উত্তর কোরিয়া লইয়া নূতন উত্তাপ
২১ মার্চ, ২০১৭ ইং
উত্তর কোরিয়া লইয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নূতন করিয়া উত্তাপ ছড়াইতেছে গত কয়েকদিন ধরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের উত্তর কোরিয়াবিরোধী এক টুইট বার্তা হইতে ইহার সূচনা। পাল্টা জবাব হিসাবে উত্তর কোরিয়ার নূতন করিয়া পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার মধ্য দিয়া এই উত্তাপ এক্ষণে আশঙ্কাতে পরিণত হইয়াছে।

গত শুক্রবার কোনো ধরনের পূর্ব-সংকেত ব্যতিরেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, “উত্তর কোরিয়া অনেকদিন ধরিয়া খুব ন্যক্কারজনক আচরণ করিয়া চলিয়াছে।” দেশটি অনেকগুলি বত্সর ধরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সহিত “চালাকি” করিয়া চলিয়াছে বলিয়াও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁহার বক্তব্যের সময়টি লক্ষ করিবার মতো। সেক্রেটারি অফ স্টেট রেক্স টিলারসনের দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন সফরের প্রাক্কালে ট্রাম্প তাঁহার উত্তর কোরিয়া সম্পর্কিত এইবারের বক্তব্যটি হাজির করেন। ট্রাম্পের ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ কোরিয়াতে অবস্থানকালে টিলারসন জানান, উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের “কৌশলগত ধৈর্য ধারণের” সময় ফুরাইয়াছে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়া টিলারসন মূলত ওবামা আমলের উত্তর কোরিয়া নীতির সহিত নূতন প্রশাসনের দ্বিমতের বিষয়টি স্পষ্ট করিয়া দেন। টিলারসন আরো উল্লেখ করেন যে, পরমাণু কর্মসূচি হইতে সরিয়া না আসিলে, দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারটিও যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় বিবেচনার মধ্যে রহিয়াছে। যুক্তরাষ্ট্রের নূতন অবস্থানের ব্যাপারে চীন কী ধরনের অবস্থান গ্রহণ করে, তাহার উপরে অনেক কিছু নির্ভর করিবে বলিয়াও জানান টিলারসন। তাঁহার এই বক্তব্যের পরেই সর্বমহলের দৃষ্টি পূর্ব এশিয়ার দিকে ধাবিত হয়। বিশেষ করিয়া টিলারসনের এই বক্তব্যের ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ার প্রধান মিত্র চীন কী ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তাহাই প্রধান আগ্রহের বিষয় হইয়া দাঁড়ায়। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরিয়া জাতিসংঘের নানাবিধ অবরোধ ও যুক্তরাষ্ট্রের নানামুখী চাপের মধ্যে থাকিয়াও, চীনের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তার বরাতে উত্তর কোরিয়া কোনো প্রকারে টিকিয়া থাকিতেছে। চীন মাঝে-মধ্যে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নানা ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলিলেও পশ্চিমা বিশ্ব সেই সমস্ত তথ্যের সত্যতা লইয়া সর্বদাই সন্দেহ প্রকাশ করিয়া থাকে।

লক্ষণীয় বিষয় এই যে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সহিত টিলারসনের সাক্ষাত্কালে উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গ খুব একটা আলোচিত হয় নাই। উভয় নেতাকেই বরং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সুসম্পর্কের গুরুত্ব বিষয়ে রুটিনমাফিক কতগুলি কথাবার্তা বলিতে শোনা যায়। চীনের ব্যাপারে নিজ অপছন্দের ব্যাপারটি নির্বাচনের পূর্বে গোপন করেন নাই ট্রাম্প। ক্ষমতায় আসিবার পরেও তাইওয়ান, উত্তর চীন সমুদ্র, উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গে চীনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করিয়াছেন তিনি। উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গে এইবারও একই অবস্থান ব্যক্ত করিলেন ট্রাম্প। চীন এইসব কথাবার্তাকে ঠিক কোন্ পর্যায়ে গুরুত্ব প্রদান করিতেছে তাহা স্পষ্ট নহে। এইদিকে, টিলারসনের চীন অবস্থানকালেই নূতন করিয়া উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রকেট ইঞ্জিনের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করিবার ঘোষণা দিয়াছে উত্তর কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ হইতে “একটি বুলেট” ছোড়া হইলে তাহার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের উপরে পরমাণু হামলা চালাইবার হুমকি দিয়াছে দেশটি। দীর্ঘকাল ধরিয়া অব্যাহত চাপে থাকার কারণে দেশটির উপর স্নায়ুচাপ যেভাবে বাড়িতেছে তাহাতে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নিরুদ্বিগ্ন থাকাও সম্ভব নহে। এইসবের প্রতিক্রিয়ায় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনকে “দুর্ব্যবহারকারী” হিসাবে চিহ্নিত করিয়াছেন ট্রাম্প। দুইপক্ষের এহেন কথার লড়াই কোথায় যাইয়া ঠেকে তাহা লইয়া দুর্ভাবনায় পড়িয়াছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে কেহ কেহ মনে করিতেছেন যে, উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গ উত্থাপিত হইবার কারণে দেশের ভিতরে নানাবিধ কারণে নানামুখী সমালোচনার মধ্যে থাকা ট্রাম্প প্রশাসন কিছুটা হইলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলিতে পারিতেছে।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ মার্চ, ২০১৭ ইং
ফজর৪:৪৬
যোহর১২:০৬
আসর৪:২৯
মাগরিব৬:১৩
এশা৭:২৬
সূর্যোদয় - ৬:০২সূর্যাস্ত - ০৬:০৮
পড়ুন