ঢাকা সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬
২৪ °সে

উদ্যোক্তাবান্ধব অর্থমন্ত্রীর একটি সাধু উদ্যোগ

উদ্যোক্তাবান্ধব অর্থমন্ত্রীর একটি সাধু উদ্যোগ

সুদের ওপর দণ্ডসুদ কিংবা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ গণনার বিষয়টি কেবল বাংলাদেশেই রহিয়াছে। এই প্রক্রিয়ায় একজন উদ্যোক্তার উপর যে চাপ পড়ে, তাহা খেলাপি ঋণের হার বাড়াইতে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে, ব্যাংকিং খাতে আজ খেলাপি ঋণ ‘পাহাড়সম’ হইয়া দাঁড়াইয়াছে। ঋণ অবলোপন করিবার পরও খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমাইয়া আনা যাইতেছে না। একই সঙ্গে সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে আনিবার প্রচেষ্টাও খুব একটা ফলপ্রসূ হয় নাই। এমতাবস্থায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলিয়াছেন, এখন হইতে চক্রবৃদ্ধি নহে, ঋণের সুদ হিসাব হইবে সরল হারে। বিদ্যমান চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ হিসাব আগামী বাজেটের আগেই তুলিয়া দিবার ঘোষণাও দিয়াছেন অর্থমন্ত্রী। একই সাথে তিনি ব্যাংকের উদ্যোক্তা, পরিচালক, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করিয়া এ সংক্রান্ত কিছু দিকনির্দেশনাও প্রদান করিয়াছেন। বলিবার অপেক্ষা রাখে না যে, তাহার এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্তে উদ্যোক্তামাত্রই যারপরনাই খুশি হইবেন। এমন কঠিন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য তাহাকেই দরকার ছিল এবং অর্থমন্ত্রী হিসাবে তাহার নিযুক্তির বিষয়টিও যথাযথ ছিল বলিয়া আমরা আগেই বলিয়াছিলাম। এক্ষণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই এমন একজনকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদানের জন্য। সাথে সাথে অর্থমন্ত্রীরও প্রশংসা করিতে হয় যে, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংকিং খাতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিতেছেন। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমাইতে যুদ্ধ ঘোষণা করিয়াছেন তিনি। ব্যাংকে ব্যাংকে বিশেষ নিরীক্ষা চালু করিবার সিদ্ধান্তও তিনি লইয়াছেন। ইহা অনুধাবনযোগ্য যে, ব্যাংকের ‘স্বাস্থ্য’ ভালো থাকিলে অর্থনীতি ভালো থাকিবে। গতি থাকিবে শেয়ার বাজারে। যাহার ইতিবাচক প্রভাব পড়িবে কর্মসংস্থানে।

ইহা সর্বজনস্বীকৃত যে, বাংলাদেশে উদ্যোক্তারা নানান সমস্যায় নিপতিত। জ্বালানি তথা গ্যাস— বিদ্যুতের সংকটে মিলকারখানা সক্ষমতা অনুযায়ী চালু রাখা যায় না। ব্যাংকের অর্থায়নে কোনো প্রকল্প নিলে সময়মতো অবকাঠামো সুবিধা না মিলায় কারখানা চালু করা দুরূহ হইয়া পড়ে। অথচ নির্দিষ্ট সময়ের পর হইতে উদ্যোক্তার সুদসহ ঋণের কিস্তি পরিশোধের সিডিউল চালু হইয়া যায়। এই ধরনের নানান কারণে উদ্যোক্তারা খেলাপি হইয়া পড়িলে ইহার দায় কিন্তু উদ্যোক্তার ঘাড়েই আসিয়া পড়ে। অথচ ইহাতে তাহার করণীয় কিছুই ছিল না। এই ধরনের অনিচ্ছাকৃত খেলাপিরা যখন কিস্তি দিতে ব্যর্থ হন, তখন দণ্ডসুদ আরোপ করিয়া তাহাকে আরও চাপে ফেলিয়া দেওয়া হয়। প্রকারান্তরে, যাহারা ইচ্ছাকৃতভাবে খেলাপি হন, কথিত আছে তাহারা অনেক কিছুই ‘ম্যানেজ’ করিতে সক্ষম হন। তাহাদের বড় অঙ্কের সুদও মওকুফ করিয়া দেওয়া হয়—যাহা উদ্যোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষেরও জন্ম দিয়াছে।

অর্থমন্ত্রী আর্থিক খাতের ত্রুটিবিচ্যুতি দূর করিবার মহাপরিকল্পনাও গ্রহণ করিয়াছেন। তিনি বলিয়াছেন যে, কোনো প্রতিষ্ঠানে একাধিক মালিক থাকিলে এবং একজন যদি ঋণখেলাপি হন, তাহাদের পুরা প্রতিষ্ঠান সেই কারণে বন্ধ করিয়া দেওয়া হয়। একইভাবে গ্রুপ অফ কোম্পানির একটি প্রতিষ্ঠান খারাপ হইলে সবগুলি বন্ধ করিতে হইবে—ইহা সঠিক নহে। বলিয়া রাখা ভালো যে, তাহার এই অনুধাবন না হইলে কাহার হইবে। তিনি তো শিল্পপতি ছিলেন। উদ্যোক্তাদের দুঃখকষ্ট তিনিই ভালো বুঝিবেন। এই সাধু উদ্যোগের জন্য উদ্যোক্তাবান্ধব অর্থমন্ত্রীকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন