ঢাকা শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬
২৯ °সে


সাইবার ঝুঁকির শীর্ষে বাংলাদেশ!

সাইবার ঝুঁকির শীর্ষে বাংলাদেশ!

পৃথিবীর প্রায় দুই শত দেশের মধ্যে নেতিবাচক কোনো পরিসংখ্যানে যখন বাংলাদেশের নাম সর্বপ্রথমে উঠিয়া আসে, তখন বিচলিত না হইয়া উপায় থাকে না। আবারও আমরা বাংলাদেশের নাম শীর্ষে দেখিলাম এবং যথারীতি তাহা নেতিবাচক সংবাদে। সাইবার নিরাপত্তা সেবাদাতা ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি তাহাদের চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদনে বলিয়াছে, ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ভাইরাস আক্রমণের ঝুঁকির দেশগুলির তালিকায় শীর্ষে রহিয়াছে বাংলাদেশ। আর স্মার্ট ফোন ম্যালওয়ার আক্রমণের ঝুঁকির তালিকায় রহিয়াছে ৩ নম্বরে। বিগত বছরে ম্যালওয়ার আক্রমণের ঝুঁকিতে বাংলাদেশের নাম ছিল চতুর্থ স্থানে। ক্যাসপারস্কি ছাড়াও একাধিক আন্তর্জাতিক গবেষণা-প্রতিবেদন বলিয়াছে, সাইবার নিরাপত্তায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রহিয়াছে বাংলাদেশ। এই আশঙ্কার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিপজ্জনক দিক হইল, এইসব সাইবার আক্রমণ ঠেকানোর দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং এবং অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রহিয়াছে বলিয়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হইয়াছে। ইহার প্রমাণ আমরা অতি সম্প্রতি পাইয়াছি এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) বুথ হইতে অভিনব কায়দায় কয়েকজন ইউক্রেনের নাগরিকের টাকা হাতাইয়া লইবার ঘটনায়। অভিনব কায়দায় রোমিং সিম ব্যবহার করিয়া সুদূর ইউক্রেন হইতে ঢাকার স্থানীয় ব্যাংক বুথের নিয়ন্ত্রণ লইয়াছিল দুষ্কৃতকারীরা। বত্সরাধিককাল পূর্বেও একাধিক বিদেশি নাগরিক এটিএম বুথ হইতে টাকা তুলিতে গিয়া ধরা পড়িয়াছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশাল অঙ্কের অর্থ ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কায় পাচার হওয়ার কাহিনি তো সর্বজনবিদিত।

সাইবার আক্রমণ পৃথিবীর সব দেশেই হইয়া থাকে। আমরা দেখিয়াছি, খোদ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনব্যবস্থাকেই সাইবার হ্যাকিং বা অ্যাটাক নাস্তানাবুদ করিয়া তুলিয়াছিল। তাই বলিয়া আমরা নিয়তির হাতে ছাড়িয়া দিয়া ঘুমাইয়া থাকিতে পারি না। কারণ বাংলাদেশ এই ক্ষেত্রে সবচাইতে ভালনারেবল দেশ। সুতরাং আমাদের প্রয়োজন কিছু নিয়ম মানিয়া চলা এবং সর্বক্ষেত্রে সদা সতর্ক থাকা। আমাদের নিজস্ব কিছু দুর্বলতার কথাও ক্যাসপারস্কি ল্যাবের প্রতিবেদনে উঠিয়া আসিয়াছে। বলা হইয়াছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ কম্পিউটার ব্যবহারকারী পাইরেটেড সফটওয়্যার, অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করিয়া থাকে, যাহা ঝুঁকির একটি প্রধান কারণ। এই কর্ম গ্রহণযোগ্য নহে। আসল সফটওয়্যার ব্যবহারে কিছু নিরাপত্তা ও কোম্পানির সহায়তা পাওয়া যায়। কিন্তু নকল সফটওয়্যার চৌর্যবৃত্তি ছাড়া কিছুই নহে। এই প্রবণতা ত্যাগ করিতে হইবে। অ্যান্টি-ভাইরাসের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রয়োজ্য। সবচাইতে বড় কথা হইল, বাংলাদেশে যে হারে কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়িয়াছে, যে হারে অনলাইন কার্যক্রম শুরু হইয়াছে, তাহার তুলনায় প্রযুক্তির উপর দক্ষ জনবল গড়িয়া উঠে নাই। সত্যিকারের আইটি এক্সপার্টের সংখ্যা বাংলাদেশে হাতেগোনা। ইন্টারনেট প্রযুক্তি শিক্ষা দেওয়ার বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও সীমিত। সুতরাং এখন দেশে আইটি এক্সপার্ট গড়িয়া তোলা অতি জরুরি হইয়া পড়িয়াছে। ইন্টারনেট প্রযুক্তি শিক্ষায় ঢাকার বাহিরেও সরকারি উদ্যোগে সত্যিকার অর্থে কার্যকর প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়িয়া তোলাও প্রয়োজন। বর্তমানে যে গুটিকয়েক প্রশিক্ষণকেন্দ্র রহিয়াছে তাহা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সীমিত।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন