ঢাকা বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১১ বৈশাখ ১৪২৬
৩১ °সে

সকল অস্থায়ী ব্রিজের অবসান হউক

সকল অস্থায়ী ব্রিজের অবসান হউক

সারাদেশে একের পর এক বেইলি ব্রিজ ভাঙিয়া পড়িবার সংবাদ প্রকাশিত হইতেছে। ইহা লইয়া আমরা বহুবার সম্পাদকীয় লিখিয়াছি। তবে যতদিন না প্রধানমন্ত্রীর কথামতো ব্যাপক ভিত্তিতে বেইলি ব্রিজের স্থলে স্থায়ী পাকা ব্রিজ নির্মিত না হইতেছে, ততদিন ইহা লইয়া আমাদের লিখিয়াই যাইতে হইবে বলিয়া প্রতীয়মান হইতেছে। বেইলি ব্রিজসংক্রান্ত সর্বশেষ যে খবরটি প্রকাশিত হইয়াছে তাহা অত্যন্ত মর্মান্তিক। সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৪০ টন রড বোঝাই একটি একটি ট্রাক বেইলি ব্রিজে উঠিবা মাত্রই তাহা ভাঙিয়া খাদে পড়িয়া যায়। ইহাতে ট্রাকের হেলপারসহ দুইজন নিহত হইয়াছেন। আহত হইয়াছেন আরও তিনজন। ইহা গত বৃহস্পতিবারের ঘটনা। যেখানে বেইলি ব্রিজের উপর দিয়া পাঁচ টনের বেশি মালামাল নেওয়া নিষিদ্ধ, সেখানে ৪০ টনের ট্রাক উঠিল কিভাবে? ইহা কি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় নহে?

বেইলি ব্রিজ একটি অস্থায়ী ব্রিজ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীর মাধ্যমে এই ধরনের ব্রিজের প্রচলন হয়। ইহার মডেল তৈরি করেন ব্রিটিশ কর্মকর্তা ডোনাল্ড বেইলি এবং তাহার নামেই এই ধরনের ব্রিজের নামকরণ করা হয়। যেহেতু ইহা অস্থায়ী ব্রিজ, তাই স্বাভাবিকভাবে ইহা ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী নহে। একে তো আমাদের অধিকাংশ বেইলি ব্রিজ মেয়াদোত্তীর্ণ ও বয়স ২৫-৩০ বত্সরের বেশি, তাহার উপর যদি একের পর এক মাত্রাতিরিক্ত মালবাহী ভারী যানবাহন চলিতেই থাকে, তাহা হইলে ব্রিজগুলি ভাঙিয়া পড়াটাই স্বাভাবিক। পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত আরেকটি সংবাদে বলা হইয়াছে যে, নোয়াখালীর সুবর্ণচর ও লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার সীমান্তবর্তী ও দুই জেলার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী যে বেইলি ব্রিজটি রহিয়াছে, তাহা যেকোনো সময় ভাঙিয়া পড়িতে পারে। কেননা ব্রিজটি দীর্ঘ এক যুগ ধরিয়া সংস্কার না করায় তাহা বর্তমানে পরিণত হইয়াছে মরণফাঁদে । সেতুটির উপরের স্টিল পাটাতনে মরিচা ধরিয়া বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হইয়াছে বড় বড় গর্ত। ফলে যানবাহন তো দূরের কথা, পায়ে হাঁটিয়া চলাও মুশকিল। যাহারা উপায়ন্তর না দেখিয়া এখনো এই ব্রিজ ব্যবহার করিতেছেন, তাহারা যেকোনো সময় সুনামগঞ্জের ঘটনার মতো যে সংবাদ শিরোনাম হইবেন না, তাহার কোনো নিশ্চয়তা নাই।

জানা মতে, আমাদের দেশে চার সহস্রাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ রহিয়াছে। এখন এইগুলি হয় দ্রুত সংস্কার করিতে হইবে, নতুবা নূতন পাকা ব্রিজ নির্মাণ করিতে হইবে। এইক্ষেত্রে সুবিধা হইল, আমাদের অধিকাংশ বেইলি ব্রিজ আরসিসি পিলারের উপর নির্মিত হইয়াছে। এইজন্য সেখানে পাকা ব্রিজ নির্মাণ করাই অধিক যুক্তিযুক্ত। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়নের মহাসড়কে থাকিবার কারণে এই ধরনের অস্থায়ী ব্রিজ আজ অপ্রাসঙ্গিক। তাহাছাড়া প্রধানমন্ত্রী নিজেই ইহার আগে বলিয়াছেন যে, দেশে আর বেইলি ব্রিজ থাকিবে না, তদস্থলে নির্মিত হইবে কংক্রটের স্থায়ী ব্রিজ। আমরা শীঘ্রই তাহার এই চাওয়া-পাওয়ার বাস্তবায়ন দেখিতে চাই। এই ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবশ্যই সক্রিয় ভূমিকা পালন করিতে হইবে। সাধারণত ইস্পাতের কাঠামোতে তৈরি করা বেইলি ব্রিজ নানা কারণে দুর্ঘটনাপ্রবণ। অতএব, বেইলি ব্রিজ, বাঁশের সাঁকোসহ সকল অস্থায়ী ব্রিজের অবসান হউক অবিলম্বে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন