ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৭ ফাল্গুন ১৪২৬
২৬ °সে

জেব্রাক্রসিংয়ের কোনো মানে নাই!

জেব্রাক্রসিংয়ের কোনো মানে নাই!

পথচারী রাস্তা পার হইবার জন্য রাস্তার মধ্যে আড়াআড়ি যে দাগ দেওয়া হয়, তাহাকেই বলে জেব্রাক্রসিং। জেব্রা নামক প্রাণীর গায়ের ডোরাকাটা দাগের মতো সাদা-কালো এই দাগ কাটা হয় বলিয়া ইহার নাম হইয়াছে জেব্রাক্রসিং। সাধারণত স্কুল, কলেজ, হাসপাতালসহ যেইখানে জনসমাগম ও চলাচল বেশি থাকে, সেইখানে মানুষ যাহাতে সহজে রাস্তা পারাপার হইতে পারে সেইজন্যই জেব্রাক্রসিং দেওয়া হয়। নিয়ম হইল জেব্রাক্রসিংয়ের সম্মুখে বিভিন্ন যানবাহন গতি কমাইয়া দিবে। সিগন্যাল অনুযায়ী বা মানুষের চলাচল দেখিলে দাগ বরাবর দাঁড়াইয়া যাইবে; কিন্তু রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন মেট্রোপলিটন শহরে এই নিয়ম মানা হইতেছে না। আবার সারাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জেব্রাক্রসিং মার্কিংয়ের প্রয়োজনীয়তা থাকিলেও তাহা বাস্তবায়ন করা হইতেছে না।

খবরে প্রকাশ, নারায়ণগঞ্জ শহরে যতগুলি জেব্রাক্রসিং রহিয়াছে, তাহা প্রকৃতপক্ষে কোনো কাজে আসিতেছে না। নগরের চাষাঢ়া চত্বর, পুরাতন কোর্ট মোড়, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব, ২ নম্বর রেলগেট ও ডিআইটি চত্বরের জেব্রাক্রসিংগুলিতে কোনো নির্দেশনা নাই। নাই কোনো সিগন্যাল বাতি। রং উঠিয়া অস্পষ্ট হইয়া গিয়াছে। এইখানে হাত দেখাইয়া রাস্তা পার হইতে হয়। গাড়িগুলি চলে নিজের ইচ্ছামতো। রাস্তায় কিছু আঁকিবুঁকি করিলেই শৃঙ্খলা ফিরিয়া আসিবে না। এখানে সিগন্যাল বাতির পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশও দরকার। নিয়ম করিবার পরই নিয়ম মানিবার প্রশ্ন আসে। জেব্রাক্রসিংগুলিতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ, সিগন্যাল বাতি ও জেব্রাক্রসিংগুলিকে দৃশ্যমান করিয়া পথচারীদের অভ্যস্ত করা গেলেই সুফল মিলিতে পারে। আবার অন্য দিকও আছে। রাস্তায় চলাচলকারীরাও এই জেব্রাক্রসিং অনুসরণ করেন না। তাহারা রাস্তার যে কোনো জায়গা দিয়া চলাচল করেন!

উন্নত ও সভ্য দেশে ফুটওভারব্রিজের চাইতেও জেব্রাক্রসিং অধিক কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী; কিন্তু নিয়ম না মানিবার কারণে আমাদের জেব্রাক্রসিংগুলির অবস্থা করুণ। অনেক সময় জেব্রাক্রসিংয়ের উপর গাড়ি থামাইয়া যাত্রী তোলে বাসচালকরা। মোটরসাইকেল চালকরা জেব্রাক্রসিং পার হইয়া গাড়ি থামায়। জেব্রাক্রসিং দিয়া রাস্তা পার হইবার সময় দুই বাসের পাল্লাপাল্লিতে প্রাণ হারান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের মেধাবী ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী। ইহাতে বুঝা যায়, আমাদের জেব্রাক্রসিংগুলি দিয়া পারাপারও নিরাপদ নহে। এইজন্য শুধু সাধারণ পথচারী ও চালকদের সচেতনতাই নহে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরাইয়া আনিতে নীতিনির্ধারকদের দুর্বলতাও দূর করা উচিত। জেব্রাক্রসিংয়ের উপর কেহ যানবাহন পার্কিং করিলে ট্রাফিক আইনে সাধারণত তাহাকে অবৈধ পার্কিং, প্রতিবন্ধকতা ও আদেশ অমান্যের মামলা দেওয়া হয়। সাম্প্রতিককালে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পর রাজধানীর জেব্রাক্রসিংগুলি নূতন করিয়া রং করা হয়। অনেক জায়গায় স্কাউটরা পথচারীদের জেব্রাক্রসিং ব্যবহারের অনুরোধ জানায়। ট্রাফিক পুলিশও মাঝেমধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালায়। এইরূপ শুভ উদ্যোগ ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন