ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার জরুরি
১৮ জুলাই, ২০১৭ ইং
ঘটনা শুরু হইয়াছিল কেঁচো খুঁড়িতে গিয়া। শেষ অবধি পাওয়া গেল কেউটে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) সারাদেশের প্রায় ৩৬ সহস্রাধিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করিতে গিয়া সন্ধান পাইল অসংখ্য জাল সনদধারী শিক্ষক-কর্মচারীর। ডিআইএ-এর কর্মকর্তারা একটি জাতীয় দৈনিককে জানাইয়াছেন, অবস্থা এমন দাঁড়াইয়াছে যে, কোথাও তদন্তের জাল বিছাইলেই সেইখানে ধরা পড়িতেছে জাল সনদধারীরা। কেবল একাডেমিক সনদ নহে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন সনদ (এনটিআরসিএ), বিএড অথবা এমএড এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নট্রামসের কম্পিউটার শিক্ষা সনদের জাল কপিও মিলিতেছে তদন্তে। ইতোমধ্যে ভুয়া সনদধারী ৭০০ জনের নাম তালিকাভুক্ত করা হইয়াছে। তাহাদের একটি বড় অংশ এমপিওভুক্ত হইয়া বেতন-ভাতাও তুলিতেছে। ২০১৬ সাল হইতে শুরু হওয়া এই সনদ যাচাইয়ে ধরা পড়া ৫৫৬ অনিয়মকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাহাদের গৃহীত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত লইবার জন্য সুপারিশ করিয়াছিল ডিআইএ। যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এখন অবধি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে নাই। অভিযোগ আছে যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির একটি অসাধু চক্র জাল সনদধারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না লইবার কারণে জাল সনদধারীরা বত্সরের পর বত্সর চাকুরি করিয়া যাইতেছেন।

জাল সনদ দিয়া কোনো দুষ্টচক্র বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যেকোনো চাকুরি পাওয়া সম্ভব এবং ধরা পড়িলেও চাকুরি বহাল রাখাও সম্ভব—এমন একটি ধারণা জনসমাজে প্রতিষ্ঠিত হইলে তাহা সরকারের ভাবমূর্তির জন্য ভালো নহে। জাল সনদের খবর অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই জাতীয় সংবাদের অন্ত নাই। ইহা অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ ইহা মেধাকে অবমূল্যায়িত ও শঠতাকে মূল্যায়িত করিবার বার্তা দেয়। জাল সনদ নিয়া এইক্ষেত্রে আমরা একটি কৌতুক স্মরণ করিতে পারি। কথিত আছে, এক পান্থজন ঘোড়ার পিঠে চড়িয়া যাইতে যাইতে শুনিলেন, অত্রাঞ্চলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় আছে যেখানে টাকার বিনিময়ে ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হয়। পথিক টাকার বিনিময়ে সেই বিশ্ববিদ্যালয় হইতে একটি পিএইচডি ডিগ্রি গ্রহণ করিলেন। ডক্টরেট ডিগ্রি লইয়া ফিরিবার পথে তাহার মনে হইল, টাকা দিলেই যদি ডিগ্রি পাওয়া যায়, তাহা হইলে তিনি তো তাহার ঘোড়াটির জন্যও একটি ডিগ্রি কিনিয়া লইতে পারেন। পথিক আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়া টাকা দিয়া বলিলেন তাহার ঘোড়াটিকেও একটি পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করিতে। তখন কর্তৃপক্ষ দুঃখপ্রকাশ করিয়া জানাইলেন যে, তাহারা শুধু গাধাদেরই ডিগ্রি দেন, ঘোড়াদের নয়।

তবে কথিত গল্পের মতো এই দেশে এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে, তাহারা জাল সনদ প্রদান করিতে কোনো গাধা-ঘোড়া বাছবিচার করেন না। টাকা প্রদান করিলে তাহারা যে কাহাকেও সানন্দে সনদ প্রদান করেন। জানা গিয়াছে, জাল সনদের সিন্ডিকেট ভাঙিতে সমপ্রতি দুদকও মাঠে নামিয়াছে। শিক্ষামন্ত্রী অবশ্য বলিয়াছেন যে, দুর্ভাগ্যজনক হইলেও সত্য—কিছু ব্যক্তি জাল সনদসহ নানা অসাধু উপায়ে এই পেশায় ঢুকিয়া পড়িয়াছেন। তিনি মনে করেন, জাল সনদধারীদের কারণে পুরা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ কলুষিত হইতেছে। তাহাদের চিহ্নিত করিয়া ব্যবস্থা গ্রহণের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়াছেন, তাহার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। কারণ ইহার সহিত জড়িত ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের প্রশ্নও।

 

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৮ জুলাই, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৫৬
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৩
সূর্যোদয় - ৫:২১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন