ঢাকা রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬
১৯ °সে

যে ক্ষতি অর্থকড়িতে বিচার্য নহে

যে ক্ষতি অর্থকড়িতে বিচার্য নহে

আমরা প্রতিটি মানুষ জাগতিক জীবনকে নিরাপদ করিতে, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করিতে অর্থের পিছনে ছুটিয়া বেড়াইতেছি। আমাদের মধ্যে ধারণা প্রোথিত হইয়াছে, যাহার যত বেশি অর্থ তাহার জীবন তত সফল, তত সুখের। আর এই সফলতা ও সুখের সন্ধানে অর্থের পিছনে ছুটিয়া বেড়ানোই আমাদের একমাত্র পথ ও পাথেয়, একমাত্র জীবনদর্শন হইয়া দাঁড়াইয়াছে। ফলে যাহার নিকট অর্থ ধরা দেয় নাই সে জীবনখানি অর্থের পিছনে ‘শহিদ’ করিতে প্রস্তুত, আর যাহার নিকট অর্থ ধরা দিয়াছে সে তাহার অর্থসম্পদ আরো বাড়াইবার জন্য দ্বিগুণ গতিতে ছুটিতেছে। বিশ্বব্যাপী এই ব্যাধি ছড়াইয়া পড়িয়াছে মহামারি আকারে। সংক্রমিত হইতেছে শিশু-কিশোর, শিক্ষার্থীরাও।

অথচ অর্থসম্পদসর্বস্ব মানবসন্তানেরা দিব্যি ভুলিয়াছে যে, জীবনের জন্যই অর্থ, অর্থের জন্য জীবন নহে। এই মূল্যবান জীবনে যদি শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিল ব্যাধিই আসিয়া উপস্থিত হয়, জীবনটাকে রোগব্যাধি আসিয়া যদি ধরাশায়ীই করিয়া ফেলে, তাহা হইলে গোটা পৃথিবীর সম্পদও কোনো কাজে আসে না! সুতরাং আমাদের সকলকেই বুঝিতে হইবে, অর্থসম্পদের যেমন প্রয়োজন রহিয়াছে, তাহার চাইতেও বেশি প্রয়োজন সুস্থ শরীর ও সুস্থ পরিবেশের। আর এই সুস্থতা এমনিতে আসে না। ইহা চর্চা করিতে হয়।

বুধবার পরিবেশবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্রিন পিস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করিয়া জানাইয়াছে, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বত্সর সোয়া ১ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হইতেছে, যাহা দেশের জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ; কিন্তু তাহার চাইতেও একটি বড়ো খবর তাহারা দিয়াছেন যে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ৯৬ হাজার শিশুর অকালমৃত্যু হইয়াছে বায়ুদূষণজনিত রোগে! এই হিসাবের বাহিরেও আমরা অনুমান করিতে পারি, মানুষের যে ক্ষতি বায়ু ও পরিবেশদূষণের কারণে ঘটিতেছে, তাহা কোনো অর্থসম্পদের হিসাব দিয়া মূল্যায়িত করা যাইবে না। লক্ষ করিলেই দেখা যাইবে দেশের সরকারি-বেসরকারি মিলাইয়া হাজার হাজার রোগাক্রান্ত মানুষের ভিড়। কোনো হাসপাতালেই সহসা শয্যা পাওয়া যায় না। গ্রিন পিস জানাইয়াছে, বাংলাদেশে বত্সরে ৪০ লক্ষ মানুষ শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত হইয়া হাসপাতালে চিকিত্সা লইতে যায়। ১৬ কোটি মানুষের দেশে ৪০ লক্ষ মানুষের শ্বাসকষ্টে চিকিত্সা লইতে যাওয়া কি অস্বাভাবিক হুমকি নহে? বলা বাহুল্য, ইহার পিছনে বড়ো অবদান রাখিতেছে পরিবেশদূষণ।

কেন এই অবস্থা? দেশের নদীগুলি দখল ও দূষণে মৃতপ্রায়, বন উজাড় হইয়াছে যথেচ্ছ, গাড়ির কালো ধোঁয়া, যত্রতত্র পরিবেশপরিপন্থি ইটের ভাটা, লেক-নদী-পুকুর সর্বত্র প্লাস্টিক বর্জ্য, খাবারে অতিরিক্ত কেমিক্যালের ব্যবহার, এমনকি পোলট্রি বা লাইভস্টকে দূষিত ফিডিং। এই সবই ঘটিতেছে অতি মুনাফার আশায়। এই অবস্থা হইতে নিজেদেরই বাহির হইয়া আসিতে হইবে। কোনো সংগঠন, কোনো দেশ আসিয়া বাহির করিতে পারিবে না। আর এই বাহির হইয়া আসার প্রধান শর্ত হইল গোটা জাতির সচেতন হইয়া উঠা। সরকারেরও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি দেশবাসীকে সচেতন করিয়া তুলিবার একটি দায় গ্রহণ করিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন