ঢাকা রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬
২৭ °সে

নিউজিল্যান্ডে হামলার তীব্র নিন্দা জানাই

নিউজিল্যান্ডে হামলার তীব্র নিন্দা জানাই

অত্যন্ত নৃশংস, ভয়াবহ ও জঘন্য হামলার ঘটনা ঘটিয়াছে নিউজিল্যান্ডে। এই সন্ত্রাসী হামলায় নিন্দা জানাইবার মতো উপযুক্ত ভাষা আমাদের জানা নাই। গতকাল নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে অবস্থিত আল নূর ও ইহার কাছাকাছি শহরতলি লিনউডের মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসল্লিদের ওপর উপর্যুপরি গুলি বর্ষণ করে একদল সন্ত্রাসী। ইহাতে শেষ খবর অনুযায়ী অন্তত অর্ধশত মুসল্লি নিহত হইয়াছেন। নিহতদের মধ্যে আছেন দুইজন বাংলাদেশি। ইহাছাড়া পাঁচ বাংলাদেশিসহ গুরুতর আহত হইয়াছেন ২০ জন এবং ঘটনার পর হইতেই কয়েকজন বাংলাদেশি নিখোঁজ রহিয়াছেন বলিয়া জানা যায়। সবচাইতে উদ্বেগের বিষয় হইল, এই হামলা হইতে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পাইয়াছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। আল নূর মসজিদটি হ্যাগলি ওভাল মাঠের কাছাকাছি হওয়ায় জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিকাংশ সদস্য অনুশীলন শেষে সেখানে নামাজ আদায়ের জন্য হাজির হইয়াছিলেন। এই হ্যাগলি ওভাল মাঠেই আজ শনিবার বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের তৃতীয় টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হইবার কথা ছিল যাহা এই ঘটনার পর বাতিল করা হইয়াছে। আমাদের ক্রিকেটাররা যখন মসজিদটিতে প্রবেশ করিতে যাইতেছিলেন, তখনই এই উন্মত্ত হামলা চালানো হয় এবং তাহারা তত্ক্ষণাত্ দৌড়ে নিজেদের বাসে উঠিয়া আল্লাহর রহমতে আত্মরক্ষা করিতে সক্ষম হন। এই বর্বরোচিত হামলায় যাহারা নিহত হইয়াছেন আমরা তাহাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করি। তাহাদের শোক-সন্তপ্ত পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা। একইসঙ্গে আমাদের জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়রা প্রাণে রক্ষা পাওয়ায় মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি।

নিউজিল্যান্ডে এই ন্যক্কারজনক হামলায় সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হইয়াছে। তাহাতে বোঝা যায়, হামলাকারীরা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ও ঠান্ডা মাথায় এই হত্যাকাণ্ড চালাইয়াছে। ভিডিওটিতে দেখা যায়, ভিডিও গেমের মতো একজন বন্দুকধারী মসজিদের প্রবেশকক্ষ হইতেই স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়া মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে বৃষ্টির মতো গুলি করিতে থাকে। মাথায় ভিডিও ক্যামেরা স্থাপন করিয়া লাইভ ফেসবুকের মাধ্যমে সে পুরা ঘটনাটি ভিডিও করিবার পূর্বপ্রস্তুতিও গ্রহণ করে। ইহার চাইতে বড় জঙ্গিপনা আর কী হইতে পারে! ইহার প্রধান হামলাকারী অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেনটন ট্যারেন্ট (২৮) যাহাতে বোঝা যায়, সন্ত্রাসীর আসলে কোনো দেশ নাই। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন তাহার ব্যাপারে বলিয়াছেন, হামলাকারী একজন কট্টর ডানপন্থি। সে অভিবাসীবিরোধী। তবে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্নের বক্তব্যে আমরা কিছুটা আশ্বস্ত হইতে পারি। তিনি বলিয়াছেন, ‘ নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলার জায়গা নাই। ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে নিউজিল্যান্ডের অভিবাসী সমপ্রদায়ের। নিউজিল্যান্ডেই তাহাদের বাড়ি। তাহারা আমাদের লোক’।

নিউজিল্যান্ডে এই ধরনের বন্দুক হামলার ঘটনা বিরল। ১৯৯০ সালে সাউথ আইল্যান্ডের আরামোয়ানা শহরে মানসিকভাবে অসুস্থ এক ব্যক্তি গুলি করিয়া ১৩ জনকে হত্যা করে। ইহার পর দেশটির অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কড়াকড়ি করা হয়। তবে গতকালের হামলায় প্রমাণিত হয়, পশ্চিমা বিশ্বে আজ বহুত্ববাদ নানা দিক দিয়াই হুমকির শিকার। এখানে অভিবাসনবিরোধী কট্টর ডানপন্থিরা দিন দিন মাথাচাড়া দিয়া উঠিতেছে। তাহারা অনেক দেশে সরকার পরিবর্তনেও কলকাঠি নাড়িতেছে। ২০০৯ সালে বিশ্বমন্দা শুরু হইবার পর এইসব দেশের স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে এই ধারণা তৈরি করা হয় যে, তাহাদের চাকুরীগুলি অন্য দেশের নাগরিকরা আসিয়া কাড়িয়া নিতেছে। অথচ বিশ্বায়নের ধারণা হইতে উত্পাদনের অন্যতম মিনস বা উপাদান হিসাবে শ্রমিকের দেশান্তরের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তবে মন্দাভাব দেখা না দিলে হয়ত এতটা খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হইত না। এমতাবস্থায় যেসব অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ ইউরোপ-আমেরিকায় শ্রমিক পাঠাইতেছে, তাহাদের নিরাপত্তাগত নানা দিক বিবেচনা করিয়া দেখিতে হইবে। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো দেশে বাংলাদেশি নাগরিকগণ যাহাতে না যান, সেই ব্যাপারেও এখন হইতে আমাদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন