ঢাকা বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
২৯ °সে

ভ্রাতৃত্ববোধ সার্থক হউক এই ঈদে

ভ্রাতৃত্ববোধ সার্থক হউক এই ঈদে

ঈদ মানে আনন্দ। তবে এইবার দেশে ঈদ আসিয়াছে ভিন্ন এক আবহে। ঈদের ছুটিতে ঢাকা ফাঁকা করিয়া গ্রামের বাড়ি বেড়াইতে যাইবার ব্যাপার নাই। দূরপাল্লার পরিবহন সেই ২৬ মার্চ হইতে বন্ধ। অনেকে ছোটো ছোটো যানবাহনে করিয়া পথ ভাঙিয়া ভাঙিয়া গ্রামের বাড়িতে যাইতে চাহিয়াছিলেন। করোনার কারণে যেইখানে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা আবশ্যিক শর্ত, সেইখানে কিছু কিছু ফেরিতে উপচাইয়া পড়া মানুষের ঢল নামিয়াছিল। এই কারণে সরকার সমস্ত ধরনের নৌযান বন্ধ করিয়া দিয়াছে। এমন অবরুদ্ধ ঈদ মানুষ কোনো দিনও দেখে নাই। কেবল বাংলাদেশ নহে, বিশ্বের সকল স্থানের মুসলমানদের জন্যই এইবারের ঈদ ভিন্ন মাত্রা আনিয়াছে। সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিপূর্বে করোনা ভাইরাসের জন্য ঈদের ছুটিতে পাঁচ দিন দেশব্যাপী পুরোটা সময় কারফিউ জারি করিয়াছে। বাংলাদেশে ঈদের ছুটির সময়ও কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য দেশের সকল পিসিআর ল্যাবরেটরিতে কাজ অব্যাহত থাকিবে। হাসপাতালগুলিতেও কোনো ঈদের ছুটি থাকিতেছে না। অন্যদিকে ছুটি বাড়ানো হইয়াছে অন্যান্য বেসরকারি অফিসে। এই ছুটির সময় ইত্তেফাকের প্রিন্টভার্শন বাহির না হইলেও বিশেষ ব্যবস্থায় অনলাইন চালু থাকিবে।

এইবারের ঈদের অপার আনন্দ আমরা যেন গরিবদের সহিত আরো বেশি করিয়া ভাগ করিয়া লই। যাহাদের দিন আনি দিন খাই অবস্থা, সরকারি-বেসরকারি বিবিধ সাহায্যের পরও তাহাদের বৃহত্ একটি অংশের ঈদ কাটিবে অত্যন্ত নিরানন্দে। বিশেষ করিয়া, দক্ষিণবঙ্গে গত বুধবার ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাত গরিবদের উপর আরো বেশি করিয়া আসিয়াছে। প্রকৃতপক্ষে, সকলের মধ্যে নিজেকে বিলাইয়া দেওয়ার মধ্যেই রহিয়াছে ঈদের প্রকৃত আনন্দ। ঈদের আগের এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা হয়। রোজার প্রধান লক্ষ্য ত্যাগ ও সংযম। ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ত্যাগের অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করিতে পারিলে তাহা হইবে সকলের জন্য কল্যাণকর। আমরা জানি, আইয়ামে জাহিলিয়াত তথা ইসলামপূর্ব অন্ধকার যুগে আরব দেশে উকাজ মেলাসহ নানা প্রকার উত্সব জনপ্রিয় ছিল। মহানবি হজরত মুহম্মদ (স.) মদিনায় হিজরত করিয়া বিভিন্ন লক্ষ্য-উদ্দেশ্যহীন আনন্দ-উত্সবের পরিবর্তে আত্মশুদ্ধির পবিত্র ও বহুবিধ মানবকল্যাণধর্মী ঈদুল ফিতরের প্রবর্তন করেন। সেই অনুযায়ী দ্বিতীয় হিজরির পহেলা শাওয়াল তথা ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ মার্চ প্রথম ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হয়। এই কারণে মুসলিম সমাজে এই ঈদুল ফিতরের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক গুরুত্ব অপরিসীম। ঈদুল ফিতরের শাব্দিক অর্থ রোজা ভঙ্গের আনন্দ। এক মাস রোজা পালন ও তারাবিহ-তাহাজ্জুদ নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ-তাহলিল, জাকাত-ফিতরা প্রদান প্রভৃতি ইবাদত-বন্দেগি করিবার ফলে রোজাদারের জীবন পুণ্যে পরিপূর্ণ হইয়া উঠে। লাইলাতুল কদর, জুমাতুল বিদা ও চাঁদরাতে তথা ঈদের রাত্রেও তিনি ইবাদতে নিয়োজিত থাকেন। এভাবে যখন ঈদের সকাল উপস্থিত হয়, তখন তিনি নবজন্ম লাভ করেন। তিনি পরিণত হন নিষ্পাপ ব্যক্তিতে।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে আমরা সকলের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি। হাসিখুশি ও ঈদের আনন্দে ভরিয়া উঠুক প্রতিটি প্রাণ। সবাইকে জানাই ঈদ মোবারক।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
০৩ জুন, ২০২০
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন