ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬
২৫ °সে

শুভ জন্মদিন বাংলার অবিসংবাদিত প্রিয় নেতা

শুভ জন্মদিন বাংলার অবিসংবাদিত প্রিয় নেতা

দেশে দেশে নানান জাতির মুক্তির জন্য ক্ষণজন্মা কিছু মানুষ জন্মগ্রহণ করেন। যতদিন না তাহাদের জন্ম হয়, ততদিন অবধি সেই জাতিকে আবদ্ধ থাকিতে হয় পরাধীনতার নাগপাশে। আমাদের জন্যও তেমনইভাবে আজি হইতে ৯৯ বত্সর পূর্বে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নিয়াছিলেন এক ক্ষণজন্মা বিরল পুরুষ—জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মাত্র ৫৫ বত্সরের স্বল্পায়ু জীবনের প্রায় প্রতিটা মুহূর্তই তিনি ব্যয় করিয়াছেন বাংলার দুঃখী ভুখানাঙ্গা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। এইজন্য তাঁহাকে বারংবার কারাবরণ করিতে হইয়াছে। তাঁহাকে ফাঁসিকাষ্ঠে চড়াইবার ষড়যন্ত্রও হইয়াছে একাধিকবার। কিন্তু কোনো ভাবেই তাহাকে লক্ষ্যচ্যুত করা যায় নাই।

বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী ও বিভিন্ন সময় দেওয়া বক্তৃতার ভিতরে বাংলার মাটি ও মানুষের প্রতি অপার ভালোবাসার বিস্ময়কর স্ফূরণ দেখিতে পাওয়া যায়। ১৯৭০ সালে নভেম্বরে প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় হইল। রেসকোর্স ময়দানে ১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি তারিখে বঙ্গবন্ধু বলিলেন, ‘মহাপ্রলয়ে দক্ষিণ বাংলার ১০ লাখ লোক মারা গেল। লাখ লাখ লোক অসহায় অবস্থায় রইল। রিলিফ কাজের জন্য বিদেশ থেকে হেলিকপ্টার এসে কাজ করে গেল—অথচ ঢাকায় একখানা মাত্র সামরিক বাহিনীর হেলিকপ্টার ছাড়া পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আর কোনো হেলিকপ্টার আসলো না। আমরা এসব বেইনসাফির অবসান করব।’ বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানিদের বেইনসাফির অবসান ঘটাইবার সবচাইতে কালজয়ী দিকনির্দেশনা প্রদান করেন ৭ই মার্চের ভাষণে। অতঃপর প্রায় নয় মাসের প্রবল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ভিতর দিয়া বাংলাদেশ অর্জন করিল স্বাধীনতার লাল সূর্য। একদিকে বাংলাদেশ তখন যুদ্ধবিধ্বস্ত অন্যদিকে তত্কালীন বিশ্ব পরিস্থিতির বিবিধ সমীকরণে দেশ পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুকে যেন হারকিউলিসের শক্তি অর্জন করিয়া পরিশ্রম করিতে হইয়াছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩ সালে সিরাজগঞ্জে দেওয়া এক জনসভায় তিনি বলিয়াছেন, ‘শাসনতন্ত্রে লিখে দিয়েছি যে, কোনো দিন আর শোষকেরা বাংলার মানুষকে শোষণ করতে পারবে না ইনশা আল্লাহ।’ তবে অভাবী দেশে স্বভাবে নষ্ট কিছু মানুষের জন্য তিনি সময়ে সময়ে অসহায় বোধ করিয়াছেন। তিনি ৩ জানুয়ারি ১৯৭৩ সালে এক ভাষণে বলেন, ‘এখনো কিছুসংখ্যক লোক, এত রক্ত যাওয়ার পরেও যে সম্পদ আমি ভিক্ষা করে আনি, বাংলার গরিবকে দিয়ে পাঠাই, তার থেকে কিছু অংশ চুরি করে খায়। এদের জিহ্বা যে কত বড়, সে কথা কল্পনা করতে আমি শিহরিয়া উঠি।’ মানুষ কখনোই সম্পূর্ণভাবে সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে উঠিতে পারে না। বঙ্গবন্ধু আত্মসমালোচনা করিয়া ১৯৭৫ সালের ১৯ জুন বলিয়াছেন যে, ‘আমি ফেরেশতা নই, শয়তানও নই, আমি মানুষ, আমি ভুল করবই। আমি ভুল করলে আমার মনে থাকতে হবে, আই ক্যান রেকটিফাই মাইসেলফ।’

সর্বক্ষেত্রেই বঙ্গবন্ধুর সোনার তরীতে সাফল্যের সোনালি ফসল ফলে নাই বটে, কিন্তু তাহাতে বাঙালি জাতির জন্য তাহার ‘এক এবং অদ্বিতীয়’ অবদান খর্ব হয় নাই বিন্দুমাত্র। তিনি আমাদের আত্মপরিচয়ের জনক, তিনি আমাদের উপহার দিয়াছেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ‘পাসপোর্ট’। আমৃত্যু তিনি যেই সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখিয়াছেন, তাহার মূল কথা হইল—বাংলার দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানো; এবং দ্বিতীয়ত, স্বাধীন ও মর্যাদাবান জাতি হিসাবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করিয়া বাঁচা। বঙ্গবন্ধুর জন্যই বাংলাদেশ আজ একটি সমৃদ্ধ আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র। বঙ্গবন্ধুকে লইয়া শামসুর রাহমানের ‘ধন্য সেই পুরুষ’ কবিতার ছন্দ আমাদের আন্দোলিত করে—‘তোমার বুক ফুঁড়ে অহংকারের মতো / ফুটে আছে রক্তজবা, আর / আমরা সেই পুষপের দিকে চেয়ে থাকি, আমাদের /চোখের পলক পড়তে চায় না।’

শুভ জন্মদিন বাংলার অবিসংবাদিত প্রিয় নেতা।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন