ঢাকা শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬
৩৩ °সে

করোনায় বিশ্ব অর্থনীতি এবং আমরা

করোনায় বিশ্ব অর্থনীতি এবং আমরা

নোভেল করোনা ভাইরাস জীবনকে অর্থহীন করিয়া তুলিতেছে, অর্থকে রক্তশূন্য করিয়া তুলিতেছে। বিগত কয়েক দিনে ইউরোপের পর করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের নূতন কেন্দ্রস্থল হইয়া উঠিয়াছে যুক্তরাষ্ট্র। করোনা সারা বিশ্বে থাবা বসাইয়াছে বুলেট গতিতে। এমতাবস্থায় বিশ্বব্যাপী যে বিরাট অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হইয়াছে তাহা আমেরিকায় ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলা-পরবর্তী বা ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের পর অর্থবাজারে যেই নেতিবাচক প্রভাব পড়িয়াছিল—তাহার চাইতেও তীক্ষ। ধনী দেশগুলির জোট জি-টোয়েন্টির নীতিনির্ধারকরা মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও মনে করিয়াছিলেন—এই সংকট হইতে উত্তরণ অনেকটা রোমান হরফ ভি (V) অক্ষরের মতো হইবে, অর্থাত্ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হঠাত্ করিয়া এক ধাক্কায় ধসিয়া পড়িবে; কিন্তু তাহা দ্রুত আবার এক লাফে মাথা তুলিয়া দাঁড়াইবে; কিন্তু এই মুহূর্তে বিশ্বের অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করিতেছেন, সংকট উত্তরণ ভি-এর মতো নহে, বরং ইহা রোমান হরফ ইউ (U)-এর মতো হইবে। অর্থাত্ অর্থনীতির ধস নিচের তলায় থাকিবে বেশ লম্বা সময় ধরিয়া।

করোনা ভাইরাসের কারণে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং তাহার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড স্থগিত করিয়া দেওয়া ছাড়া এই ভাইরাসকে রুখিবার যেমন কোনো উপায় নাই, তেমনি তাহাই পরবর্তী সংকট, অর্থাত্ সম্ভাব্য বিশ্বব্যাপী মহামন্দার প্রধান কারণ। আমাদের আমদানির প্রধান উত্স চীন ও ভারত এবং রপ্তানির প্রধান প্রধান গন্তব্যস্থল ইউরোপ, কানাডা ও আমেরিকা করোনা ভাইরাসে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ইতালি ও স্পেনের অবস্থা খুবই খারাপ। খারাপের পথে রহিয়াছে ব্রিটেন, ফ্রান্স। অথচ এই সকল ইউরোপীয় দেশে রহিয়াছে অনেক বাংলাদেশি, যাহারা কোটি কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠান। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউনের কারণে আমাদের প্রধান রপ্তানিপণ্য তৈরি পোশাকের চাহিদা হ্রাসেও এই শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হইবে। অথচ বিগত তিন বত্সর ধরিয়া ধারাবাহিক ৭ শতাংশের অধিক হারে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হইতেছিল। এই ধারাবাহিকতায় ২০১৮-১৯ অর্থবত্সরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হইয়াছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। এই বত্সর প্রবৃদ্ধি আশা করা হইয়াছিল ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রধান চালিকাশক্তি হইল আমাদের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সহায়ক রাজস্ব ও মুদ্রানীতি। করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশের ক্ষতি জিডিপির ১ দশমিক ১ শতাংশ হইতে পারে বলিয়া জানাইয়াছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। কিছুদিন পূর্বে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা আঙ্কটাডের একটি প্রতিবেদন বলিতেছে, চীন হইতে যদি সমগ্র বিশ্বে কাঁচামাল রপ্তানি ২ শতাংশও কমিয়া যায়, তাহা হইলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষতি হইবে ৫০ বিলিয়ন ডলার। আর বাংলাদেশের ক্ষতি হইবে ১ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার। স্বাভাবিকভাবেই, করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহত্তর সহযোগিতা নিশ্চিত করিতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফের প্রতি অনুরোধ জানাইয়াছেন আমাদের অর্থমন্ত্রী। করোনার ক্ষতি হইতে পুনরুদ্ধারে প্রাথমিকভাবে চীন সুদের হার কমাইয়াছে। ইতিমধ্যে চীনের পথে হাঁটিতে শুরু করিয়াছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। আমাদের দেশেও শিল্পকারখানায় বিনিয়োগকারী ঋণগ্রহীতারা যাহাতে এই আসন্ন তীক্ষ মন্দার কবলে পড়িয়া মহাসংকটে না পড়েন, তাহার জন্য বিশ্বের বড়ো বড়ো দেশের পদাঙ্ক অনুসরণ করিয়া ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৩ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন