ঢাকা রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৯, ৮ বৈশাখ ১৪২৬
৩৫ °সে

কিসের আলামত?

কিসের আলামত?

পার্বত্য চট্টগ্রাম আবার অশান্ত হইয়া পড়িয়াছে। আঞ্চলিক বাহিনীগুলির আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও অন্তর্কোন্দলকে কেন্দ্র করিয়া অতীতে এই অঞ্চলে বহুবার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়াছে। কিন্তু এইবার উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করিয়া গত সোমবার যে হত্যাযজ্ঞ চালানো হইল, তাহা আগের ঘটনা হইতে কিছুটা হইলেও ব্যতিক্রম। এইদিন রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, আনসার-ভিডিপির সদস্যসহ আটজন নিহত হইয়াছেন। নির্বাচনের দায়িত্ব পালন শেষে উপজেলা সদরে ফেরার পথে নয়কিলো নামক স্থানে তাহাদের বহনকারী গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় আরো অন্তত ১৬ জন গুলিবিদ্ধ হইয়াছেন যাহাদের অনেকের অবস্থা এখনো আশঙ্কাজনক। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী এই ঘটনার একদিন পর একই জেলার বিলাইছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে গুলি করিয়া হত্যা করা হইয়াছে। উপজেলা নির্বাচনী কার্যক্রম শেষ করিয়া তিনি যখন নিজ এলাকায় ফিরিতেছিলেন, তখন এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। বাঘাইছড়ির ঘটনার সহিত ইহার সাদৃশ্য আছে এবং একই দুর্বৃত্ত গোষ্ঠী এই হামলা চালাইয়াছে বলিয়া ধারণা করা হইতেছে। আমরা এইসব হামলার নিন্দা জানাই।

এবার উপজেলা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়াছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি তথা জেএসএস (সন্তু লারমা)। একইভাবে নির্বাচন বর্জন করে ইউপিডিএফ গোষ্ঠী। তবে নির্বাচনে অংশ নেয় জেএসএস (সংস্কার)। এখানে জেএসএস (সন্তু) ও ইউপিডিএফ পরস্পর প্রতিপক্ষ হইলেও তাহারা ঐক্যবদ্ধ হইয়া নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালাইয়াছে বলিয়া দাবি করা হইতেছে। যে এলাকায় এই হামলা চালানো হইয়াছে তাহা ইউপিডিএফ অধ্যুষিত। ইহাতে বোঝা যায়, একাট্টা হইয়াছে এই দুই সশস্ত্র গ্রুপ। ইহা বড় চিন্তা ও উদ্বেগের বিষয়। এক পরিসংখ্যান হইতে জানা যায়, গত তিন মাসে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে দুইটি জোড়াখুনসহ ২০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটিয়াছে। আর পার্বত্য শান্তি চুক্তির পর এই যাবত্ হত্যা করা হইয়াছে কয়েকশত মানুষকে। কিন্তু দুঃখজনক হইলেও সত্য যে, একটি ঘটনারও কোনো বিচার হয় নাই। পাহাড়ে ভৌগোলিক অবস্থার কারণে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা কঠিন। পার্বত্য অঞ্চলের সীমান্তে ভারত ও মিয়ানমারের সহিত আমাদের ৪৪ কিলোমিটারের সীমান্ত রহিয়াছে অরক্ষিত। বিশাল সীমান্ত এলাকায় পাহারায় নাই কোনো পর্যবেক্ষণ পোস্ট, নাই টহল দেওয়ার মতো পায়ে হাঁটিবার পথও। সেখানে সীমান্ত দিয়া দেদারসে অবৈধ অস্ত্র আসিতেছে। এমন সব অস্ত্র আসিতেছে যাহা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যের হাতেও নাই। তাই সীমান্তে কাঁটাতার, রাস্তাঘাট ও পর্যবেক্ষণ পোস্ট তৈরি করিতে হইবে। মাদকসহ অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালান বন্ধ করিতে হইবে।

শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম নহে, নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এইবার দেখা গিয়াছে। এখানে দেখা যাইতেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরকারি দলের লোক বা সরকার সমর্থক গোষ্ঠী বেশি সহিংসতার শিকার হইতেছেন। ইহা কিসের আলামত? একজন নির্বাচন কমিশনার ইতোমধ্যে বলিয়াছেন যে, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ৪৮ বত্সরের ইতিহাসে বাঘাইছড়ির ঘটনাই সবচাইতে মর্মান্তিক ও শোকাবহ। আমরা জানি, কোনো দেশে নির্বাচনী ব্যবস্থার সঠিক অনুশীলন না থাকিলে তথা নির্বাচন লইয়া সংশয় ও আস্থার সংকট থাকিলে সেইখানে উগ্রপন্থা বৃদ্ধি পাইতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনা কি তাহারই ইঙ্গিতবহ? ইহা প্রতিরোধে যে ভেন্টিলেশন দরকার, সেই ব্যাপারে আমরা কি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করিতেছি?

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন