ঢাকা বুধবার, ২২ মে ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩৫ °সে


মাধ্যমিকে ছেলেদের ঝরিয়া পড়িবার হার

মাধ্যমিকে ছেলেদের ঝরিয়া পড়িবার হার

এতদিন আমরা মেয়েদের স্কুল-কলেজ হইতে ঝরিয়া পড়িবার হার লইয়া সম্পাদকীয় লিখিয়াছি। এখন ছেলেদের ঝরিয়া পড়িবার হার লইয়াও যে লিখিতে হইবে তাহা ভাবিতে পারি নাই। মাধ্যমিক স্তরে মেয়েদের ঝরিয়া পড়িবার হার এখনও বেশি, ৪০.১৯%। তবে আশার কথা হইল, নানা পদক্ষেপ গ্রহণের পর তাহাদের ঝরিয়া পড়িবার হার এখন কমিতেছে। গত এক বত্সরে ইহা কমিয়াছে এক শতাংশেরও বেশি। কিন্তু ছেলেদের ঝরিয়া পড়িবার হার কেন বাড়িতেছে তাহা গভীর চিন্তার বিষয়। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ‘বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য-২০১৮’ নামে সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হইয়াছে, এখন মাধ্যমিকে ছেলেদের ঝরিয়া পড়িবার হার ৩৬.০১ শতাংশ। আগে ইহা ছিল ৩৩.৪৩ শতাংশ। অর্থাত্ গত এক বত্সরে তাহাদের ঝরিয়া পড়িবার হার বাড়িয়াছে আড়াই শতাংশের বেশি। তবে সার্বিকভাবে এই স্তরে ছাত্র-ছাত্রীদের ঝরিয়া পড়িবার হার ৩৭.৬২ শতাংশ।

মাধ্যমিকে ঝরিয়া পড়া বলিতে আমরা বুঝি এইসব শিক্ষার্থী দশম শ্রেণি শেষ করিবার আগেই স্কুল ত্যাগ করিয়া লেখাপড়া ছাড়িয়া দিতেছে। ইহা উদ্বেগজনক এই কারণে যে, একটি দেশ শিক্ষা-দীক্ষায় যতটা উন্নত হইবে, ততই সেই দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হইবে। বিশেষ করিয়া গ্রাজুয়েট বা ডিপ্লোমা পর্যন্ত সকল নাগরিকের পড়াশুনার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন যাহাতে তাহারা এই পর্যন্ত মানসম্মত শিক্ষা লাভ করিয়া দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাত্পর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করিতে পারে। আমরা নারীর স্বাস্থ্য রক্ষা ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের কথা চিন্তা করিয়া বাল্যবিবাহ রোধের প্রতি জোর দিতেছি। যদি ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার কাঙ্খিত স্তর পর্যন্ত লেখাপড়ায় ধরিয়া রাখা না যায়, তাহা হইলে বাল্যবিবাহের হারও বাড়িতে থাকিবে আশঙ্কাজনক হারে। মেয়েদের শিক্ষা হইতে ঝরিয়া পড়িবার মূল কারণ তাহাদের চলাফেরায় নিরাপত্তাহীনতা, বাল্যবিবাহ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশনের অভাব, সংসারের অভাব-অনটন ইত্যাদি। কিন্তু ছেলেদের ঝরিয়া পড়িবার কারণ কী? বিশেষজ্ঞরা বলিতেছেন, মাধ্যমিকে ছেলেদের ঝরিয়া পড়িবার কারণ অভিভাবকদের নিম্ন আয়, বাল্যবিবাহ ও দারিদ্র্য। এক নির্মম বাস্তবতায় তাহারা এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন কাজে যুক্ত হইয়া পড়ে। এই জীবিকায় প্রবেশই ছেলেদের ঝরিয়া পড়িবার মূল কারণ। কেহ কেহ হোটেল-কারখানায় কাজ নেয়, বাবা-মার সহিত তাঁত বোনে, চা-বাগানে কাজ করে, ধান কাটিবার মৌসুমে ধান কাটে ইত্যাদি।

মাধ্যমিকে ছেলেদের ঝরিয়া পড়িবার হার রোধ করিতে হইলে তাহাদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির সংখ্যা বাড়াইতে হইবে। শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যয় যথাসম্ভব কমাইতে হইবে। শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার এবং দেশ ও আত্মোন্ন্য়নের মূল হাতিয়ার। সুতরাং এইক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে বেশি ব্যয় করিতে হইবে-ইহাতে কোনো সন্দেহ নাই। যাহারা আর্থিকভাবে সক্ষম ও সচ্চ্ছল, তাহাদের নিকট হইতে বেশি ফি নেওয়া যাইতে পারে, তবে দরিদ্র ও অসচ্ছলদের অবশ্যই কম খরচে পড়াশুনার ব্যবস্থা করিতে হইবে। নতুবা শিক্ষার্থীদের ঝরিয়া পড়িবার হার বন্ধ হইবে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন