ইন্টারনেটের মূল্য নির্ধারণে কস্ট মডেলিং
২১ এপ্রিল, ২০১৭ ইং
মুঠোফোনভিত্তিক ইন্টারনেটের মূল্য নির্ধারণে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ‘কস্ট মডেলিং’-এর যে সিদ্ধান্ত লইয়াছে তাহা অভিনন্দনযোগ্য। এতদিন মোবাইল ফোন অপরাটেরদের নির্ধারিত মূল্যেই গ্রাহকরা মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করিয়া আসিতেছিল। কিন্তু সেবাপ্রদানের খরচ, যথাযোগ্য মুনাফা, গ্রাহক সংখ্যা, সেবার মান ইত্যাদি অনুযায়ী মূল্য নির্ধারণের পদ্ধতি হইল কস্ট মডেলিং। অর্থাত্ গ্রাহক এবং সেবাপ্রদানকারী কোম্পানি উভয়ের জন্যই উহা হইবে যথাযথ একটি মূল্য। ২০০৮ সালে মুঠোফোনের মাধ্যমে ভয়েস কলের একটি কস্ট মডেলিং বিনামূল্যে করিয়া দিয়াছিল জাতিসংঘের টেলিযোগাযোগ সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ)। কিন্তু বাংলাদেশ এখন নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ, তাই এই দফার কস্ট মডেলিং সম্পন্ন করিতে অর্থব্যয় করিতে হইবে। সেইসূত্রে বিটিআরসি ইতোমধ্যে আইটিইউ হইতে একজন পরামর্শক নিয়োগ দিয়াছে।

বিটিআরসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছয় কোটি ৭২ লাখ। ইহার মধ্যে মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছয় কোটি ৩১ লাখ। অর্থাত্ শতকরা ৯৪ ভাগ ব্যবহারকারী মুঠোফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করিয়া থাকে। তাই সর্বাধিক ব্যবহারকারীর অধিকার রক্ষার স্বার্থে কস্ট মডেলিং-এর সম্পন্ন করার বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। সরকারের এই উদ্যোগকে মুঠোফোন অপারেটর কোম্পানিগুলি স্বাগত জানাইয়াছে। তবে তাহারা ইহাও বলিয়াছে, বর্তমানের চাহিতে মূল্য হ্রাস করা সম্ভব নহে। সেই অর্থে তাহাদের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। একদিকে তাহারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাইতেছে, অন্যদিকে তাহারা জানাইতেছে মূল্যহ্রাস সম্ভব নহে। যদি কস্ট মডেলিং অনুসারে তাহাদের মূল্য হ্রাস করিবার পরামর্শ আসে, তবে তাহারা কি তাহা অগ্রাহ্য করিবে? সেইরকম হইলে সরকারকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করিতে হইবে। কারণ কয়েকটি কোম্পানির অপ্রতিরোধ্য মুনাফার চাহিতে কোটি গ্রাহকের স্বার্থই সকল কিছুর ঊর্ধ্বে। মুঠোফোন কোম্পানিগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নাই। কর ফাঁকি হইতে শুরু করিয়া গ্রাহকের সহিত প্রতারণা, নানান কিছুই তাহারা করিয়া থাকে। ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তিনজন গ্রাহকের পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মুঠোফোনের অপারেটরকে সোমবার চার লক্ষ টাকা জরিমানা করিয়াছে। একজন অভিযোগকারীর অভিযোগ এইরূপ ছিল: বিগত ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি ঐ কোম্পানির ৯৮ টাকা রিচার্জে ২৮ দিনের মেয়াদে দেড় জিবি ইন্টারনেট সেবা পাইবার অফার গ্রহণ করেন। কিন্তু রিচার্জ করিবার পর তাহাকে দেওয়া হয় এক জিবি ইন্টারনেট। ঐ গ্রাহক কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে অভিযোগ দিলেও কোনো প্রতিকার না পাইয়া ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন। ইহার পর শুনানির ভিত্তিতে কোম্পানিটিকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। আইন অনুযায়ী জরিমানার ২৫ শতাংশ অভিযোগকারী পাইবেন।

মুঠোফোন কোম্পানিগুলির যথেচ্ছাচার লইয়া গ্রাহকদের অসন্তোষের বিপরীতে সরকারের নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপগুলি প্রয়োজনীয়। সরকার ইহাতে যেমন রাজস্ব লাভ করিতেছে, তেমনি গ্রাহকদের স্বার্থ কিছুটা রক্ষিত হইতেছে। বিজ্ঞাপনপ্রাপ্তির সুবাদে প্রথমদিকে এইসকল যথেচ্ছাচার লইয়া গণমাধ্যমগুলি তেমন রিপোর্ট প্রকাশ করিত না। কিন্তু আজকাল পরিস্থিতি কিছুটা বদলাইয়াছে। আমাদের জীবনের দৈনন্দিন যোগাযোগ ও নানান কাজে-কর্মে মুঠোফোন ব্যবহার করিতেই হইবে। তাহার জন্য জনগণ অর্থব্যয় করিতেও প্রস্তুত রহিয়াছেন। কিন্তু তাহার মধ্যে একটি শৃঙ্খলা থাকা প্রয়োজন। কস্ট মডেলিং মুঠোফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি শৃঙ্খলা আনয়ন করিবে, এই প্রত্যাশা।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২১ এপ্রিল, ২০১৭ ইং
ফজর৪:১৪
যোহর১১:৫৮
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২৫
এশা৭:৪১
সূর্যোদয় - ৫:৩৩সূর্যাস্ত - ০৬:২০
পড়ুন