ফাঁপা গাছের বিপদ
২০ মে, ২০১৭ ইং
রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গত সোমবার রাতের ঝড়ে ভাঙিয়া পড়িয়াছে প্রায় অর্ধশতাধিক গাছ। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে গাছ উপড়াইয়া পিকআপের ওপর পড়িলে তাহাতে আহত হন দুইজন। জানা যায়, রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, উদ্যান ও পার্কে ঝুঁকিপূর্ণ গাছের সংখ্যা কয়েক হাজার। শুধু ঝড়ের সময়ই নহে, শিকড় দুর্বল হইয়া যাইবার কারণে যে কোনো সময় ভাঙিয়া পড়িতে পারে এইসব গাছ। কোনো কোনো গাছ এতটাই পুরানো যে, এইসব গাছের গুঁড়ির অধিকাংশটাই ফাঁপা হইয়া গিয়াছে। ঢাকার রাস্তা ও ফুটপাতের ধারে থাকা গাছসমূহের শিকড়ের সহিত মাটির সংযোগ খুবই কম। ইট ও কংক্রিট দিয়া ঘিরিয়া এই সকল গাছকে বহুলাংশে বিচ্ছিন্ন করিয়া দেওয়া হইয়াছে মাটি হইতে। উপরন্তু উন্নয়নমূলক কাজে প্রায়শই কাটা পড়িয়া থাকে গাছের শিকড়, সরিয়া যায় গোড়ার মাটি, দুর্বল হইয়া পড়ে গাছের ভিত্তি। সম্প্রতি চন্দ্রিমা উদ্যানসংলগ্ন সড়কে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ ভাঙিয়া পড়িয়া নিহত হইয়াছে এক মোটর সাইকেল আরোহী। গত বত্সরের মার্চ মাসেও রাজধানীর ধানমন্ডিতে গাছচাপায় নিহত হইয়াছে এক চিত্রশিল্পী-চলচ্চিত্রকার। সুতরাং রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, উদ্যান ও পার্কের পুরাতন বা হেলিয়াপড়া গাছসমূহ চিহ্নিত করিয়া তাহা অপসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তবে দুর্ঘটনা এড়াইতে ঝুঁকিপূর্ণ গাছ কাটিয়া ফেলাই একমাত্র সমাধান নহে। পাশাপাশি সচেতন হইতে হইবে আরো কিছু ব্যাপারে। বিশেষ করিয়া গাছ লাগাইবার ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখিতে হইবে যেন জনবহুল স্থানে বট-অশ্বত্থ, কৃষ্ণচূড়া বা রাধাচূড়া জাতীয় গাছ লাগানো না হয়। কারণ এই সকল গাছের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করে না। এই ক্ষেত্রে ছাতিম, জারুল, নিম ও বকুলের মতো মাটির গভীরে শিকড় প্রবেশকারী গাছ লাগানোই অধিক যুক্তিযুক্ত। তাহা ছাড়া রাস্তার ধারে গাছ লাগাইতে হইলে দুইটি গাছের মধ্যে কমপক্ষে ১৫ ফুট দূরত্ব রাখিতে হইবে। গাছ পুঁতিবার গর্তটির ব্যাস হইবে অন্তত দেড় হইতে দুই ফুট এবং গভীরতা হইবে দুই ফুট। অন্যথায় গাছের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করিতে পারিবে না। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলিবার ব্যাপারেও সতর্ক হইতে হইবে। কেননা, আবর্জনার বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান বৃষ্টির পানির সহিত মিশিয়া তাহা গাছের শিকড়কে দুর্বল করিয়া দিতে পারে। উপরন্তু গাছের ডাল কাটিবার সময়ে অবলম্বন করিতে হইবে বিশেষ সতর্কতা। অন্যথায় বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাসের আক্রমণে গাছ নষ্ট হইবার আশঙ্কা থাকিয়া যায়। এই সকল বিষয় বিবেচনায় রাখিয়া যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমেই কেবল গাছ পড়াজনিত দুর্ঘটনা বহুলাংশে রোধ করা সম্ভবপর হইবে।

 

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ মে, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৯
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
পড়ুন