ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬
৩১ °সে

রাজধানী যেন বায়ুদূষণের ভাগাড়

রাজধানী যেন বায়ুদূষণের ভাগাড়

বায়ুদূষণে বরাবরই শীর্ষে থাকিতেছে ঢাকা। বিশ্বের সবচাইতে দূষিত বায়ুর শহর হিসেবে যেই সকল নগরের নাম ২০১৯ সালে বারবার উচ্চারিত হইয়াছে, ঢাকা তাহার মধ্যে একটি। মাত্রাতিরিক্ত ধূলি রাজধানী ঢাকার দূষণের মাত্রা আরো বাড়াইয়াছে। ইটভাটা, যানবাহন, নির্মাণকাজ ও কলকারখানার ধোঁয়ার কারণেও বাড়িতেছে দূষণ। উল্লেখ্য, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘বৈশ্বিক বায়ু পরিস্থিতি ২০১৭’-এর প্রতিবেদনে বলা হইয়াছিল, ১৯৯০ হইতে ২০১৫ সালে বিশ্বে সবচাইতে বেশি দূষণ বাড়িয়াছে ভারত আর বাংলাদেশে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বায়ুুতে যেই সকল ক্ষতিকারক উপাদান থাকে, তাহার মধ্যে সবচাইতে মারাত্মক পিএম ২.৫। এই উপাদান নির্গমণকারী দেশসমূহের মধ্যে চীন ও ভারতের পরেই বাংলাদেশের অবস্থান। আমরা জানিয়া অবাক হইব না, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বৈশ্বিক বায়ুদূষণ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ারভিস্যুয়ালের দেওয়া তথ্যমতে, গত শনিবার বায়ুুদূষণে ১৭১ পয়েন্ট নিয়া ঢাকার অবস্থান ছিল ১ নম্বরে। দ্বিতীয় অবস্থানে ভারতের মুম্বাই। একই দিনে প্রকাশিত সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার এবং গ্রিনপিসের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া শাখার এক গবেষণায় বলিয়াছে, বাতাসে ২.৫ পিএম (পার্টিকুলেট ম্যাটার) আকারের ভারী কণার দূষণে ২০১৮ সালে বিশ্বে ৪৫ লক্ষ মানুষের অকালমৃত্যু হইয়াছে। তন্মধ্যে বাংলাদেশে মারা গিয়াছে ৯৬ হাজার মানুষ।

পরিবেশ অধিদপ্তরের দাবি, ঢাকার বায়ুদূষণের পিছনে চারিপাশের ইটভাটার দায় ৫৮ শতাংশ। ফলে ইটভাটার বিরুদ্ধে তাহারা কঠোর অবস্থানে থাকিলেও কেন বায়ুুদূষণ কমিতেছে না ইহার সদুত্তর নাই তাহাদের নিকট। কিন্তু স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকার প্রধান প্রধান এলাকায় ৪৬টি স্থানে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করিয়া তাহা উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলিয়া রাখার কারণে গত এক বত্সরে বায়ুদূষণের পরিমাণ ২০ শতাংশ বাড়িয়াছে। ৭ নভেম্বর হইতে ১৪ ফেব্রুয়ারি পরিচালিত এই গবেষণার ফল বলিতেছে, সরকারের এক সংস্থার সঙ্গে আরেক সংস্থার সমন্বয় না থাকায় যে যাহার মতন রাস্তা খুঁড়িতেছে। কোথাও ওয়াসা, কোথাও মেট্রোরেল, কোথাও বিআরটি, কোথাও ডেসকো খোঁড়াখুঁড়ি করিয়া উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলিয়া রাখিয়াছে। ফলে, ঢাকার বায়ুদূষণ কমিতেছে না। পরিবেশ অধিদপ্তর হইতেও দূষণ রোধে নাই জোরালো পদক্ষেপ। কাজের ধরন ও গুরুত্বভেদে সময়সীমা নির্ধারণ করিয়া দেয় সিটি করপোরেশন। তবে কোনো কাজের ক্ষেত্রেই একটানা ১৫ দিনের বেশি সময় প্রদানের বিধান নাই। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নয়নকর্ম সমাপ্ত করিতে পারে না অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান।

ঢাকায় বায়ুুদূষণের প্রভাব মানুষের উপর এমনভাবে পড়িতেছে যে সুস্থভাবে বাহির হইয়া দিন শেষে তাহারা ঘরে ফিরিতেছে অসুস্থ হইয়া। জনে জনে শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা। ফুসফুসের ক্যানসার, হাঁপানি, ব্রংকাইটিস, যক্ষ্মা, যকৃতের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, চর্মরোগ ও নিউমোনিয়ার মতো নানা রোগে আক্রান্ত হইতেছে। অসহায় বোধ করিতেছেন জনস্বাস্থ্যবিদেরা। রাজধানী ঢাকার ভয়াবহ বায়ুুদূষণের সবচাইতে বড়ো শিকার হইতেছে শিশুরা, বাধাপ্রাপ্ত হইতেছে তাহাদের বুদ্ধির বিকাশ। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির অবকাঠামো শক্তিশালী করিবার পাশাপাশি এই পরিস্থিতি হইতে উত্তরণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ ব্যতিরেকে আর কোনো বিকল্প আমাদের চোখে পড়িতেছে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৯ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন