিতেছে না। সুতরাং তাহাদের সচেতন করিবার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের রহিয়াছে যুক্তিসংগত কারণেই।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন