ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২ ফাল্গুন ১৪২৬
১৯ °সে

অগ্নিনির্বাপণ-সুবিধা বিস্তৃত করুন

অগ্নিনির্বাপণ-সুবিধা বিস্তৃত করুন

বত্সর শেষ হইয়া গেল। বহু ঘটনা-দুর্ঘটনার মধ্য দিয়া আমাদের জাতীয় জীবন পার হইয়াছে। উহার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বড়ো দুর্ঘটনা ছিল অগ্নিকাণ্ড। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত রিপোর্ট এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য হইতে জানা গিয়াছে, ২০১৯ সালে ছোটো-বড়ো মিলাইয়া সমগ্র দেশে মোট ২২ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়াছে। ইহার মধ্যে নিঃসন্দেহে উল্লেখ করিতে হয় পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় ওয়াহিদ ম্যানশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কথা। এই অগ্নিকাণ্ডে ৬৯ জন পুড়িয়া মারা যান। বত্সরের শেষে আসিয়া গাজীপুরের একটি অনুমোদনহীন ফ্যান কারখানায় ১০ শ্রমিক নিহত হন। ডিসেম্বরের ১১ তারিখ কেরানীগঞ্জের একটি প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন ২৩ জন । বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ে একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ দিতে হয় ১৯ জনকে। ইহা ছাড়াও বহু অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গিয়াছে, কোটি কোটি টাকার সম্পদ পুড়িয়াছে। নিঃসন্দেহে এতসংখ্যক অগ্নিকাণ্ড দুর্ভাগ্যজনক এবং অস্বাভাবিক। প্রশ্ন হইল, কেন এই অস্বাভাবিকসংখ্যক অগ্নিকাণ্ডের সম্মুখীন হইতে হইল?

ফায়ার সার্ভিস বলিয়াছে, আগুন লাগিবার উল্লেখযোগ্য কারণ প্রতিষ্ঠানে কর্তৃপক্ষের চরম অসচেতনতা, দায়িত্বহীনতা, সঠিকভাবে আইন না মানিয়া কারখানা প্রতিষ্ঠা করা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট ও গোলোযোগ, চুলার আগুন, রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া, উচ্ছৃঙ্খল জনতা কর্তৃক অগ্নিসংযোগ, উত্তপ্ত ছাই ও জ্বালানি, মাত্রাতিরিক্ত তাপ, বাজি পুড়ানো ইত্যাদি। ফায়ার সার্ভিস উদ্দেশ্যমূলক আগুন লাগানো উল্লেখ করিলেও আরো একটি কথা ভাঙিয়া বলে নাই। তাহা হইল, অনেক প্রতিষ্ঠানে ইনসিওরেন্স করিয়া পরে আগুন লাগাইয়া দেওয়া হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবার ভেল্যুয়েশন বেশি দেখাইয়াও আগুন লাগানো হয়। এইসব ক্ষেত্রে কখনো কখনো বিমা কোম্পানির কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত থাকেন বলিয়া জানা যায়।

অগ্নিকাণ্ডে অধিক ক্ষতি হইবার একটি বড়ো কারণ হইল সময়মতো ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাইতে না পারা। আমরা জানি, এখনো উপজেলা পর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন তৈরি করা হয় নাই বা যায় নাই। অথচ উপজেলাগুলিও ঘনবসতিপূর্ণ হইয়া উঠিতেছে, নানা ধরনের কারখানা, ফার্ম তৈরি হইতেছে। আবার বহু জায়গায় ফায়ার সার্ভিস প্রবেশের মতো অবস্থা থাকে না। হয় রাস্তা সরু, অথবা রাস্তাগুলির পরিস্থিতি এমন করিয়া রাখা হয় যে প্রবেশের সুযোগ থাকে না। দূর হইতে ফায়ার সার্ভিসের পাইপও নাগাল পায় না। সুতরাং ফি বত্সর আমরা ২২ হাজার অগ্নিকাণ্ড এবং শত শত মানুষের জীবনহানি দেখিতে চাহি না। কোটি কোটি টাকার সম্পদ পুড়িয়া যাওয়াও কাম্য নহে। সরকারকে ভাবিয়া দেখিতে হইবে, প্রতি উপজেলায় আপাতত সাধ্যমতো ফায়ার সার্ভিসের একটি করিয়া স্টেশন স্থাপন করা যায় কি না। একেকটি উপজেলায় এখন এতসংখ্যক মানুষ বাস করিতেছেন যে, অনেক দেশের অতসংখ্যক মানুষ নাই। সুতরাং এই বিপুল জনপদ অগ্নিনির্বাপণ-সুবিধা হইতে বঞ্চিত থাকিবে, তাহা হইতে পারে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন