ঢাকা সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩০ °সে


বিমানবন্দর যখন মশাদের অভয়ারণ্য!

বিমানবন্দর যখন মশাদের অভয়ারণ্য!

খুব অতীতের কথা নহে। গত বত্সর ২০১৮ সালের ২৩ জুন রাত্রে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একঝাঁক মশা থামাইয়া দিয়াছিল কুয়ালালামপুর অভিমুখী মালয়েশিয়ান এয়ারলাইনসের একটি বিমানের উড্ডয়ন। বিমানটি যখন রানওয়ের দিকে অগ্রসর হইতেছিল, তখনই বিমানের ভিতরে থাকা যাত্রীরা মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হইয়া পড়েন। তখন দেড়শত যাত্রী লইয়া বিমানটি বাধ্য হইয়া বে এরিয়ায় ফিরিয়া আসে। একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই পরিস্থিতি আমাদের জাতি হিসাবে লজ্জা দেয়। বিদেশিদের নিকট দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়। অথচ সেইদিনের বিরূপ অভিজ্ঞতা হইতে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করিতে পারি নাই। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে বিমানবন্দরের ভিতর মশার উত্পাত ক্রমেই বাড়িয়া চলিয়াছে।

সর্বশেষ খবর হইল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মশা মারিতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের কেন নির্দেশ দেওয়া হইবে না, তাহা জানিতে চাহিয়া রুল জারি করিয়াছেন মহামান্য হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মশা নিধনে কর্তৃপক্ষের অবহেলা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হইবে না, রুলে তাহাও জানিতে চাওয়া হইয়াছে। সিভিল এভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যান ও সচিব, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিমানবন্দর সংলগ্ন ওয়ার্ড কমিশনারকে চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হইয়াছে। জনস্বার্থে একজন আইনজীবীর করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে এই রুল জারি করা হইয়াছে। গত কয়েক দিনে এই বিমানবন্দরটিতে মশার উত্পাত এতটাই বাড়িয়াছে যে, ঝাঁকে ঝাঁকে মশা আসিয়া ছাঁকিয়া ধরিতেছে যাত্রীদের। বিমানবন্দরের ভিআইপি ওয়েটিং রুম, বিমানে উঠিবার আগে বিশ্রামাগার, বোর্ডিং পাস কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, টয়লেট রুম, কাস্টমস এরিয়া, এয়ারপোর্ট এপিবিএন অপারেশন রুম সর্বত্র যেন মশার অভয়ারণ্য। মশার কামড়ে যারপরনাই বিরক্ত ও বিব্রত যাত্রী, কর্মকর্তা, কর্মচারী সবাই। যাহারা বিদেশ হইতে আসা প্রিয়জনদের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করিতেছেন, তাহাদের দুর্ভোগের সীমা নাই।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একজন উপ-পরিচালক সাংবাদিকদের জানাইয়াছেন যে, মশা নিধন করিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হইতেছে। বিমানবন্দর এলাকায় জলাশয়-জঙ্গল পরিষ্কার করানো হইয়াছে। নিয়মিত টার্মিনাল এলাকায় ফগার মেশিনে ছিটানো হইতেছে ঔষধ। কিন্তু সেই ঔষধে কি আদৌ মশা মরিতেছে? আবার বিমানবন্দরের ভিতরে শুধু ঔষধ স্প্রে করিলে চলিবে না, ইহার পূর্ব ও দক্ষিণ পার্শ্বে যে জলাশয় রহিয়াছে, সেখানকার মশার প্রজননক্ষেত্রও ধ্বংস করিতে হইবে। মশা নিধনে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করিতে হইবে। বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসারে প্রধান এই বিমানবন্দর দিয়া প্রতি বত্সর ৫০ লক্ষ যাত্রী আসা-যাওয়া করেন। তাহাদের মধ্যে ৪০ লক্ষই আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করেন। যেহেতু মশার কামড়ে মারাত্মক ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া জ্বর হইয়া থাকে, তাই দেশি-বিদেশি যাত্রীদের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়টিও এখানে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম কর্তব্য। তাই বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতা অপ্রত্যাশিত। তাহা ছাড়া বর্ষা মৌসুম আসিবার আগেই এবার রাজধানীতে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়াটা উদ্বেগজনক। এই ব্যাপারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এলাকাভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হইবে। উদ্যোগী হইতে হইবে দুই মেয়রকেও।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন