ঢাকা বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৯ °সে

বাংলাদেশের বর্তমান পুষ্টি পরিস্থিতি

বাংলাদেশের বর্তমান পুষ্টি পরিস্থিতি

বাংলাদেশ পুষ্টির ক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করিতেছে। তবে সার্বিক পরিস্থিতি এখনো সন্তোষজনক নহে। আমরা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দিন দিন উন্নতি লাভ করিতেছি। কিন্তু পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণে কেন যে শতভাগ সাফল্য লাভ করিতে পারিতেছি না, তাহা একটি চিন্তার বিষয়। এই ক্ষেত্রে আমাদের উদাসীনতা ও অসচেতনতাও অনেকাংশে দায়ী। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসচির (ডব্লিউএফপি) ‘ফিল দ্য নিউট্রিশন গ্যাপ’ শীর্ষক এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, দেশের প্রতি তিন শিশুর একজন এখনো খর্বাকায়। স্বল্প ওজনের শিশু জন্ম নিতেছে প্রায় ২২ শতাংশ। ক্ষীণ স্বাস্থ্যের শিশু এখনো প্রায় ৮ শতাংশ। এখনো দেশের প্রতি আট পরিবারের একটি বা ১৩ শতাংশ পুষ্টিকর খাদ্য ক্রয় করিতে পারিতেছে না সামর্থ্যহীনতার কারণে। আমাদের দেশে দারিদ্র্যের হার এখন কমিয়া আসিতেছে। তাহার পরও সামর্থ্যহীনতার কারণে অনেকে পুষ্টিকর খাদ্য ক্রয় করিতে পারিতেছে না, কথাটা পুরাপুরি সত্য নহে। পুষ্টিকর খাদ্য সম্পর্কে যে অজ্ঞতা এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কুসংস্কার রহিয়াছে, তাহা দূর করা জরুরি। এই জন্য দারিদ্র্যকবলিত এলাকা ও পরিবারসমূহে কর্মসংস্থান তৈরি ও পুষ্টিসচেতনতার কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

গত কয়েক বত্সরে পুষ্টির ক্ষেত্রে আমরা উন্নতি করিয়াছি অবশ্যই, তবে তাহার গতি খুবই ধীর। এই ক্ষেত্রে বেশ কিছু জেলা এখনো পিছাইয়া আছে। এই সকল জেলায় অপুষ্টি, শিশুমৃত্যুহার ও শিশুদের খর্বকায় পরিস্থিতি বেশ নাজুক। এই সকল পরিবারকে আয়বর্ধক কাজে নিয়োজিত করিতে হইবে। ২০০৭ সালে দেশে পাঁচ বত্সরের কম বয়সি খর্বাকৃতির শিশু ছিল ৪৩ শতাংশ। ২০১৭-১৮ সালে তাহা কমিয়া ২২ শতাংশে নামিয়া আসিয়াছে। এই অগ্রগতি অনস্বীকার্য। তবে পুষ্টিকর খাদ্য সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সঠিক ধারণা দিতে পারিলে ইহা আরো কমিয়া আসিবে। অনেক সময় সমর্থ্যবানরাও কেবল না জানিবার কারণে অপুষ্টিকর খাবার প্রদান করিয়া থাকে তাহাদের শিশুদের। কেননা মাছ-মাংসসহ তথাকথিত ভালো ভালো খাবারই যে পুষ্টিসমৃদ্ধ হইবে তাহা নহে। ডাল, শিম কিংবা সাধারণ মৌসুমি শাকসবজিতেও পুষ্টিমান আশানুরূপ মাত্রায় থাকিতে পারে। প্রয়োজনীয় পুষ্টিসম্পন্ন হইতে হইলে খাবারে এনার্জি, প্রোটিন ও ফ্যাট ছাড়াও সকল ধরনের পুষ্টি উপাদান, বিশেষত নয় ধরনের ভিটামিন ও চার ধরনের মিনারেলের উপস্থিতি আবশ্যক। কিন্তু স্থানীয় খাদ্যাভ্যাসের কারণে দেশে ভাত ও অপর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদানসংবলিত খাদ্যের ওপর দেখা যাইতেছে অতিনির্ভরশীলতা। এখনো দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ৭৫ শতাংশের বেশি ক্যালরি আসে ভাত হইতে। একই সঙ্গে ৫৭ শতাংশ প্রোটিন, ৬২ শতাংশ জিংক ও ৪৫ শতাংশ আয়রনের জোগানদাতা ভাত। ভাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে জনগণের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতার হার ক্রমান্বয়ে বাড়িতেছে, যাহা বিভিন্ন রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী।

দেশে পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়ন করিতে হইলে ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলিতে কাজের আওতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক কার্যক্রমের পরিধি বাড়াইতে হইবে। এই ক্ষেত্রে বাড়াইতে হইবে সরকারি-বেসরকারি ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগ। বিশেষ করিয়া শিশু, গর্ভবতী মা, দুগ্ধপান করানো নারী, কন্যা শিশু, বয়ঃসন্ধিকালীন ছেলেমেয়ে ও বৃদ্ধদের পুষ্টির চাহিদার ব্যাপারে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করিতে হইবে। একটি সুস্থ জাতি উপহার দিতে হইলে দেশের মানুষের পুষ্টিহীনতা দূর করা অত্যাবশ্যক।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৩ জুন, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন