ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩৫ °সে


অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা :সমাধান কোন পথে?

অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা :সমাধান কোন পথে?

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর বার্ষিক বৈশ্বিক জনসংখ্যা প্রতিবেদন ২০১৯-এ বলা হইয়াছে যে, গত ৫০ বত্সরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বাড়িয়াছে ১০ কোটি ৪৭ লক্ষ। বর্তমানে আমাদের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৮১ লক্ষ। এখন বত্সরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.১ শতাংশ। ১৯৬৯ সালে আমাদের জনসংখ্যা ছিল ৬ কোটি ৩৪ লক্ষ। তখন প্রজনন হার ছিল ৬.৯ জন। ১৯৯৪ সালে আমাদের জনসংখ্যা দাঁড়ায় ১১ কোটি ৬২ লক্ষ। এই সময় আমাদের প্রজনন হার ছিল ৩.৮ জন। বর্তমানে জনসংখ্যা যখন ১৬ কোটিরও বেশি, তখন আমাদের প্রজনন হার গড়ে ২ জন। এই প্রজনন হার বৈশ্বিক প্রজনন হারের তুলনায় কম। বৈশ্বিক প্রজনন হার ২ দশমিক ৫। ইহাতে আমাদের সন্তুষ্ট হইবার কথা ছিল। কিন্তু আমাদের দেশের আয়তনের তুলনায় বর্তমান যে জনসংখ্যা তাহা এখন অনেক বেশি না বলিয়া কোনো উপায় নাই।

আমাদের ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার দেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে বসবাস করিতেছে এক হাজার ১২০ জন মানুষ। এই জনসংখ্যা ঘনত্বের দিক হইতে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে অষ্টম। আমাদের উপরে রহিয়াছে ম্যাকাও, সিঙ্গাপুর, হংকং, জিব্রাল্টার (ইউকে), ভ্যাটিকানসিটি, মাল্টা ও বারমুডা। এইখানে পাঁচটি দেশ সিটি স্টেট বা নগর রাষ্ট্র হিসাবে বিবেচিত। অবশিষ্ট দুইটি দেশ মাল্টা ও বারমুডা নগররাষ্ট্র না হইলেও বিবেচিত দ্বীপরাষ্ট্র হিসাবে। এইসব দেশ পর্যটনের জন্য বিখ্যাত বলিয়া স্বাভাবিকভাবেই জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি। কিন্তু বাংলাদেশ কোনো নগর বা দ্বীপ রাষ্ট্র নহে। উল্লেখ্য, বিশ্বের সবচাইতে বেশি মানুষ বাস করে চীন ও ভারতে। তাহাদের জনসংখ্যা যথাক্রমে ১৩৪ ও ১২০ কোটি। অথচ তাহাদের জনঘনত্ব মাত্র যথাক্রমে ১৩৯ ও ৩৬২ জন প্রতি বর্গকিলোমিটারে। বাংলাদেশে আয়তনের তুলনায় এই জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে তাহার নেতিবাচক প্রভাব পড়িতেছে সব খাত ও পুরা জনজীবনের ক্ষেত্রে। এইজন্য কেহ কেহ বলিতেছেন, আমরা জনসংখ্যার টাইমবোমার ওপর দাঁড়াইয়া আছি।

আমাদের জনসংখ্যা যে পর্যায়ে গিয়াছে, তাহাতে তাহা এককথায় নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। কেহ কেহ বাল্যবিবাহ রোধ ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণমূলক নানা কর্মসূচি নূতন করিয়া জোরদারের মাধ্যমে ইহার সমাধান খুঁজিতেছেন। কিন্তু যেই পর্যায়ে আমরা পৌঁছাইয়া গিয়াছি, সেইখানে প্রজনন হার একের অঙ্কে কমাইয়া আনিলেও বিশেষ কোনো উন্নতি হইবে না। এইজন্য এখন হইতে বিকল্প উপায়গুলি নিয়া ভাবিতে হইবে। আমাদের যথাসম্ভব ভূমির সদ্ব্যবহার করিতে হইবে। বিশেষত বঙ্গোপসাগরসহ যেইসব নদ-নদীতে চর জাগিতেছে, সেইখানে মানুষের বসবাসের মতো যাবতীয় নাগরিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারিত করিতে হইবে। চরাঞ্চলে সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে বাড়াইতে হইবে আমাদের স্থলসীমা। শিক্ষা-দীক্ষা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাহাদের আয় উন্নতির ব্যবস্থা করিতে হইবে। জাতীয় সম্পদ বাড়াইতে হইবে। জনসংখ্যাকে রূপান্তর করিতে হইবে জনসম্পদে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২১ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন