ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩৪ °সে


স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করুন

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করুন

জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ ও জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ শুরু হইয়াছে। অনেক উত্সাহ-উদ্দীপনায় মানুষের দুয়ারে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাইবার প্রচারণাও চলিতেছে। কিন্তু এই বাস্তবতা কাহারো জানিতে বাকি নাই যে, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালসহ দেশের সকল জেলা-উপজেলার সরকারি হাসপাতালের মান ক্রমাগত কমিতেছে। বেডের অপ্রতুলতা, ঔষধের অভাব, পানীয়জলের সংকট, চোরের উত্পাত, নষ্ট যন্ত্রপাতি, দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাব, অপরিচ্ছন্নতা প্রকট হইতেছে। এমন অভিযোগও আছে যে, রোগীর স্বজনদের নিকট হইতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ঔষধ ক্রয় করিবার পরে তাহা আবার বাহিরে বিক্রয় করিতেছে হাসপাতালের একটি সংঘবদ্ধ চক্র। বাংলাদেশে ষাট শতাংশের বেশি মানুষ বত্সরে বেসরকারিখাতে স্বাস্থ্য সেবা নিয়া থাকেন। কিন্তু সেইখানেও বাণিজ্যিক মুনাফাই মূল বিষয় হইয়া দাঁড়াইয়াছে।

জেলা শহরের হাসপাতালগুলি একবার ঘুরিয়া আসিলেই বুঝিতে অসুবিধা হইবে না যে চিকিত্সার অভাবে, অবহেলিত চিকিত্সায় এবং প্রকৃত চিকিত্সাসেবার অনুপস্থিতিতে গরিবদের অবস্থা কী দাঁড়াইয়াছে। গ্রামাঞ্চলের অবস্থা আরো শোচনীয়। গ্রামের হাসপাতালে নিযুক্ত ও বদলি হওয়া অনেক চিকিত্সকই গ্রামে থাকিয়া দায়িত্ব পালন তো করেনই না, তাহারা গ্রামেই থাকেন না। উপজেলা পর্যায়ে চিকিত্সক অনুপস্থিতি প্রকট। সরকারি হিসাবেই ৬০ শতাংশ চিকিত্সক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকিতেছেন। কোনো কোনো উপজেলা একজন চিকিত্সক দিয়া চলে, কোনো উপজেলায় পর্যায়ক্রমে চিকিত্সকেরা দায়িত্ব পালন করেন। উপজেলায় পদায়ন করা হইলেও উচ্চপর্যায়ে তদবির করিয়া অনেকে প্রেষণে অথবা সংযুক্তি নিয়া পছন্দ মতো কর্মস্থলে চলিয়া যান। আবার অনেকে অনুমতি ছাড়াই বত্সরের পর বত্সর কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিও ফাঁকা পড়িয়া আছে। গ্রামে অর্ধেকের বেশি পদে কোনো চিকিত্সককেই পদায়ন করাইতে পারেনি সরকার।

বাংলাদেশ এখন উন্নতমানের ঔষধ উত্পাদন করে, সেগুলি রপ্তানিও করে। কিছু চিকিত্সার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের হাসপাতালগুলিতে উন্নত প্রযুক্তি এখনও আসেনি। তবে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের হাসপাতালে এখন চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব। স্বাস্থ্যখাতকে শৃঙ্খলায় ফিরাইয়া আনিতে সরকার ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়াছে। সেইসঙ্গে, সরকার দেশের সকল বিভাগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়াছে। বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালে চিকিত্সক ও নার্স নিয়োগ দেওয়া হইতেছে। আমরা এই উদ্যোগগুলিকে সাধুবাদ জানাই। গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাইয়া দিতে সরকারের উদ্যোগ নির্দিধায় সমর্থনযোগ্য। কিন্তু গ্রামে চিকিত্সকদের ধরিয়া রাখিতে সরকারের যে সদিচ্ছা আছে, তাহা বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের উপরও জোর দিয়াছেন বিশেষজ্ঞগণ। গ্রামের কর্মস্থলকে আকর্ষণীয় করিয়া তুলিতে পারিলে চিকিত্সকেরা গ্রামমুখী হইতেন। তাহা ছাড়া একটি উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করিতে যে পরিমাণ ঔষধ ও যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, তাহা না থাকিলে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক পদায়ন করিয়াও বিশেষ লাভ হইবে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২০ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন