ঢাকা শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৬ °সে

পবিত্র শবেবরাত:আসমানি ও জমিনি বালা দূর হউক

পবিত্র শবেবরাত:আসমানি ও জমিনি বালা দূর হউক

আজ দিবাগত রাত্রে সারা মুসলিম জাহানে পালিত হইতেছে সৌভাগ্যের রজনি পবিত্র শবেবরাত। মুসলমানদের নিকট ১৪ শাবান দিবাগত রাত্রিকে শবেবরাত বলা হয় । ফারসি শব্দ ‘শবেবরাত’ অর্থ ভাগ্যরজনি। আরবিতে ইহাকে বলা হয় ‘লাইলাতুল বারাআত’ বা মুক্তির রাত্রি। এই রাত্রে মানবসমাজ তথা বিশ্বের সকল মাখলুকের ভাগ্য নির্ধারণ করেন আল্লাহ তায়ালা। তিনি মানুষের জীবন-মৃত্যুর দিনক্ষণ নির্ধারণ ও রুজি-রোজগার বণ্টন করেন। বান্দার প্রতি নাজিল করেন অশেষ রহমত। বান্দার আকুতি ও আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেন। ক্ষমা প্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন এবং বিপদগ্রস্তদের দেখান উত্তরণের পথ। তাই এই ভাগ্য বা মুক্তির রজনি মুসলমানদের নিকট অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। হাদিস শরিফে এই রাত্রিকে বলা হইয়াছে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ অর্থাত্ মধ্যশাবানের রাত্রি। হজরত আল্লামা জালালুদ্দিন মহল্লির (রহ) মতে, ইহা আসলে লাইলাতুর রহমত বা করুণার রাত। কেননা, ইবনে মাজাহ শরিফের হাদিস অনুযায়ী চার পবিত্র রাত্রির অন্যতম এই রাত্রিতে আল্লাহর রহমতের দরজাসমূহ খুলিয়া দেওয়া হয়।

যেই নামেই অভিহিত করা হউক, শবেবরাত মুসলমানদের নিকট অত্যন্ত বরকতময় ও মহিমান্বিত। তাহা ছাড়া শাবান মাসের পরই রহমত, নাজাত ও মাগফিরাতের সওগাত নিয়া আসে মাহে রমজান। শবেবরাত মুসলমানদের সেই দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণের কথা স্মরণ করাইয়া দেয়। মহিমাময় এই রাত্রির রোশনাই লাভের জন্য মুসলমানগণ ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল হন। দিনের বেলা রোজা রাখেন এবং রাত্রে দীর্ঘ নামাজ আদায়সহ দোয়া-ইস্তেগফার, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকার করেন। এই রাত্রে মহানবি (স) জান্নাতুল বাকিতে গিয়া কবর জিয়ারত করিয়াছেন। তাই কেহ কেহ কবর জিয়ারতেও সময় দেন। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও গরিব-মিসকিনদের মধ্যে বিতরণ করেন খাদ্যসামগ্রী। সাধ্যমতো দান-খয়রাত করেন। কিন্তু এবার এমন এক সময়ে শবেবরাত আসিয়াছে, যখন সারা বিশ্বে চলিতেছে করোনা ভাইরাস নামক এক মহামারির তাণ্ডব। পৃথিবীর ছোটো-বড়ো, ধনী-গরিব বিভিন্ন দেশের মানুষ ইহাতে আক্রান্ত হইয়া ‘ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি’ করিতেছে। করোনা ভাইরাস যেন রোজ হাশরের ময়দানের চিত্র কিছুটা হইলেও ফুটিয়া তুলিয়াছে।

এমতাবস্থায় পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষ্যে নিজ নিজ বাসস্থানে দোয়া ও নামাজ আদায় করিবার আহ্বান জানাইয়াছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। ইহার আগে মসজিদে জুমা ও পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ সীমিত রাখিবার অনুরোধ করা হয়। করোনা ভাইরাস এমন রোগ, যাহা আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি ও সংস্পর্শ হইতে ছড়ায়, যাহার ঔষধ বা ভ্যাকসিন এখনো অনাবিষ্কৃত। এই জন্য এবার পবিত্র শবেবরাত ঘরে বসিয়াই পালন করা বাঞ্ছনীয়। কবর জিয়ারতে গেলেও সোশ্যাল ডিসট্যান্স বা সামাজিক দূরত্বের নীতি মানিয়া চলা আবশ্যক। বিশেষত বিদ্যমান লকডাউন পরিস্থিতিতে গরিব-দুঃখী, দিনমজুর ও মেহনতি মানুষকে খাবারদাবার ও টাকাপয়সা দিয়া যথাসম্ভব সাহায্য-সহযোগিতা করা জরুরি।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৯ মে, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন