ঢাকা শনিবার, ৩০ মে ২০২০, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৬ °সে

নানা সংকটে সরকারি খাতের চিকিত্সা

নানা সংকটে সরকারি খাতের চিকিত্সা

মানুষের প্রধান একটি মৌলিক অধিকার হইল চিকিত্সাসেবা। যেই মূলনীতির উপর ভিত্তি করিয়া বাংলাদেশ রাষ্ট্র গড়িয়া উঠিয়াছে সেইখানে চিকিত্সাসেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্র সেটা পালনে কতটা সফল হইতেছে সেই প্রশ্ন থাকিয়া যাইবে। কিন্তু সরকার চিকিত্সা খাতে প্রতি বত্সর যে বরাদ্দ দিয়া থাকে তাহাও সাধ্য অনুযায়ী একেবারে কম নহে। তাহলে গলদটা কোথায় থাকিয়া যাইতেছে? আমরা জানি, বাংলাদেশে সরকারি খাতের চিকিত্সায় সীমাবদ্ধতা অনেক; কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই খাতে বেশ অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটিয়াছে, যাহার প্রতিফলন সেবার ক্ষেত্রে পড়িয়াছে কমই। ইহার পিছনে উল্লেখযোগ্য একটি কারণ হইল জনবলের সংকট। বিশেষ করিয়া মফস্সল এলাকায় চিকিত্সকের অভাব প্রকট। আবার পরিচালনার দক্ষ লোকের অভাবে অনেক দামি যন্ত্রপাতিও অব্যবহূত পড়িয়া থাকে। তাহাতে একদিকে সরকারের বরাদ্দের অর্থ নষ্ট হয়, অপরদিকে জনসাধারণ সেবা হইতে বঞ্চিত থাকে। যেমন শতবর্ষী ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ১০০ শয্যার হাসপাতালটির অনেক শয্যা খালি পড়িয়া থাকিতেছে। হাসপাতালটিতে কর্মকর্তার পদ রহিয়াছে ৩৭টি, বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৭ জন। হাসপাতালটিতে সিনিয়র ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদ রহিয়াছে ১২টি। ইহার মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ছয় জন। গত চার বত্সর ধরিয়া প্যাথলজির জুনিয়র কনসালট্যান্ট, সার্জারির সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও চক্ষুর জুনিয়র কনসালট্যান্ট নাই। দুই বত্সরের অধিক সময় ধরিয়া নাই অর্থোপেডিক্স সিনিয়র কনসালট্যান্ট। সহকারী রেজিস্ট্রার মেডিসিন, ব্লাড ব্যাংক কর্মকর্তা নাই গত তিন বত্সর ধরিয়া। আয়ুর্বেদিক বিভাগের মেডিক্যাল কর্মকর্তা বর্তমানে প্রেষণে ঢাকায় আছেন। হাসপাতালে রেডিওলজিস্ট না থাকায় এক্সরে প্রতিবেদন দেওয়া হইতেছে না। একই কারণে বন্ধ রহিয়াছে আলট্রাসনোগ্রাম। প্যাথলজি বিভাগের কাজও চলিতেছে কোনোরকমে। ইসিজি মেশিনের অপারেটর অনেক সময় থাকিতেছেন অনুপস্থিত। এতগুলো খালি পদ লইয়া হাসপাতালটি কীভাবে চলিতেছে তাহাই বিস্ময়! চিকিত্সকের অভাবে ব্যবস্থাপত্র প্রদান করিতেছেন সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিক্যাল কর্মকর্তা (এসএসসিএমও)। জানা গিয়াছে, সকাল ৮টার দিকে চিকিত্সকরা আসিয়া আঙুলের ছাপ দিয়া কাজে বাহির হইয়া যান। দুই-এক জন চিকিত্সক ওয়ার্ডে রাউন্ডে গেলেও বেশির ভাগ চিকিত্সক নানা বাহানায় বাইরের ক্লিনিকে সময় দেন। ইহা ছাড়া নাশতা, দুপুরের খাওয়া— এই সকল লইয়া দুপুর ১টার আগেই সকল চিকিত্সক হাসপাতাল ছাড়িয়া যান। চিকিত্সকদের এইরূপ অবহেলা কাম্য নহে।

ইহা কেবল একটি হাসপাতালের চিত্র নহে বরং সারাদেশে সরকারি হাসপাতালগুলির অবস্থা কমবেশি একই রকম। মফস্সল হাসপাতালগুলি বরাবরই চিকিত্সকসংকটে ভুগিয়া থাকে। ফলে সরকারকে বরাদ্দ নির্ধারণের পাশাপাশি সেই বরাদ্দ যেন সঠিকভাবে কাজে লাগে তাহা নিশ্চিত করিতে হইবে। হাসপাতালগুলির অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি সেবা প্রদানের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করিতে হইবে। অবকাঠামো নির্মিত হইল কিন্তু চিকিত্ক নাই, অথবা মেডিক্যাল সরঞ্জাম রহিয়াছে কিন্তু অপারেট করিবার কেহ নাই—এমন হইলে তার ফলাফল কী তাহা সংশ্লিষ্ট মহলকে ভাবিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
৩০ মে, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন