ঢাকা সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৬
৩১ °সে


চীন-রাশিয়া সম্পর্কে নয়া-মাত্রা

চীন-রাশিয়া সম্পর্কে নয়া-মাত্রা

গত শুক্রবার রাশিয়ার জার আমলের রাজধানী সেইন্টপিটার্সবার্গে বসিয়া আমেরিকা ও চীনের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য বলিয়া জানাইয়াছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই সম্পর্ক ভাঙিতে চাহেন না বলিয়া মত প্রকাশ করিয়াছেন। দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের সময়টিতে জিনপিং-এর এই বক্তব্য কতখানি কূটনৈতিক আর কতখানি বাস্তব তাহা লইয়া স্বভাবতই দ্বিধাবিভক্ত হইয়াছেন বিশ্লেষক মহল। জিনপিংয়ের বক্তব্যের সময় তাঁহার সহিত অবস্থান করিতেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। উল্লেখ্য, একই সভায় বক্তব্য দানকালে আমেরিকাকে এককথায় বলিতে গেলে ধুইয়া দিয়াছেন পুতিন। তাঁহার মতে, আমেরিকা মোটেই আন্তর্জাতিক আইন-কানুনাদির তোয়াক্কা করে না। বরং দেশটি অর্থনৈতিক শক্তির জোরে অন্যান্য ধনী দেশকে সঙ্গে লইয়া নিজেদের পছন্দ মাফিক সবকিছু সাজাইয়া লয়। বস্তুত পুতিনের এই বক্তব্যের মধ্যে শি জিনপিংয়ের বক্তব্যেরই যেন প্রতিফলিত হইতেছে। চীন বেশ কিছুদিন ধরিয়া আমেরিকার বিরুদ্ধে অনুরূপ অভিযোগ আনিয়া চলিয়াছে।

২০১৩ সাল হইতে এই অবধি পুতিন ও জিনপিং-এর মধ্যে সর্বমোট ৩০ বার সাক্ষাত্ হইয়াছে। যে কোনো বিচারে ইহা তাত্পর্যপূর্ণ। বাণিজ্য সম্পর্ক ছাড়াইয়া সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও দুই দেশ যে একযোগে চলিবার সিদ্ধান্ত লইয়াছে, তাহা যতই দিন যাইতেছে ততই স্পষ্ট হইতেছে। গত কয়েক বত্সর ধরিয়া মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধের মধ্যে থাকা রাশিয়া বাস্তবিক কারণেও চীনের দিকে ঝুঁকিতেছে। পশ্চিম উত্সগুলির দিকে না তাকাইয়া থাকিয়া চীনের নিকট হইতে সহজে প্রাপ্ত অর্থনৈতিক সহায়তার ব্যাপারে উত্সাহী রাশিয়া। অন্যদিকে, রাশিয়ার মতো অন্যতম পরাশক্তিকে পাশে পাইবার সুবিধা চীন খুব ভালো করিয়াই বুঝিতে পারে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, গত শুক্রবার চীনের নিকটবর্তী প্রশান্ত মহাসাগরে একটি আমেরিকান যুদ্ধজাহাজের সহিত একটি রুশ যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষ হইবার উপক্রম হয়। আমেরিকার মতে রুশ জাহাজটি আগ বাড়াইয়া ঝামেলা বাধাইতে চাহিয়াছে। তাহাদের চিন্তা এইখানেই আরেক দফা বাড়িয়াছে। কেননা যেই জলসীমাতে এই ঘটনাটি ঘটিয়াছে সেই অঞ্চলটিকে চীন নিজের অংশ বলিয়া দাবি করিয়া আসিতেছে। ইহার অর্থ হইতেছে, চীনের দাবিকৃত জলসীমাতে দাঁড়াইয়া আমেরিকার বিরুদ্ধে সরাসরি একটি অবস্থান লইয়াছে রাশিয়া। জিনপিং-এর রাশিয়া সফরকালে এহেন ঘটনাকে রাশিয়ার তরফ হইতে বন্ধুত্ব প্রদর্শনের নজীর হিসাবে ধরিয়া লওয়া যাইতে পারে। এইখানেই শেষ নহে। গত বুধবার চীনের অন্যতম কোম্পানি হুয়াও-এর সহিত রাশিয়ার সর্ববৃহত্ মোবাইল অপারেটর এমটিএস-এর পঞ্চম প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন বিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্মর্তব্য, হুয়াও আমেরিকাতে নিষিদ্ধ করিবার পরিণতিতে চীন-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক গত কয়েক সপ্তাহে প্রকটতর হইয়াছে।

চীন-রাশিয়া সম্পর্ক লইয়া ট্রাম্প প্রশাসনের সুস্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেখা না গেলেও, আমেরিকার স্বার্থরক্ষাকারী বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ প্রতিনিয়ত গভীর হইতেছে। স্নায়ুযুদ্ধ অবসানের পর হইতে একক আধিপত্য ভোগকারী দেশটি, অর্থনৈতিক শক্তিতে বলীয়ান চীন এবং সামরিক পরাশক্তি রাশিয়ার যৌথ বিরোধিতাকে কেমন করিয়া সামাল দেয় তাহাই এখন দেখিবার বিষয়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন