ঢাকা সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬
৩২ °সে


ঈদ বিনোদন চোখে পড়িয়াছে

ঈদ বিনোদন চোখে পড়িয়াছে

মানুষ স্বভাবে বিনোদন প্রিয়। কর্মময় জীবনে, ঝড়-ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ জীবনে একটু ফুরসত পাইলেই সে ছুটিতে থাকে একটু বিনোদনের আশায়; কিন্তু সেই বিনোদনের জন্য বর্তমান সমাজব্যবস্থায় অর্থনৈতিক সক্ষমতা একটি বড় ফ্যাক্টর। অর্থ-সক্ষমতা না থাকিলে বিনোদনের সুযোগ যেমন সীমিত হইয়া থাকে, তেমনি মানসিকভাবেও মানুষ বিনোদনবিমুখ হইয়া পড়ে। ইহাও ঠিক, মানুষের এই বিনোদন করিবার বাসনা উন্মোচিত হইতে একটি অনুকূল পরিবেশও গড়িয়া উঠিতে হয়। আশার কথা হইল, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে জনগণের মধ্যে বিনোদনের প্রতি ঝোঁক বাড়িয়াছে, আর তাহার বহিঃপ্রকাশ ঘটিতেছে পর্যটনের মধ্য দিয়া। কারণ পর্যটন হইল মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম। এইবার ঈদুল ফিতর উত্সবকে ঘিরিয়া লক্ষ করা গিয়াছে দেশের বিনোদন কেন্দ্রগুলিতে উপচে পড়া ভিড়। সারাদেশের মানুষ যেন ঝাঁপাইয়া পড়িয়াছিল। কেবল বাণিজ্যিক বিনোদন কেন্দ্রই নহে, মানুষ একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলিতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কাছেও ছুটিয়া গিয়াছে। শুধু সমুদ্রসৈকত কিংবা ঐতিহাসিক নিদর্শনের নিকটই নহে, নদীর ঘাট, বড় লেক, বড় বড় শপিং মল, পার্ক, বনাঞ্চল— অর্থাত্ যাহার যেইখানে ঢু দিবার সময় ও সামর্থ্য হইয়াছে, সে সেইখানে ছুটিয়াছে। বিশেষত দেশের বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থানে ছিল মানুষের ঢল। দূরদূরান্ত হইতে মানুষ ছুটিয়া গিয়াছে পর্যটনের স্বাদ লইতে। ইহার মধ্যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাদপীঠ সিলেটের জাফলং, রাতারগুল, হাকালুকি ও টাঙ্গুয়ার হাওরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধপপুর লেক, নীলফামারীর নীলসাগর, নারায়ণগঞ্জের ঐতিহাসিক সোনারগাঁ, বগুড়ার মহাস্থানগড়, মেহেরপুরের মুজিবনগর কমপ্লেক্সসহ সমগ্র দেশের প্রত্যেক জেলায় অবস্থিত নিদর্শন, বিনোদন কেন্দ্র এবং আকর্ষণীয় স্থান ছিল দর্শনার্থীতে সরগরম। পত্রিকান্তরে জানা গিয়াছে যে, কক্সবাজারে এই বত্সর রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক ভ্রমণে গিয়াছেন। একইরকম পটুয়াখালীর সাগরকন্যাখ্যাত কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে নামিয়াছিল মানুষের ঢল।

এই পর্যটনের মধ্য দিয়া সরকারের রাজস্ব আয় বাড়িয়াছে। স্বল্প আয়ের নানা পেশার মানুষেরও এই পর্যটন তথা বিনোদন স্থল ঘিরিয়া হইয়াছে বাড়তি আয়। আরও আশার কথা হইল, এইসব বিনোদন কেন্দ্র এবং পর্যটন এলাকাতে বিশেষ কোনো দুর্ঘটনা, কোনো বিশৃঙ্খলা দেখা যায় নাই। মোদ্দা কথা, মানুষের এই বিনোদন প্রবণতা ছিল সার্বিক উন্নতিরই বহিঃপ্রকাশ। এইরূপ পরিবেশ বজায় থাকিলে, এইরূপ স্বতঃস্ফূর্ততা বজায় থাকিলে ভবিষ্যত্ বাংলাদেশে বহির্বিশ্বের পর্যটকরা আসিতে আগ্রহ বোধ করিবে। ইহার পরও আমাদের কিছু পরামর্শ থাকিবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের লক্ষ রাখিতে হইবে যে, কোন স্থানগুলির প্রতি মানুষের অধিক ঝোঁক। আর সেই সকল স্থানে যাতায়াতের সুব্যবস্থা আছে কি না, আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে কি না। তাহা হইলেই আগামী দিনে একদিকে মানুষের বিনোদন নির্বিঘ্ন হইবে, অন্যদিকে মানুষ আরো অধিক পর্যটনমুখী, সুস্থ বিনোদনমুখী হইয়া উঠিবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন