ঢাকা শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
৩১ °সে


আগৈলঝাড়ায় মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর

আগৈলঝাড়ায় মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় রাধাগোবিন্দ মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিয়াছে। অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা গ্রিল ভাঙিয়া মন্দিরে প্রবেশ করে। কমপক্ষে ছয়টি মূর্তি ভাঙচুর ছাড়াও মন্দিরে সংরক্ষিত স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ এবং পূজায় ব্যবহূত বিপুল পরিমাণ কাসা ও পিতলের থালা-বাসন লুট করিয়া নিয়া যায়। ইত্তেফাকে প্রকাশিত সংবাদে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাত্রে উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের পূর্ব পতিহার গ্রামে অনভিপ্রেত এই ঘটনা ঘটে। শুক্রবার ভোরে ঘটনাটি জানাজানি হইবার পর স্বাভাবিকভাবেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হইল, তাত্ক্ষণিকভাবে স্থানীয় এমপি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ঘটনাস্থলে ছুটিয়া যান এবং আশ্বস্ত করেন স্থানীয় বাসিন্দাদের। সেইসঙ্গে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করিয়া দ্রুত আইনের আওতায় আনারও নির্দেশ দিয়াছেন তিনি। বরিশালের পুলিশ সুপার, ইউএনও এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করিয়াছেন। মন্দির কমিটির সভাপতি পরাণ চন্দ্র শীল বাদী হইয়া থানায় মামলা দায়ের করিয়াছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সক্রিয়তা যে জনমনে বিরাজমান উদ্বেগ, আতঙ্ক ও অস্বস্তি প্রশমনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখিবে তাহাতে সন্দেহ নাই। পাশাপাশি ইহাও প্রত্যাশিত যে, অপরাধীদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হইবে।

ঘন বসতিপূর্ণ জনবহুল ওই বাড়িতে মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটিতে পারিল কীভাবে— তাহা লইয়া বিস্ময় প্রকাশ করিয়াছেন কেহ কেহ। তদন্তকারীরা নিশ্চয় সেইদিকে বিশেষভাবে নজর দিবেন। পাশাপাশি এই প্রশ্নও তোলা যায় যে, এই ব্যাপারে সরকার ও প্রশাসনের কঠোর মনোভাব সত্ত্বেও দুর্বৃত্তরা এই ধরনের ঘটনা ঘটাইতে সাহস পাইল কিভাবে? তবে বিগত কয়েক বত্সরের অভিজ্ঞতার আলোকে একটি বিষয় নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, বরিশালের আগৈলঝাড়ায় যাহা ঘটিয়াছে— তাহা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। মাত্র কয়েক মাস আগে খুবই উত্সবমুখর পরিবেশে সারা দেশে শত শত পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হইয়া গিয়াছে। ইহাতে গভীর সন্তোষও প্রকাশ করিয়াছেন পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ। সামগ্রিকভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও যে দিন দিন উন্নত হইতেছে—সেই আভাসও মিলিয়াছে তাহাদের বক্তব্যে। ইহা অনস্বীকার্য যে, অতীতে নানা অজুহাতে অপ্রীতিকর কিছু ঘটনার খারাপ নজির থাকিলেও, ঐতিহ্যগতভাবে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। শত শত বত্সর ধরিয়া নানা ধর্ম ও মতের মানুষ এইদেশে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করিয়া আসিতেছে। উপরতলার কিছু মানুষ বিশেষ রাজনৈতিক স্বার্থে বারবার সম্প্রীতির সেই আবহ নস্যাত্ কবিরার অপচেষ্টা চালাইয়াছে। এখনো যে তাহারা সম্পূর্ণ নিরস্ত হইয়াছে—এমন কথাও জোর দিয়া বলা যাইবে না। তবে এই ব্যাপারে বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের অবস্থান সুস্পষ্ট শুধু নহে, আপসহীনও বটে। ফলে কুচক্রীরা অতীতে যেমন সফল হয় নাই, ভবিষ্যতেও ইহার ব্যত্যয় ঘটিবার কোনো অবকাশ নাই।

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় যাহা ঘটিয়াছে—আমরা তাহার তীব্র নিন্দা জানাই। ইহার জন্য কেবল দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণই যথেষ্ট নহে, একই সঙ্গে এই ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলে সক্রিয় ভূমিকা পালন করিবেন—ইহাই প্রত্যাশিত।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন