ঢাকা বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০, ৯ মাঘ ১৪২৭
১৯ °সে

কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন

কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন

বাংলাদেশে বর্তমানে রাস্তাঘাটের উন্নয়নের চাইতেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন নিঃসন্দেহে অর্থনৈতিক উন্নয়নেরই পূর্বশর্ত; কিন্তু আজকাল সাধারণ মানুষ প্রায়শ বলিয়া থাকেন, রাস্তাঘাট দিয়া আমরা কী করিব? তাহা কি খাওয়া যায়? একসময় মানুষ জনপ্রতিনিধিদের নিকট সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ইত্যাদিই দাবি করিত। এখন চাওয়া-পাওয়ার বদল হইয়াছে। এখন সবাই নিজের বা ছেলেমেয়েদের জন্য আগে চাকুরী চাহেন; কিন্তু চাকুরী এই দেশে যে সোনার হরিণে পরিণত হইয়াছে তাহা অনেকেরই অজানা নহে। সরকারি-বেসরকারি একেকটি নিয়োগ পরীক্ষায় যখন সামান্য কয়েকটি পদের বিপরীতে হাজার হাজার, এমনকি লক্ষ লক্ষ আবেদনপত্র জমা পড়ে এবং নিয়োগ বাণিজ্যের রেইট বা হার দিন দিন বাড়িতেই থাকে, তখন দেশের বেকার সমস্যার গভীরতা উপলব্ধি করিতে আমাদের বিশেষজ্ঞ হইবার প্রয়োজন পড়ে না।

দেশের তরুণ-তরুণীরা আজ একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করিতেছে। সুন্দর ভবিষ্যত্ বলিতে তাহারা সহজ কথায় যাহা বোঝে তাহা হইল একটি মানসম্মত চাকুরী; কিন্তু এই দেশে চাকুরী পাওয়ার পথ সহজ নহে, বরং কণ্টকাকীর্ণ। বিশেষ করিয়া উচ্চশিক্ষিত তরুণ সমাজের অনেকেই আজ বেকার। তাহাদের কেহ কেহ হতাশ হইয়া নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। কেহ কেহ অবৈধ পথে উন্নত দেশে পাড়ি দিতে গিয়া ভিটেমাটি বিক্রয় করিয়া সর্বস্বান্ত বা সলিল সমাধির শিকার হয়। উদ্যোক্তা হইবার কথা বলা হইলেও এই পথও ঝুঁকিপূর্ণ। পদে পদে আছে প্রতিবন্ধকতা। বাজেটে তরুণ বেকারদের সকল ধরনের ব্যবসায় উদ্যোগ (স্মার্টআপ) সৃষ্টির জন্য যে বরাদ্দ রাখা হইয়াছে তাহা মোট বেকারসংখ্যার তুলনায় একেবারে অপ্রতুল। এক জরিপে দেখা গিয়াছে, প্রতি বত্সর নূতন ২২ লক্ষ কর্মক্ষম মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করিতেছে; কিন্তু কাজ পাইতেছে তাহাদের মাত্র ৭ লক্ষ। প্রতি বত্সর এই যে নূতন ১৫ লক্ষ মানুষ বেকার থাকিতেছে, তাহারা যাইবে কোথায়? খোদ সরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসের গবেষণায় দেখা যায়, দেশে মাধ্যমিক হইতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী তরুণদের এক-তৃতীয়াংশ (৩৩ দশমিক ৩২ শতাংশ) পুরাপুরি বেকার। বাকিদের মধ্যে ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ সার্বক্ষণিক চাকুরীতে এবং ১৮ দশমিক ১ শতাংশ পার্টটাইম বা খণ্ডকালীন কাজে নিয়োজিত। কয়েক বত্সর আগে যুক্তরাজ্যের ইকোনমিক ইনটেলিজেন্স ইউনিটের এক জরিপে বলা হইয়াছিল যে, বিশ্বে বাংলাদেশেই শিক্ষিত বেকারের হার সর্বোচ্চ। এইসব তথ্য-উপাত্তে আমরা উদিবগ্ন না হইয়া পারি না।

কর্মক্ষম শক্তির আধিক্য তথা জনমিতির ডিভিডেন্ড বা সুফল কাজে লাগাইতে আমরা ইতিমধ্যেই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়াছি। অতএব, আজ মানুষের মুখে হাসি ফুটাইতে হইলে কর্মসংস্থানকে সকলক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হইবে। আমাদের দেশের অনেক কোম্পানি আজ দক্ষ ও উপযুক্ত জনশক্তির জন্য বিদেশের উপর নির্ভরশীল। আবার আমাদের যে কর্মশক্তি রপ্তানি হইতেছে তাহা অধিকাংশ ক্ষেত্রে অদক্ষ বা আধাদক্ষ প্রকৃতির। সুতরাং এই উভয় সংকটের মোকাবিলায় আমাদের শিক্ষাপদ্ধতি হইতে হইবে বাস্তবমুখী ও কর্মসংস্থান উপযোগী। গতানুগতিক শিক্ষার পরিবর্তে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, কারিগরি দক্ষতা ও ভাষাগত যোগাযোগে উত্কর্ষতা সাধনে অধিক মনোযোগী হইতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ জানুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন