ঢাকা শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ৬ বৈশাখ ১৪২৬
৩৫ °সে

রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে এই উদাসীনতা কাম্য নহে

রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে এই উদাসীনতা কাম্য নহে

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চলন্ত লিফট হঠাত্ আটকাইয়া যাইতেছে, ঘটিতেছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। গত ১৭ মার্চ ইত্তেফাকে প্রকাশিত এই সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয় যে, বেসরকারি ভবনের পাশাপাশি সরকারি ভবনগুলিতেও লক্কড়-ঝক্কড় লিফট আটকাইয়া যাইতেছে প্রায়শই। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি লিফট পরিচালনার জন্য একজন লিফট অপারেটর থাকিবার কথা থাকিলেও তাহার দেখা মেলে না অধিকাংশ ভবনে। ঢাকা মহানগর দায়রা ও জেলা জজ আদালতের ছয়তলা ভবনের পাঁচতলা হইতে গত ৭ মার্চ লিফট ছিঁড়িয়া নিচে পড়িয়া আহত হন ১০ জন। জজ আদালত ভবনের ওই লিফটটি ছিল অন্তত ৪০ বত্সরের পুরাতন। বলিবার অপেক্ষা রাখে না যে, কেবল তদারকির অভাবেই এমন দুর্ঘটনা ঘটিয়াছে।

কেবল লিফট নহে, দেশের অনেক সরকারি অবকাঠামো বা স্থাপনা যথারীতি রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় না। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আলাদা দফতর থাকিলেও রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে উদাসীনতার অন্ত নাই। গত বত্সর প্রধানমন্ত্রী সারা দেশের রাস্তা ও সরকারি ভবন রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে চার দফা নির্দেশনা দিয়াছিলেন। এই নির্দেশনাগুলির অন্যতম হইল—দেশে যেইসকল রাস্তা ও ভবন তৈরি হইবে নির্মাণ কর্তৃপক্ষ তাহার লাইফটাইম নির্ধারণ করিবে; এবং ভবন, রাস্তা ও অন্যান্য স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বত্সরওয়ারি কী পরিমাণ বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন—সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় তাহা নির্ধারণ করিবে। স্পষ্টতই, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং এইসকল অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের উপর একাধিকবার বিশেষ জোর দিয়াছেন। নূতন রাস্তা নির্মাণের চাইতে বিদ্যমান রাস্তাগুলির তদারকি তথা রক্ষণাবেক্ষণের কথা বলিয়াছেন তিনি। কিন্তু দেখা যাইতেছে, প্রচুর নূতন রাস্তা নির্মাণ করা হইলেও বিদ্যমান অনেক রাস্তাই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহারের উপযোগিতা হারাইতেছে। বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকিবার কারণে রাস্তা ও সরকারি ভবন রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যার সৃষ্টি হয়।

সরকারি নির্মাণকাজের গুণ ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করিবার পাশাপাশি এইসব কাজে যাহাতে বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়—সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ইতিপূর্বে নির্দেশনা দিয়াছেন। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী ঐতিহাসিক, কেপিআই স্থাপনাসহ বিভিন্ন সরকারি ভবন ও অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদফতরের। বর্তমানে সারা দেশে গণপূর্ত অধিদফতরের আওতাধীন সরকারি অফিস ভবন ও আবাসিক ভবনের সংখ্যা ২৫ হাজারের অধিক। অথচ প্রয়োজনীয় বাজেটের অভাবে এইগুলির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা যাইতেছে না। জানা গিয়াছে যে, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের আওতাধীন রাস্তার সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কারের জন্য ‘সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল বোর্ড আইন’ থাকিলেও সরকারি স্থাপনা সুরক্ষার জন্য কোনো তহবিল বোর্ড নাই। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী যখন সরকারি অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রায়শই বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন, তখন সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি ইহা অমান্য করিবার মাধ্যমে কি সরকারপ্রধানের সহিত তামাশা করিতেছে না?

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন