ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬
২৭ °সে


নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইবার পরিণতি ভালো নহে

নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইবার পরিণতি ভালো নহে

আত্মীয়কে কম্পিউটার প্রশিক্ষণে ভর্তি না করায় সুনামগঞ্জে জাতীয় মহিলা সংস্থার এক জেলা কর্মকর্তাকে অফিসের মধ্যেই পান্স ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত করিয়াছে এক যুবক। ঘটনার সময় ঐ কর্মকর্তা প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করিতেছিলেন। হামলা করিয়া পলায়নের সময় স্থানীয় জনগণ হামলাকারীকে আটক করিয়া পুলিশে সোপর্দ করে।

হামলাকারী যুবককে সাধারণ জনগণ যে আরো নির্মমভাবে উত্তম-মধ্যম দেন নাই— তাহা ওই দুর্বৃত্তের জন্য অনেক বেশি সৌভাগ্যের। আমরা প্রকৃতপক্ষে অবকাঠামোগতভাবে উন্নয়নের সোপান বাহিতেছি বটে, কিন্তু আবহমানকাল ধরিয়া এই জনপদের সাধারণ মানুষ সামন্তবাদী সমাজের ছায়াতলেই দিনাতিপাত করিয়াছে। ফলে নানা পরম্পরায় আমাদের সমাজের শরীর থেকে এখনো সামন্তবাদী গন্ধ দূর হয় নাই পুরোপুরি। এই আধাসামন্তবাদী সমাজে মানুষ এখনো তাই সুযোগ পাইলেই আইন নিজের হাতে তুলিয়া নেয়, নিয়মনীতির তোয়াক্কা করে না। চাকুরির জন্য তদবির ও সুপারিশের নিমিত্ত লাইন দেয় প্রভাবশালীদের নিকট। ইহা নিয়ম নহে। কিন্তু সমাজের মানসজগত্ এখনো পুরোপুরি নিয়মের আবর্তে প্রবেশ করিতে পারে নাই। ইহা ভুলিয়া গেলে চলিবে কেমন করিয়া যে, সরকারি অফিসের সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতির মধ্যে থাকিয়াই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজকর্ম করিতে হয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ভর্তি বা কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ও নিয়মনীতি রহিয়াছে। সেই প্রক্রিয়াতেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে সকল কিছু পরিচালিত হওয়া উচিত। কিন্তু মামাবাড়ির আবদারের মতো কিংবা ক্ষমতার বলয়ের মধ্যে ঢুকিয়া শক্তিসঞ্চয়ের মাধ্যমে ক্ষমতার পেশিশক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে অন্যায় আবদার তোলা হয়। ইতঃপূর্বে পত্রপত্রিকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা এমন কিছু সংবাদ ও ভিডিও দেখিয়াছি যেইখানে উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনকেও হুমকি-ধমকিসমেত অশ্রাব্য গালিগালাজ করা হইয়াছে। অনেক ক্ষেত্রেই কথিত ক্ষমতাশালীদের আপত্তিকর আচরণে রীতিমতো বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েন কর্মকর্তারা। এমনকি অমুকের কথা না শুনিলে বদলি, তমুকের কথা না শুনিলে চাকুরি হারাইবার মতো হুমকি-ধমকির কথাও শোনা যায়।

এইভাবে তো চলিতে পারে না। সাধারণভাবে নিয়ম বা আইনকানুন মানিবার ক্ষেত্রে সততা ও শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। আয়তনের তুলনায় আমাদের ছোট্ট দেশটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষেরা বাস। এই জনসংখ্যার বৃহত্ একটি অংশ আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নহে। ইহারা কিছুই মানিতে চাহে না। অনেক ক্ষেত্রে ইহাদের বহু ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের বাহিরে চলিয়া যায়। সত্যিকার অর্থে আইন ও নিয়মকানুন না মানিয়া পৃথিবীর কোনো দেশ উন্নতি করিতে পারে নাই। সুশৃঙ্খলাই এই জগতের সবচাইতে বড় সৌন্দর্য। আমাদেরও সেই সৌন্দর্যকে ধারণ করিতে হইবে। জাতি হিসাবে উন্নতিসাধন করিতে হইলে ইহার কোনো বিকল্প নাই। নচেত্, যাহারা সুযোগসন্ধানী হিসাবে ক্ষমতার বলয়ে ঢুকিয়া দুর্বৃত্তপনায় লিপ্ত হইবে, ধৈর্যের বাঁধ ভাঙিয়া সাধারণ জনগণই তাহাদের শক্তহাতে প্রতিহত করিবে। উদাহরণ হিসাবে সুনামগঞ্জে সাধারণ জনগণ যেইভাবে আগাইয়া আসিয়া দুর্বৃত্তদের প্রতিহত করিয়াছে, তাহা বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন ক্ষমতার উত্তাপ ছড়ানো সুযোগসন্ধানী দুর্বৃত্তদের।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন