ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯, ১ শ্রাবণ ১৪২৬
২৯ °সে


উন্নয়নকাজের অর্থ অপচয়

উন্নয়নকাজের অর্থ অপচয়

দেশব্যাপী উন্নয়নের পাশাপাশি কাজে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলাও পরিলক্ষিত হইতেছে। একদিকে অগ্রগতি হতাশাজনক, অন্যদিকে ধীরগতির কারণে সরকারের বহু উন্নয়নকাজ কেবল ব্যাহত হইতেছে না, অপচয় হইতেছে যথেচ্ছ। কোথাও কাজ পড়িয়া থাকা, কোথাও কাজে হাত দিয়াই বিল তুলিয়া নেওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাইতেছে। একটি প্রকল্পে সরকারের বিনিয়োগ করিতে হয়। সেই কাজ পড়িয়া থাকা বা আংশিক পড়িয়া থাকার অর্থ হইল নগদ অর্থ পড়িয়া থাকা। পূর্বে উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থছাড় হইত চার কিস্তিতে। প্রকল্পের অর্থছাড়ের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রয়োজন হইত। ইহার পর কাজে গতি আনিবার জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির অর্থছাড়ের ক্ষমতা দেওয়া হইয়াছিল প্রকল্প পরিচালকদের। কিন্তু বর্তমানে চতুর্থ কিস্তির অর্থছাড়ের ক্ষমতাও প্রকল্প পরিচালকদের হাতে রহিয়াছে। সরকার কাজ সহজ করিতে এইরূপ সিদ্ধান্ত নিয়াছিল। কিন্তু যথাযথ ফল পাওয়া যায় নাই। বরং অনিয়ম বাড়িয়াছে, নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রেও দেখা দিয়াছে বিশৃঙ্খলা। প্রকল্প পরিচালকদের ব্যাপারে খোদ পরিকল্পনামন্ত্রী হতাশা ব্যক্ত করিয়া বলিয়াছেন, প্রকল্প পরিচালকরা ঢাকায় বসিয়া মাঠ পর্যায়ের প্রকল্প দেখাশোনা করিতে ভালোবাসেন।

নিয়মানুযায়ী দরপত্র আহ্বান করিয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের মালপত্র ক্রয়, অবকাঠামো নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ করা হইয়া থাকে। উহার জন্য নির্দিষ্ট সময় বাঁধিয়া দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের কোনোরকম অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প পরিচালকরা অর্থ ছাড় ও ব্যবহার করিতে পারিতেছেন সত্ত্বেও এখন অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক সময় কাজ সম্পন্ন হইতেছে না। ফলে পরিস্থিতি হতাশাজনক হইয়া পড়িয়াছে। বহু প্রকল্পের বহু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ না করিয়া, এমনকি কাজ না ধরিয়াও বিল লইয়া যাইতেছে বলিয়া অভিযোগ পাওয়া যাইতেছে। ইহা ছাড়া নিম্নমানের কাজ, নিম্নমানের সরবরাহর অভিযোগও রহিয়াছে। এইসব ক্ষেত্রে কোথাও রাজনৈতিক প্রভাব আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঘুষ-অনিয়মের আশ্রয় লওয়া হইতেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার সরকারি অর্থ অপচয় রোধে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়াছেন। কিন্তু আশাপ্রদ ফল পাওয়া যাইতেছে না।

এইভাবে চলিতে পারে না। অনেক অর্থনীতিবিদ বলিয়া থাকেন, রক্তক্ষরণ বন্ধ না করা গেলে রক্ত সরবরাহ করিয়া বাঁচানো যায় না। গোটা দেশে উন্নয়নের জন্য যে বরাদ্দ সরকার দিয়া চলিয়াছে তাহার বৃহদাংশের যদি অপচয় হয় তাহা হইলে উন্নয়নে সুফল পাইতে অনেক ঘাম ঝরিবে। তাই দেশের উন্নয়নকাজে অগ্রগতির দিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। মনে রাখা দরকার, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারই দক্ষতার প্রথম শর্ত। উন্নয়নকাজে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতার বিষয়ে বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। সেই সঙ্গে ঠিকাদারগণ যাতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটাইতে না পারে সেইজন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৬ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন