ঢাকা রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
২৭ °সে


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা

২০১৫ সালে প্রভাবশালী ছয় রাষ্ট্রের সহিত স্বাক্ষরিত পরমাণু প্রকল্প বিষয়ক অন্তর্বর্তী চুক্তির কিছু অংশ হইতে সরিয়া যাইবার ঘোষণা দিয়াছে ইরান। এই চুক্তি হইতে যুক্তরাষ্ট্রের সরিয়া যাইবার ঠিক এক বত্সরের মাথায় এই ঘোষণা দিয়াছে দেশটি। স্মর্তব্য, ইরান চুক্তিটি যথাযথভাবে মান্য করিতেছে না মর্মে ঘোষণা দিয়া যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে এই চুক্তি হইতে নিজেকে সরাইয়া লয়। পক্ষান্তরে, অন্য পাঁচটি প্রভাবশালী দেশ অর্থাত্ রাশিয়া, চীন, জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেন প্রত্যেকে প্রকাশ্যেই একমত যে, ইরান ২০১৫ সালের চুক্তির শর্তগুলি যথাযথ মান্য করিয়া চলিতেছে। প্রশ্ন হইতেছে, ইরান আচমকা কী কারণে চুক্তি হইতে সরিয়া যাইতে চাহিতেছে?

চুক্তি হইতে সরিয়া যাইবার পর হইতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পূর্বেকার নিষেধাজ্ঞাগুলিকে জোরদার করিতে সচেষ্ট হইয়া ওঠে। বিশেষ করিয়া, ইরানের সহিত ব্যবসা-বাণিজ্যকারী দেশ ও কোম্পানিগুলিকে চাপের মধ্যে ফেলিবার নীতি অনুসরণ করে ট্রাম্প প্রশাসন। এই প্রশাসনের মতে তাহারা ইরানে ক্ষমতাসীনদের অপসারণ নহে বরং দেশটির নীতি পরিবর্তনে ইচ্ছুক। এই লক্ষ্যে ইরানকে অবরোধ ও সামরিক চাপের মধ্যে রাখাই ট্রাম্প প্রশাসন যৌক্তিক মনে করিতেছে। যুক্তরাষ্ট্র এমনকি সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় এলিট বাহিনী ইসলামিক রিভ্যুলিউশারি গার্ডকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকাভুক্ত করিয়াছে। যুক্তরাষ্ট্রের এহেন অবস্থান স্বভাবতই ইরানের ক্ষমতাসীনদিগকে সবিশেষ চাপের মধ্যে ফেলিয়া দেয়। এইদিকে, চুক্তি রক্ষার বিনিময়ে ইরান যেই ধরনের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা পাইবার কথা, সেইগুলির তেমন কোনো প্রকাশ না দেখিয়া চুক্তিবিরোধীরা ক্রমাগত দেশের ভিতরে সরকারের উপরে চাপ সৃষ্টি করিতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে ইরানের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমশ নিম্নমুখী হইতে থাকিবার কারণে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী ধর্মগুরুদের তরফ হইতেও সরকারের বরাবরে প্রশ্ন উত্থাপিত হইতে থাকে। ইউরোপের তিন দেশ, অর্থাত্ জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেন, নিজেদের মতো করিয়া ইরানের পাশে থাকিবার লক্ষ্যে ই-থ্রি নামক একটি তহবিল গঠন করে; কিন্তু ইরান হইতে তৈল আমদানি কিংবা ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজারের সহিত অর্থবহভাবে সংযুক্ত করিবার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ তেমন কোনো ফল আনয়নে ব্যর্থ হয়। চীন এবং রাশিয়াকেও এইবার ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা কোনো বড় উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের আস্ফাালন এবং অপর পাঁচ প্রভাবশালী রাষ্ট্রের সিদ্ধান্তহীনতা অবশেষে চুক্তিবিষয়ে ইরানকে বিপরীত পথে হাঁটিতে বাধ্য করিয়াছে বলিলে অত্যুক্তি হইবে না। ইরান ইতোমধ্যে পাঁচ প্রভাবশালী রাষ্ট্রকে চুক্তি রক্ষার্থে অর্থবহ সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তিনমাসের একটি সময়সীমা বাঁধিয়া দিয়াছে। ট্রাম্প যাহা কিছুই করুন না কেন, বিশ্বকে নূতন করিয়া পরমাণু আশঙ্কা হইতে বাঁচাইতে হইলে, অপর পাঁচ বৃহত্ শক্তিকে অবিলম্বে ইরানের বাঁধিয়া দেওয়া সময়সীমার মধ্যে সকল পক্ষের নিকট গ্রহণযোগ্য কোনো একটি সমাধান খুঁজিয়া বাহির করিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ মে, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন