ঢাকা বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬
৩২ °সে


রয়্যালটি ফাঁকি দিতে নয়ছয়

রয়্যালটি ফাঁকি দিতে নয়ছয়

পাঠ্যপুস্তকের মতো স্পর্শকাতর বিষয় লইয়া অনিয়ম বা জালিয়াতি কোনোভাবেই কাম্য নহে; কিন্তু সেরকমই ঘটিয়াছে বলিয়া ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক সংবাদে উল্লেখ করা হইয়াছে। বলা হইয়াছে, রয়্যালটি ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ তৈরি করিয়া দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগের আঙুল উঠিয়াছে সরাসরি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটির) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। গত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করিয়াছে সাড়ে ১৭ লক্ষ শিক্ষার্থী; কিন্তু জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রতি বিষয়ে ১০ লক্ষ সেট বই মুদ্রণ ও বাজারজাতের কার্যাদেশ দিয়াছে। ইহার অর্থ, দরপত্র অনুযায়ী প্রয়োজনের চেয়ে প্রায় ৭ লক্ষ সেট বই কম ছাপা হইবে। খোঁজ লইয়া জানা গিয়াছে বই কম ছাপা হইবে না। এই ৭ লক্ষ বই ছাপা হইবে হিসাবের বাহিরে। কারণ প্রতিটি বই ছাপার জন্য ১১ শতাংশ রয়্যালটি জমা দিতে হয় সরকারি কোষাগারে। এই রয়্যালটি ফাঁকি দিতেই প্রয়োজনের চাইতে কম বই ছাপনো হইতেছে বলিয়া অভিযোগ। কিন্তু তাহারা বলিতেছেন ভিন্ন কথা। তাহারা বলিতেছেন, ১৭ লক্ষ শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করিলেও কত শিক্ষার্থী ভর্তি হইবে তাহার হিসাব তাহারা জানেন না। তাহারা জানান, অনেকে বই ক্রয় করে না। বড় ভাইয়ের বই ছোট ভাই পড়িয়া থাকে। এ কারণে বই বিক্রয় হয় না। আমরা স্বীকার করি কিছু ক্ষেত্রে বড় ভাইয়ের বই ছোট ভাই পাঠ করিয়া থাকে কিন্তু সেই সংখ্যা কত? ৭ লক্ষ সেট বই কম ছাপাইয়া বড় ভাইয়ের বইয়ের উপর নির্ভর করা কতটা গ্রহণযোগ্য? বড় ভাই বা বোনের কাছ হইতে যে বই পাইবেই শিক্ষার্থী, এই নিশ্চয়তা দিল কে? বইয়ের সংখ্যা কম দেখানোর কারণে সরকার প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হইবে বলিয়া জানা গিয়াছে। তাহাদের এই কৌশলের ব্যাপারটি খতিয়ে দেখা দরকার।

উচ্চ মাধ্যমিকে ৩০টির বেশি পাঠ্যবই রয়েছে। এর মধ্যে মানবিক, বাণিজ্য ও বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক বাংলা, বাংলা সহপাঠ ও ইংরেজি বই মুদ্রণ ও প্রকাশ হয় এনসিটিবির তত্ত্বাবধানে। বইয়ের দাম নির্ধারণ করিয়া দেয় এনসিটিবি। প্রতিবছরই কম বই ছাপার কার্যাদেশ নিয়া রয়্যালটি ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ আছে প্রেস মালিকদের বিরুদ্ধে। এইবার যেন তাহা অতিরিক্ত হইয়া গিয়াছে।

১ জুলাই থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে ক্লাস শুরু হইবে। এর আগেই সারা দেশের বইয়ের লাইব্রেরিতে উচ্চ মাধ্যমিকের বই পৌঁছাইয়া দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রহিয়াছে; কিন্তু সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মত পাঠ্যপুস্তক তুলিয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হইতে পারে। আমরা আশা করিব—জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এই ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়া সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার পথ বন্ধ করিবে এবং যথাসময়ে স্বচ্ছতার সহিত শিক্ষার্থীদের হাতে পুস্তক তুলিয়া দিতে সক্ষম হইবে ।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৬ জুন, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন