ব্রিটেনে উদ্বেগজনক এসিড-হামলা
১৮ জুলাই, ২০১৭ ইং
ব্রিটেনে এসিড হামলার প্রবণতা মারাত্মক হইয়া উঠিয়াছে। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ৩৯টি সংস্থার হিসাব অনুসারে গত বত্সরের নভেম্বর হইতে চলতি বত্সরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত ব্রিটেনের এই দুই অঞ্চলে চার শতাধিক হামলায় এসিড অথবা অনুরূপ কোনো রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হইয়াছে। এই হামলাগুলির কোনোটি এককভাবে, আবার কোনোটি দলগতভাবে চালানো হইয়াছে। কতগুলি হামলা অপেক্ষাকৃত নির্জন স্থানে, আবার কতগুলি হামলা জনসাধারণ্যেই পরিচালিত হইয়াছে। এইসব হামলায় এসিডের এত কেন ব্যবহার হইতেছে তাহা লইয়া বিশেষজ্ঞ মহলে নানাবিধ মতামত দেখা যাইতেছে। তবে গত কিছু দিন ধরিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের তালিকা দেখিলে, এসিড হামলাগুলির বড় একটি অংশ যে মুসলিম সমপ্রদায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হইতেছে তাহা স্পষ্ট হইয়া উঠিতেছে। গত বৃহস্পতিবার পূর্ব লন্ডনের পাঁচটি স্থানে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী পরিচালিত হামলাগুলি হইতেও এই তথ্যের সত্যতা মিলিতেছে। আরো উদ্বেগের বিষয় হইল, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই ধরনের হামলায় বাঙালিদের সম্পৃক্ততারও অভিযোগ শোনা যাইতেছে।

ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় ব্রিটেনে এসিড ও অ্যামোনিয়াসহ কয়েকটি পদার্থ ক্রয় করিবার ক্ষেত্রে তেমন কোনো বিধি-নিষেধ নাই। এসিড হামলার শাস্তির বিধানও তেমন করিয়া সুনির্ধারিত নহে। এসিড হামলার পরে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে হামলাকারীর সংস্পর্শ ঘটে না বিধায় হামলাকারীর বিরুদ্ধে ডিএনএ প্রমাণও ব্যবহার সম্ভব হয় না। প্লাস্টিক কিংবা কাচের বোতলে কাহারও সন্দেহের উদ্রেক না করিয়াই এসিড বহন করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্ত কারণে ব্রিটেনের অনেক বিপথগামী ব্যক্তি কাহারো উপরে হামলা চালাইবার জন্য ছুরি কিংবা আগ্নেয়াস্ত্রের পরিবর্তে এসিড ব্যবহারের দিকে ঝুঁকিতেছে। এক্ষণে এসিড হামলা নিয়ন্ত্রণে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান চালু করিবার কথা ভাবিতে শুরু করিয়াছে ব্রিটিশ সরকার। ইহা ব্যতীত স্থানীয় পুলিশ ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের হাতে সম্ভাব্য হামলকারীদের নিরোধ করিবার জন্য বাড়তি কিছু ক্ষমতা প্রদানের ব্যাপারেও কথাবার্তা হইতেছে। উল্লেখ্য, বর্তমানে কাহারো ক্ষতি করিবার উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তি যদি এসিড বা এসিডজাতীয় পদার্থ বহন করে তাহা হইলে সর্বোচ্চ চার বত্সরের কারাদণ্ড হইতে পারে। এসিড হামলার কঠোর শাস্তির বিধান করিয়া নূতন একটি আইন হয়তো সহসাই পাওয়া যাইবে। কিন্তু নূতন আইন করিয়া ক্রমবর্ধমান বিদ্বেষবাদের হাত হইতে ব্রিটিশ সমাজ বা রাষ্ট্র রেহাই পাইবে কি?

এসিড-হামলায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের তালিকায় মুসলিমদের সংখ্যাধিক্য দেখিয়া বুঝিতে অসুবিধা হয় না যে  ব্রিটেন ভালো করিয়াই বিদ্বেষবাদের ফাঁদে আটকাইয়া পড়িয়াছে; এই বিদ্বেষবাদ কেবল রাজনীতি নহে বরং সামাজিক পরিসরেও ইহার করাল গ্রাস ক্রমশ বিস্তার লাভ করিতেছে। অশ্বেতাঙ্গ, অভিবাসী, অবৈধ অভিবাসী, মুসলিম—এভাবে একের পর ঘৃণিতের তালিকা বাড়িতেছে ব্রিটেনে। সন্ত্রাসী হামলাগুলিকে অজুহাত হিসাবে সামনে আনিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের উপরে হামলা ইদানীং নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হইতেছে। মসজিদ এবং মুসলিমদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাও ঘটিয়াছে একাধিক স্থানে। নিজেদেরকে সভ্যতার চূড়ান্ত মাপকাঠি হিসাবে দাবিকারী এই দেশটি, এতকিছুর পরেও নিজেকে লইয়া গর্ব করে কেমন করিয়া?

এই পাতার আরো খবর -
facebook-recent-activity
১৮ জুলাই, ২০১৭ ইং
ফজর৩:৫৬
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৩
সূর্যোদয় - ৫:২১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পড়ুন