ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
৩৩ °সে

এই মৃত্যু গ্রহণযোগ্য নহে

এই মৃত্যু গ্রহণযোগ্য নহে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের মেধাবী ছাত্র সুমন চাকমা। তাহার জন্মস্থান খাগড়াছড়ি জেলার সদর উপজেলার আগালাশিংপাড়ার দাতকুপ্যা গ্রামে। পাহাড়ি জীবনের নানা ঘাতপ্রতিঘাত পার হইয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্বিত ছাত্র হইয়াছিলেন তিনি; কিন্তু সমগ্র দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে বিনা চিকিত্সায় তাহার মৃত্যু হইল। অসুস্থ অবস্থায় তাহাকে অন্তত রাজধানীর পাঁচ-ছয়টি হাসপাতালে নিয়া যাওয়া হয়। চিকিত্সাসেবা দেওয়ার জন্য শত অনুরোধ করা হয়; কিন্তু কেহ তাহাকে হাসপাতালে ভর্তি করিতে রাজি হন নাই। করোনার আতঙ্কে সবাই মুখ ফিরাইয়া নিয়াছেন। উপায়ান্তর না দেখিয়া ব্যর্থ মনোরথ হইয়া তাহাকে গ্রামের বাড়িতে ফিরাইয়া নেওয়া হয় এবং সেইখানেই তাহার মৃত্যু হয়। গত কয়েক দিন ধরিয়া দেশের হাসপাতালগুলিতে সাধারণ রোগীদের চিকিত্সা না পাওয়ার এমন ঘটনা অহরহ ঘটিতেছে। ইতোমধ্যে আরো কয়েক জন বিনা চিকিত্সায় মারা গিয়াছেন। তাহার পরও একশ্রেণির চিকিত্সকের বিবেক এবং মানবিক ও পেশাগত দায়িত্ববোধ জাগ্রত হইতেছে না।

সুমন চাকমা ফুসফুসে ক্যানসারে আক্রান্ত হইয়াছিলেন। চিকিত্সাধীন ছিলেন; কিন্তু সেই চিকিত্সা আর অব্যাহত রাখা গেল না। মানুষ মানুষের জন্য—এমন কথা আজ ভাবিবারও যেন সময় নাই। করোনা আমাদেরকে সাংঘাতিক স্বার্থপর ও নিষ্ঠুর করিয়া তুলিতেছে। কেহ করোনায় আক্রান্ত হইলেও তাহার সুচিকিত্সা পাওয়ার অধিকার আছে; কিন্তু একশ্রেণির চিকিত্সকের দায়িত্বে অবহেলা ও অহেতুক আতঙ্কের কারণে সাধারণ রোগের চিকিত্সাই মিলিতেছে না এই দুর্যোগকালে। গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে সুমনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর বিষয়টি উল্লেখ করিয়া বলিয়াছেন, ‘রোগী কেন ফেরত যাবে? রোগী দ্বারে দ্বারে ঘুরে কেন মারা যাবে?’—এই প্রশ্ন আমাদেরও। এইভাবে রোগীরা যেই সকল হাসপাতালে চিকিত্সা পাইবেন না, সেই সকল হাসপাতালের তালিকা তৈরি করিয়া কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হউক।

করোনার মতো দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা করা চিকিত্সক-নার্সদের জন্য যুদ্ধস্বরূপ, ইহাতে কোনো সন্দেহ নাই। এই যুদ্ধে জয়লাভ করিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করিয়াছেন যে, করোনা রোগীর চিকিত্সাসেবা দিতে গিয়া নিজেরা আক্রান্ত হইয়া মারা গেলে ডাক্তার ও নার্স পরিবারকে দেওয়া হইবে যথাক্রমে ১ কোটি ও ৫০ লক্ষ রুপি । তাহাদের শহিদ ও বীর হিসাবেও আখ্যায়িত করা হইবে।

করোনা ভাইরাসের চিকিত্সা দিতে গিয়া চীনে একটি হাসপাতালের প্রধান মারা গিয়াছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে মারা গিয়াছেন কয়েক জন প্রসিদ্ধ ডাক্তার। ইতালিতে ১০ ভাগ ডাক্তার আক্রান্ত হইয়াছেন। ব্রিটেনে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৩৫ হাজার অবসরপ্রাপ্ত চিকিত্সককে নূতন করিয়া কাজে যোগদান করিতে বলা হইয়াছে; কিন্তু কেহ চিকিত্সাসেবা না দিয়া পলায়ন করিয়াছেন, এমন খবর আমাদের জানা নাই। তবে করোনাসহ স্বাভাবিক চিকিত্সায় চিকিত্সক-নার্সদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করিতে হইলে তাহাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও সুরক্ষাব্যবস্থা অবশ্যই গ্রহণ করিতে হইবে। আশার কথা হইল, করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় যাহারা জীবন বাজি রাখিয়া কাজ করিবেন, প্রধানমন্ত্রী তাহাদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যবিমা প্রদানসহ নানাভাবে পুরস্কৃত করিবার ঘোষণা দিয়াছেন। সুতরাং চিকিত্সক সমাজ এবং এই পেশার সহিত জড়িত সবাইকে ভাবিতে হইবে, ইহা কেবল পেশাই নহে, মানব সেবার ব্রতও বটে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ মে, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন