ঢাকা মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
৩৩ °সে

করোনা, তারপর?

করোনা, তারপর?

করোনা-পরবর্তী বিশ্ব কেমন হইবে তাহা ভাবিতে যাইয়া আতঙ্কিত হইয়া পড়িতেছেন অর্থনীতিবিদেরা। চীনের অভিজ্ঞতা হইতে ইহা প্রমাণিত যে, লোকজনকে ঘরবন্দি করিয়া করোনার বিস্তার প্রশমন সম্ভব; কিন্তু প্রশ্ন হইতেছে—এই ঘরবন্দির, কারণে অর্থনীতির যে ক্ষতি হইতেছে তাহা সামনের দিনগুলিতে সামাল দেওয়া হইবে কেমন করিয়া? অবশ্য, এই যুক্তি দেখাইয়া এক্ষণে অর্থনীতিকে কোনোভাবেই বিজ্ঞানের মাথায় চড়িতে দেওয়া যাইবে না। তবে বাস্তবতা স্মরণে রাখিয়াই এখন হইতে প্রস্তুত হইতে হইবে। ক্ষতি সকল দেশের হইবে। তবে মুষ্টিমেয়র স্বার্থ না দেখিয়া যেই দেশ যত বেশি করিয়া সর্বজনের পক্ষে সিদ্ধান্ত লইতে পারিবে সেই দেশের ক্ষতির পরিমাণ তত কম হইবে। এই ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তটি নির্ভর করিবে রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রাজ্ঞ সিদ্ধান্তের উপরে। মোটা দাগের অর্থনীতির লাভ-ক্ষতির হিসাবে নয়, ইতিহাসের এই পর্বে রাজনীতিকে অর্থনীতির দিকনির্দেশনা দিতে হইবে।

করোনাজনিত কারণে কতগুলি বৈশ্বিক প্রবণতা লক্ষণীয়। গত ডিসেম্বর মাস হইতে বিশ্বের বৃহত্ শেয়ারবাজারগুলি অব্যাহতভাবে টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়া যাইতেছে। ইহার একটি মোটা দাগের অর্থ হইতেছে, সমগ্র পৃথিবীতে মিলিয়ন মিলিয়ন পেনশনভোগী ও সযত্ন সঞ্চয় হইতে বাজারে বিনিয়োগকারী সাধারণ মানুষের অবস্থা শোচনীয় হইয়া পড়া। এই দিকে, করোনার বিস্তার ঠেকাইতে শতাধিক দেশ ইতোমধ্যে ভ্রমণে-নিষেধাজ্ঞা আরোপ করিয়াছে। এই বাস্তবতা কেবল বিমান বা পর্যটনশিল্পে নহে, বরং আরো অসংখ্য খাতকে কাহিল করিয়া ফলাইতেছে। পরিস্থিতি বুঝিবার জন্য একটি উদাহরণ দেওয়া যাইতে পারে। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর হইতে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেবল চীন হইতে ৪ লক্ষ ১৫ হাজার ব্যক্তি ব্রিটেন সফর করেন। তাহারা ব্রিটেনে অবস্থানকালে গড়ে খরচ করিয়াছিলেন ১ হাজার ৬৮০ পাউন্ড বা প্রায় ৬ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা। করোনার কারণে এই অঙ্কটি যে ভয়াবহভাবে হ্রাস পাইবে তাহা বলাই বাহুল্য। তাহা হইলে সবগুলি দেশের হিসাব মাথায় লইলে পরিস্থিতি কোথায় যাইয়া দাঁড়াইবে? অল্প কিছু খাত বাদ দিলে, বিশ্ব জুড়িয়াই ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহত্ তথা সকল প্রকারের উদ্যোক্তাই ইতোমধ্যে দুর্ভোগ টের পাইতে শুরু করিয়াছেন। সর্বত্রই কেবল বাণিজ্য স্থগিত বা বাণিজ্য বন্ধের আওয়াজ। চীন সারা বিশ্বের মোট এক-তৃতীয়াংশ ম্যানুফ্যাকচারিং পণ্যের উত্পাদক এবং সর্ববৃহত্ পণ্য আমদানিকারক। করোনায় উভয় দিক হইতে চীন বড়ো ধরনের ক্ষতিতে পড়িয়াছে। এইদিকে, বিশ্ব জুড়িয়া জ্বালানি তৈলের দাম পড়িয়া যাইতেছে। আবার শিল্পোন্নত দেশগুলিতে উত্পাদন অনেকখানি কমিয়া যাইবার পূর্বাভাসও আসিতেছে। এই সকল প্রভাব বিশ্ব জুড়িয়া পড়িতে বাধ্য।

এইরকম আরো অনেকগুলি প্রবণতা উল্লেখ করা সম্ভব, যাহাদের প্রত্যেকটিই বিশ্ব অর্থনীতির ব্যাপার ভয়াল এক চিত্র প্রদর্শন করিতেছে। এহেন পরিস্থিতিতে সুদৃঢ়-বিচক্ষণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রীতি ব্যতীত পরিস্থিতি কোনোভাবেই সামাল দেওয়া যাইবে না। অমুকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা তমুকের বিরুদ্ধে অবরোধের সংস্কৃতি জারি রাখিয়া অতি শক্তিমান কোনো দেশও পার পাইবে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ মে, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন