ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬
৩০ °সে

যুব ঋণ প্রসঙ্গ

যুব ঋণ প্রসঙ্গ

বাংলাদেশে বর্তমানে মোট জনসংখ্যার সিংহভাগই কর্মক্ষম তরুণ। একটি জাতির জীবনচক্রে এমন সময় কমই আসে। সেই পপুলেশন্স ডিভিডেন্ড বা জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সুবিধায় বিপুলসংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর কর্মহীন থাকা বাঞ্ছনীয় নহে। এই জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করিতে না পারিলে ব্যাপক উন্নয়ন করা অসম্ভব। উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লক্ষাধিক। তাই তরুণদের বেকারত্ব লইয়া সকলের পূর্বে চিন্তাভাবনা করা প্রয়োজন।

আশার খবর হইল, চলতি মুজিববর্ষে বর্তমান সরকার বেকার তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানে উদ্যোগ লইয়াছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে তরুণদের মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা ও আত্মকর্মসংস্থান বৃদ্ধি করিতে কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে বিনা জামানতে ও সহজ শর্তে ঋণসুবিধা আরো বাড়াইবার কথা বলা হয়। সেই ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে ইতিমধ্যে ২ লক্ষ বেকার যুবককে ৯ শতাংশ সরল সুদে ২০ হাজার হইতে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হইয়াছে। এই ঋণের নাম ‘বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ প্রকল্প’। পাঁচ বত্সর মেয়াদি এই ঋণের বিপরীতে কোনো জামানত দিতে হইবে না। তবে ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা রহিয়াছে এমন মা, বাবা, স্বামী, স্ত্রী বা তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে হইতে হইবে গ্যারান্টার বা জামিনদার। এই জন্য রাষ্ট্রমালিকানাধীন কর্মসংস্থান ব্যাংক ও যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মধ্যে সম্প্রতি এক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হইয়াছে। মোট ঋণের ৩০ শতাংশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পাইবেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর হইতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রার্থীরা। কমপক্ষে পঞ্চম শ্রেণি পাশ এবং ১৮ হইতে ৩৫ বিশেষ বিবেচনায় ৪০ বত্সর পর্যন্ত যে কেহ এই ঋণ পাইতে পারেন। ঋণের কিস্তি মাসিক, ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক বা বার্ষিক ভিত্তিতে পরিশোধের সুযোগ রহিয়াছে।

বঙ্গবন্ধু যুব ঋণের এই উদ্যোগকে আমরা সাধু্বাদ জানাই। বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট বা জনসংখ্যাতাত্ত্বিক সুবিধার সদ্ব্যবহারে ইহা সবিশেষ কাজে লাগিবে। মনে রাখিতে হইবে, এই সুবিধা তিন দশকের মতো সময় পাওয়া যাইবে। ইহার পর বয়স্ক মানুষের অনুপাত বাড়িবে এবং ইহা অর্থনীতির উপর বোঝা হইয়া দাঁড়াইবে, যাহা চীনের ক্ষেত্রে হইয়াছে। এই জন্য বয়সকাঠামোর সুবিধা পাইতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উত্পাদনশীলতা বাড়াইতে হইবে। তরুণদের বেকারত্বের অবসানে গ্রহণ করিতে হইবে আন্তরিক উদ্যোগ। এই ক্ষেত্রে আমাদের দুর্বলতা প্রথাগত শিক্ষা এবং কারিগরি ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব। একদিকে তরুণ-তরুণীদের বেকারত্ব বাড়িতেছে, অন্যদিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ চাকুরীতে বাড়িতেছে বিদেশিদের উপর নির্ভরতা। এই দুই সমস্যার সমাধানে এখন হইতে জোর দিতে হইবে মানসম্পন্ন শিক্ষার উপর। বিশেষত মানসম্মত জনসম্পদের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার গুণমানের দিকে নজর দিতে হইবে। কেননা বেকারদের মধ্যে ৭৪ শতাংশই তরুণ-তরুণী। ইহার পাশাপাশি তাহাদের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করিতে হইবে। উন্নত বিশ্বের মতো বেকারভাতা দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের এখনো আসে নাই, তবে ঋণ দিয়া আমরা তাহাদের আত্মকর্মসংস্থানের পথ সুপ্রশস্ত করিতে পারি। বঙ্গবন্ধু যুব ঋণ তরুণদের সেই আত্মকর্মসংস্থানের পথকেই প্রসারিত করিবে বলিয়া আমরা বিশ্বাস করি।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
icmab
facebook-recent-activity
prayer-time
০৭ এপ্রিল, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন