ঢাকা সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


শিক্ষকতায় অধিক বিনিয়োগ

শিক্ষকতায় অধিক বিনিয়োগ

জানা গিয়াছে, দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কয়েক হাজার পদ খালি রহিয়াছে। যেইখানে নিত্যনূতন চাহিদা ও যুগের দাবির প্রেক্ষিতে পদসংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, সেইখানে বিদ্যমান পদগুলিই পূরণ করা হইতেছে না। ফলে জনবলের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারিতেছে না সংশ্লিষ্ট দফতর ও বিভাগগুলি। শিক্ষাক্ষেত্রে এই জনবল সংকটের পরিণতি কোনো অংশে কম ভয়াবহ নহে। দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয় হইতে শুরু করিয়া মাধ্যমিক স্কুল, কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষক সংকট রহিয়াছে। দক্ষ শিক্ষকের অভাব রহিয়াছে আরও বেশি। এক পরিসংখ্যান মতে, ৩৮ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট রহিয়াছে। আর গত দুই বত্সর ধরিয়া বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় শূন্য রহিয়াছে ৩৯ হাজারেরও বেশি শিক্ষকের পদ। বিশেষ করিয়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে শিক্ষকের যে দৈন্য রহিয়াছে, তাহা বড়ই বেদনাদায়ক। কেননা এই পর্যায়ে একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞানার্জনের ভিত্তি তৈরি হয়; কিন্তু পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকিলে সেই ভিত্তি কখনো মজবুত হইতে পারে না।

খবরে প্রকাশ, প্রায় দুই হাজার সহকারি শিক্ষকের শূন্যপদ নিয়া ধুঁকিতেছে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সূত্র মতে, সারাদেশে সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় রহিয়াছে ৩৪৩টি। এইসব বিদ্যালয়ে শিক্ষকের মোট পদ ১০ হাজার ৫৬৩টি; কিন্তু কর্মরত রহিয়াছেন আট হাজার ৫৬৪ জন। সিটি করপোরেশন ও জেলা সদরগুলিতে শিক্ষকের স্বল্পতা তেমন একটা না থাকিলেও উপজেলা শহরগুলিতে এই সংকট প্রকট। এইসব বিদ্যালয়ের পরীক্ষার খারাপ ফলাফল ও শিক্ষার্থী ঝরিয়া পড়িবার জন্য এই শিক্ষক সংকটই দায়ী বহুলাংশে। শিক্ষক না থাকিলে ছাত্রছাত্রীরা গল্প-গুজব ও এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করিয়াই সময় কাটাইয়া দেয়। অনেক বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক না থাকিবার কারণে এক বিষয়ের শিক্ষক দিয়া অন্য বিষয়ের ক্লাস নেওয়া হয়। ইহাতে ঐ শিক্ষক ঠিকমতো পাঠদান করিতে পারেন না। আমাদের দেশে এমনিতেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত আশানুরূপ নহে। ৬০/৭০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়, অথচ উন্নত দেশে একজন শিক্ষক অনেক ক্ষেত্রে ২০ জনের কম শিক্ষার্থীকে পড়াইয়া থাকেন। তাহা ছাড়া শিক্ষকরা সারা বত্সর জুড়িয়া বিভিন্ন জরিপের কাজ, খাতা মূল্যায়ন, নির্বাচনে দায়িত্ব পালনসহ বিভিন্ন কাজ করিয়া থাকেন। কেহ কেহ ট্রেনিং ও মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে অনুপস্থিত থাকেন। সুতরাং বিদ্যমান শূন্যপদগুলি দ্রুত পূরণ করা আবশ্যক হইয়া গিয়াছে।

জানা মতে, সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তার মর্যাদা দেওয়ার পর নিয়োগবিধি সংশোধনজনিত কারণে গত ২০১২ সাল হইতে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ রহিয়াছে। পদমর্যাদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন তাহাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করিবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন বা পিএসসি; কিন্তু পিএসসি ইতোমধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করিলেও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করিতে পারে নাই। এই জটিলতা অনতিবিলম্বে কাটাইয়া উঠিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন