পার্বত্য চট্টগ্রামে পুষ্টি পরিস্থিতি
২০ মে, ২০১৭ ইং
পার্বত্য চট্টগ্রামে পুষ্টিহীনতা বাড়িয়াছে উদ্বেগজনকভাবে। দারিদ্র্য, শিক্ষার নিম্নহার, কুসংস্কার, খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টিজ্ঞানের অভাবে এখানকার বিশেষত নারী ও শিশুরা চরম পুষ্টিহীনতার শিকার। অধিকাংশ ক্ষেত্রে গর্ভবতী মায়েরা জন্ম দিতেছেন অপুষ্ট শিশু। এইসব শিশু খর্বাকৃতি, কম ওজন ও কম বুদ্ধিসম্পন্ন হইয়া বাড়িয়া উঠিতেছে। একটি বেসরকারি সংস্থার গবেষণায় দেখা যায়, অপুষ্টির কারণে এখানকার শূন্য হইতে ৫৯ মাসের ৩৯ শতাংশ শিশু খর্বাকৃতি, ২৪ হইতে ৫৯ মাসের ৫৩ শতাংশ শিশু বয়সের তুলনায় কমবুদ্ধিসম্পন্ন এবং শূন্য হইতে ২৩ মাস বয়সের ৪৩ শতাংশ শিশুর ওজন স্বাভাবিকের চাইতে কম। ইহার মূল কারণ দারিদ্র্য। আর গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি এই তিন পার্বত্য জেলায় ৬২ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ দরিদ্র। তন্মধ্যে অতিদরিদ্র ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ। দরিদ্রদের তালিকায় যেমন পাহাড়িরা রহিয়াছেন, তেমনি রহিয়াছেন বাঙালিরাও। বিশেষত দুর্গম এলাকায় বসবাসরত বম, লুসাই, থিয়াং, থুমী, চাক ও ম্রো উপজাতি গোষ্ঠীর লোকজন সবচাইতে বেশি পুষ্টিহীনতায় ভুগিতেছে। ইউনিসেফের পুষ্টি জরিপেও দেখা যায়, সারাদেশের মধ্যে তিন পার্বত্য জেলার অবস্থান সর্বনিম্নে।

তিন পার্বত্য এলাকায় পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাইতে হইলে পরিকল্পিত ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হইবে। সর্বপ্রথম তাহাদের শিক্ষার উন্নয়নের ওপর জোর দিতে হইবে। উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত হইলে তাহাদের জীবন-জীবিকায় গুণগতমানে পরিবর্তন আসিতে পারে। ইহার পাশাপাশি তাহাদের কর্মসংস্থানের বৈচিত্র্যের ওপর গুরুত্বারোপ করা প্রয়োজন। জানা যায়, এখানকার দরিদ্র লোকদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ জুমচাষ, ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশ কৃষি, ৯ শতাংশ বনজ সম্পদ আহরণ, ৭ শতাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসা ও অবশিষ্ট সরকারি-বেসরকারি চাকুরীর ওপর নির্ভরশীল। যদি ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবাখাতে তাহাদের পদচারণা বাড়ে, তাহা হইলে তাহাদের আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের সূচনা হইতে পারে, যাহা তাহাদের জীবন মানোন্নয়নে হইবে সহায়ক। তাহাদের পুষ্টির প্রধান উত্স নিজেদের উত্পাদিত চাউল, ভুট্টা, শাক-সবজি, মাংস, দুধ, ডিম এবং বাজার হইতে সংগৃহীত মত্স্য ও সামুদ্রিক খাবার। তবে সব মিলাইয়া পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালিসহ বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মধ্যে ৩০০ প্রকারের খাবারের (ফুড আইটেম) প্রচলন বিদ্যমান। তন্মধ্যে গর্ভাবস্থায় ৭১ ধরনের খাবার খাইতে নিষেধ করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইহা কুসংস্কার ছাড়া আর কিছু নহে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে পুষ্টির উন্নয়নে বিভিন্ন এনজিও, আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগ ও ইউনিসেফ কাজ করিয়া যাইতেছে। তাহার পরও কেন খুব বেশি অগ্রগতি হইতেছে না তাহা গভীরভাবে ভাবিয়া দেখিবার বিষয় বৈকি। আসলে এইসব কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ব্যাপক সাফল্য পাইতে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করিতে হইবে। এখনও অনেক পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর গোষ্ঠীগত বিশ্বাস এই যে, গর্ভবতী ও প্রসূতি মাকে আমিষসমৃদ্ধ খাবার দিলে মা ও শিশুর ক্ষতি হইবে। এই বদ্ধমূল তথা ভুল ধারণা ও বিশ্বাস দূর করিতে প্রচারাভিযানে সেইসব গোষ্ঠীর প্রভাবশালী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করিতে হইবে। দূর করিতে হইবে খাদ্যের ভেজাল যাহা এই অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে বেশি বলিয়া জানা যায়। তাহাছাড়া এই অঞ্চলে বত্সরের নির্দিষ্ট সময় (চৈত্র-বৈশাখ ও আশ্বিন-কার্তিকে) যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়, তাহা দূর করিতে প্রশাসনকে সচেষ্ট হইতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
২০ মে, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৪৯
যোহর১১:৫৫
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:৩৯
এশা৭:৫৯
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৪
পড়ুন