ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬
২৭ °সে


এখনো কাঁপিতেছে কত ব্রিজ-কালভার্ট!

এখনো কাঁপিতেছে কত ব্রিজ-কালভার্ট!

ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগী মারা গেল—ইংরেজিতে অনুবাদ অনুশীলনের জন্য যুগের পর যুগ ধরিয়া এই বাক্যটি ব্যবহূত হইয়া আসিতেছে। কথাটি একটুখানি ঘুরাইয়া বলা যাইতে পারে—সেতু সংস্কার করিবার পূর্বেই রেল দুর্ঘটনা ঘটিল। রবিবার রাতে কুলাউড়ায় যেই রেল দুর্ঘটনা ঘটিয়াছে, তাহার ক্ষেত্রে এই বাক্যটি বলা হইলে অতিরঞ্জিত হইবে না। কারণ, ইত্তেফাকের রিপোর্ট অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল রেলওয়ে স্টেশনের নিকটবর্তী যেই কালভার্ট-সেতুটি ভাঙিয়া আন্তঃনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়িয়াছে, সেই সেতুতে অ্যাঙ্গেল ক্লিপ ও স্লিপারে ছিল না নাট-বল্টু। ট্রেন গেলে ব্রিজটি কাঁপিত থরথর করিয়া।

কাঁপিবারই কথা। কারণ, ১৮৬২ সালে নির্মিত এই সেতুটি বত্সরের পর বত্সর ধরিয়া বিশেষ কোনো সংস্কার করা হয় নাই। এমনকি রেলসেতুর ৩০-৪০ বত্সরের পুরাতন কাঠের স্লিপারের অধিকাংশ নষ্ট হইয়া গিয়াছে। সিলেট-আখাউড়া রেলপথে অনেক পাহাড়ি ছড়া ও নদীতে বালু উত্তোলন ও ঢলের কারণে মাটি দাবিয়া গিয়া ঘন ঘন ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখা দেয়। তাহা ছাড়া অনেকগুলি লোহার ব্রিজে জং ধরিয়া ক্ষয় হইয়া যাইতেছে। এইভাবে সিলেট-আখাউড়া রেলপথে ঝুঁকিপূর্ণ হইয়া পড়িয়াছে ছোট-বড় শতাধিক রেলওয়ে ব্রিজ ও কালভার্ট। কেবল এই রেলপথ নহে, সারা দেশের রেলপথেই বিভিন্ন স্থানে এই ধরনের সমস্যা প্রকট হইয়া উঠিতেছে। রেলওয়ের তথ্য মতে, সারা দেশে মোট রেলপথের দৈর্ঘ্য ৪ হাজার ৪৪৩ তেতাল্লিশ কিলোমিটার। ইহাতে রেলসেতুর সংখ্যা ৩ হাজার ৬৫২টি। তাহা ছাড়া সারা দেশে সাড়ে তিন শতাধিক ট্রেনে প্রতিবত্সর গড়ে চলাচল করে ৪২ লাখ যাত্রী। প্রশ্ন হইল, এই বিপুলসংখ্যক যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করিতে কতটুকু নিষ্ঠা ও দায়িত্বের সহিত কাজ করিতেছে আমাদের রেলওয়ে? দেখা যাইতেছে, একের পর এক নূতন প্রকল্প হাতে লইলেও রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হইতেছে সবচাইতে কম। বুয়েটের একজন পরিবহন বিশেষজ্ঞের মতে, আমরা নূতন প্রকল্পের প্রতি মনোযোগী হইলেও পুরাতনগুলি রক্ষণাবেক্ষণের প্রতি কমই নজর দিই। অর্থাত্ আমরা কোনো কিছু তৈরি করি, তাহার পর তাহা যেন ভুলিয়া যাই। মাঝখানে যে এইটাকে রক্ষণাবেক্ষণ করিয়া টেকসই এবং নিরাপদ রাখিতে হইবে—সেই সংস্কৃতি আমাদের মধ্যে গড়িয়া উঠে নাই।

আমরা মনে করি, এই সংস্কৃতি গড়িয়া না উঠিবার পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের যেই অবকাঠামো রহিয়াছে, তাহাও ন্যূনতম ক্রিয়াশীল থাকে না। যেইটুকু বরাদ্দ রহিয়াছে, তাহা দিয়াও ঠিকমতো দেখভাল করা হয় না। বরং একটি দুর্ঘটনা ঘটিলে কিছুদিনের জন্য নড়িয়াচড়িয়া বসা হয়। তাহার পরে সবকিছু আবার পূর্ববত্ অবহেলা ও উদাসীনতায় চলিতে থাকে। এমনকি এইসকল লেখালেখিও কোনো গুরুত্ব বহন করে না সংশ্লিষ্টদের নিকট। প্রথমত, তাহারা তাহাদের সমস্যার ব্যাপারে বহুলাংশেই ওয়াকিবহাল। দ্বিতীয়ত, তাহাদের কর্ণকুহরে এইসকল বিষয় পৌঁছাইবার আগে অনেকগুলি দুর্ভেদ্য স্তর থাকে। তাই অনেক ক্ষেত্রে ইহা অরণ্যে রোদনে পরিণত হয়। ইহা কাম্য নহে। এখনো মানুষ পরিবার-পরিজন লইয়া রেলপথে চলাচল করিতেই স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করে। সুতরাং ইহাকে নিরাপদ রাখা সময়ের দাবি।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন