ঢাকা সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


পোশাক শ্রমিকের বেতন-বোনাস

পোশাক শ্রমিকের বেতন-বোনাস

পোশাকশিল্পে শ্রমিকের বেতন-বোনাস সংক্রান্ত সংকট পুরাতন। বিশেষত ঈদের সময়ে এই সংকট প্রকট হইয়া থাকে। প্রতি বত্সরই কোথাও না কোথাও শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া লইয়া পথে নামিবার খবর প্রকাশিত হইয়া থাকে। এইবার চট্টগ্রামের শিল্প-কারখানায় বেতন-বোনাস লইয়া আগাম শঙ্কা দেখা দিয়াছে। চট্টগ্রামে সাধারণত বেতন পরিশোধ করা হয় পরবর্তী মাসের ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে। সেই মোতাবেক এপ্রিল মাসের বেতন এখনো দেওয়া হই নাই। শ্রম মন্ত্রণালয় এখনো সময় বাঁধিয়া না দিলেও মে মাসের বেতন পরিশোধ করিতে হইবে জুন মাসের ৩ তারিখের মধ্যে; কিন্তু তাহার পূর্বেই মে মাসের শেষ দিকে পরিশোধ করিতে হইবে বোনাস। ফলে ৩ সপ্তাহের মধ্যে তিনটি বেতন-বোনাস পরিশোধ করিতে হইবে কারখানা মালিকদের; কিন্তু তাহারা বলিতেছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে ইহা পরিশোধ করা তাঁহাদের জন্য কঠিন হইবে। এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নহে; কারণ পূর্ব হইতেই তাঁহারা প্রস্তুতি গ্রহণের সময় পাইয়াছেন। এদিকে রমজানের আগের দিন ৬ মে হঠাত্ করিয়া বন্ধ করিয়া দেওয়া হইয়াছে সানম্যান গ্রুপের গোল্ডেন হরাইজন কারখানাটি। কাজ না থাকার অজুহাতে বেতনভাতা বকেয়া রাখিয়া ১ হাজার ৩০০ শ্রমিকের কারখানাটি বন্ধ করিয়া দেওয়ার উদ্দেশ্য কী তাহা বোধগম্য নহে। ইহাতে বিপাকে পড়িয়াছেন শ্রমিকেরা।

শ্রমিক আইন মানিয়া যে কেহ তাঁহার মালিকানাধীন কারখানাটি বন্ধ করিয়া দিতে পারেন; কিন্তু শ্রমিকদের বেনিফিট তো দূরের কথা উলটা বেতনভাতা পরিশোধ না করিয়া কারখানা বন্ধ করিয়া দেওয়া রীতিমতো অপরাধ। শ্রমিকরা যে স্বল্প আয় করিয়া থাকেন তাহা হইতে তাঁহাদের কোনো সঞ্চয় থাকে না। এইভাবে তাঁহাদের দুরবস্থার দিকে ঠেলিয়া দেওয়া মানিয়া লওয়া যায় না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেখিতে হইবে।

চট্টগামে ১ হাজার ২০২টি কারখানার ঈদ পূর্ববর্তী বেতন-বোনাস সঠিকভাবে পরিশোধের স্বার্থে গ্রুপভিত্তিক প্রতিনিধিদের সহিত আলাপ-আলোচনার যে সিদ্ধান্ত শিল্প পুলিশ নিয়াছে উহাকে সাধুবাদ জানাইতে হয়। ডিসেম্বরের নূতন বেতন কাঠামোয় শ্রমিকদের বেতন বাড়িয়াছে গড়ে ৬০ শতাংশ। যাহার ফলে যে মানবেতর জীবনযাপন করিতে হইত তাহা হইতে এই শ্রমিকের খানিকটা মুক্তি লাভের সুযোগ হইয়াছে। এখন সঠিক সময়ে বেতন-বোনাস পাইলে তাহারা কিছুটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করিতে পারে। আমরা আশা করি, বিজিএমইএ এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে। প্রয়োজনে মনিটরিং সেল গঠন করিতে হইবে। শিল্পের প্রাণ যে শ্রমিক তাহাকে বঞ্চিত রাখিয়া আমরা কোনোভাবেই আমাদের কাঙ্ক্ষিত শিল্পের উন্নতি ঘটাইতে পারিব না। তাই শ্রমিকের স্বার্থ বিবেচনা করিয়া ঈদের পূর্বে তাহাদের বেতন-বোনাস সঠিক সময়ে প্রদান করিতে হইবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পূর্ব হইতেই সতর্কতা অবলম্বন করিতে পারিত; কিন্তু কখনোই তেমন উদাহরণ আমরা দেখিতে পাই না। প্রতি বত্সরের ন্যায় এবারও ঈদ উপলক্ষে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে শঙ্কার খবর পত্রিকান্তরে পাওয়া যাইতেছে। বেতন-বোনাস সঠিক সময়ে না পাইলে সার্বিকভাবে পোশাকশিল্প অস্থিরতার সম্মুখীন হইতে পারে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন