ঢাকা সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ২৩ চৈত্র ১৪২৬
৩৮ °সে

অন্যদের কী হইবে

অন্যদের কী হইবে

করোনা প্রতিরোধযুদ্ধে স্বাস্থ্যগত বিষয়ের বাহিরে গুরুত্বপূর্ণ দিক হইতেছে আর্থিক বিষয়। সকল কিছু বন্ধ হইয়া যাইবার পর আগামী মাসগুলিতে দেশের সিংহভাগ লোকের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিকে অবহেলা করা সমীচীন হইবে না। বিশ্ব জুড়িয়া বিভিন্ন দেশ, এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারতও তাহার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকদের জন্য যাহা করিয়াছে বা করিতেছে; বাংলাদেশে এখনো সেই রকম নমুনা দেখা যাইতেছে না। বাংলাদেশে শুধু রপ্তানিমুখী খাতে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিলের কথা বলা হইয়াছে। যাহার সিংহভাগই পোশাকশিল্পে যাইবে। তাহা হইলে অন্যদের কী হইবে। পোশাকশিল্পে নারী-পুরুষ মিলাইয়া প্রায় ৪০ লক্ষ লোকের কর্মসংস্থান রহিয়াছে। ভিজিএফ ভিজিডি সুবিধাভোগীদের কথা বলা হইয়াছে; কিন্তু বেশির ভাগ জনগোষ্ঠী এবং শিল্প খাতগুলির জন্য বিশেষ কোনো সহায়তার ঘোষণা আসে নাই। সরকারি চাকুরীরত, পোশাকশিল্প তথা রপ্তানি খাতে মোট জনসংখ্যার কত শতাংশই কাজ করে। তাহা হইলে বেশির ভাগ শিল্প খাত কিংবা বেশির ভাগ জনগোষ্ঠী করোনার প্রভাবে আর্থিক ঝুঁকির মধ্যে পড়িয়া গিয়াছে। এমন অনেক শিল্প খাত রহিয়াছে, যাহাদেরকে থ্রাস্ট সেক্টর ঘোষণা দেওয়া হইয়াছে। অনেক শিল্প রহিয়াছে যাহারা নানান ঘাতপ্রতিঘাত পার করিয়া হাঁটিতে শুরু করিয়াছে—সেই সকল খাতের জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ শোনা যাইতেছে না।

বাস্তবতা হইতেছে, যাহারা অসংগঠিত খাতে কাজ করে, স্বকর্মসংস্থানে জড়িত, বেসরকারি খাতের কর্মী—ইহারাই এখন বড়ো ধরনের অনিশ্চয়তায় রহিয়াছে। বেসরকারি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠানই সচল না থাকিলে তাহার কর্মীদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করিবে কীভাবে? বেতন না পাইলে বাড়িভাড়া, সংসার খরচ চালাইবার সামর্থ্য হারাইলে সেই সকল কর্মীর উত্পাদনশীলতা কি অক্ষুণ্ন থাকিবে? এমন নানা প্রশ্নের জবাব মিলিতেছে না। যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আনুপাতিক হারে মাসিক খরচের ব্যয় বাড়িতে পৌঁছাইয়া দিয়াছে। ভারতে ৮০ কোটি মানুষের জন্য সুরক্ষা কর্মসূচি ঘোষণা করিয়াছেন সেই দেশের অর্থমন্ত্রী। চলতি কর্মসূচির বাহিরে বিনা মূল্যে চাল-ডালসহ আর্থিক সুবিধা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হইয়াছে। ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজে বাদ যাননি কেহই। ক্ষেত্রবিশেষে অন্তর্ভুক্ত করা হইয়াছে বিমাসুবিধাও। জরুরি সেবার আওতায় যাহারা রহিয়াছেন তাহারাও সুবিধা পাইবেন; কিন্তু বাংলাদেশে বেশির ভাগ শিল্প, বেশির ভাগ জনসাধারণই উপেক্ষিত রহিয়া গিয়াছে। আমরা লক্ষ্য করিয়াছি, যাহাদেরকে বড়ো সুবিধা দেওয়া হইয়াছে তাহাদের আর্থিক সক্ষমতাও বেশি। তাহাদের অনেকের ব্যাপারেই রপ্তানির অর্থ সঠিকভাবে প্রত্যাবাসন না করার অভিযোগ রহিয়াছে। তাহাদের ‘বেগম’দের নামে ভিনদেশে ‘বেগমপল্লি’ রহিয়াছে। তাহার পরও তাহারাই সুবিধা পাইয়া আসিতেছে।

একটি মহামারি দেখা দিয়াছে। এই সময়ে সকলকে সমান চোখে দেখিতে হইবে। অর্থনীতির সকল খাতকেই সমান সুবিধা দিতে হইবে। কারণ, সকলেই সমানভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এই সময়ে সুদ হিসাব স্থগিত করিতে হইবে। আগামী এপ্রিল হইতে সিঙ্গেল ডিজিট সুদ চালুর ক্ষেত্রে সংশয় থাকিলেও বলিব—শুধু সিঙ্গেল ডিজিটে সমাধান নহে। সরল সুদও চালু করিতে হইবে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত নগদ সুবিধা দিতে হইবে। যেমনটি আমেরিকা কিংবা প্রতিবেশী দেশ করিতেছে। অনেক শিল্প কিংবা সেবা খাত রহিয়াছে যাহারা ‘গ্রোথ সেক্টর’ না হওয়ায় সরাসরি করোনার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তাই আমাদের আরজ, সকল শিল্পকে, সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কথা বিবেচনা করিয়া আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা হউক।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৬ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন