ঢাকা বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬
২৭ °সে


সংকুচিত হইতেছে নদীপথ

সংকুচিত হইতেছে নদীপথ

আবহমান কাল ধরিয়া নদীমাতৃক হিসাবে পরিচিত বাংলাদেশে নদ-নদী যোগাযোগের উল্লেখযোগ্য প্রধান মাধ্যম হিসাবে বিবেচিত হইয়া আসিয়াছে। একই সঙ্গে মানুষ এবং পণ্য পরিবহনের জন্য নৌপথ ব্যবহার করা হইত। নৌপথ অধিকতর নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। কিন্তু বর্তমানে নাব্যের অভাবে, পলি জমিয়া, অবৈধ দখলদারির কারণে নদীপথ সংকুচিত হইয়া পড়িয়াছে। বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, ১৯৬২-৬৭ পর্যন্ত নেডেকোর সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশে নদীপথের মোট দৈর্ঘ্য ছিল ২৪ হাজার ১৪০ কিলোমিটার। ইহার মধ্যে নাব্য নৌপথের মোট দৈর্ঘ্য ছিল ১৩ হাজার ৭৭০ কিলোমিটার। ১৯৮৭-৮৮ সালের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী বর্ষাকালে বাংলাদেশে নদীপথের দৈর্ঘ্য মাত্র ৬ হাজার কিলোমিটার এবং শুষ্ক মৌসুমে ৩ হাজার ৮২৪ কিলোমিটার। ১৯৮৭-৮৮ সালে ডাচ ডিএইচভি. কর্তৃক শ্রেণিবদ্ধ নৌপথ জরিপের পর প্রায় ২৬ বছর অতিক্রান্ত হইয়াছে কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থাভাবে নৌপথের জরিপ আর সম্পন্ন করা সম্ভব হয় নাই। অর্থাত্ প্রায় সাত দশকে ১৮ হাজার কিলোমিটার বা ৪ ভাগের ৩ ভাগ নৌপথ হারাইয়া গিয়াছে।

বর্তমান সরকারের গত দশ বত্সরে পুনঃখননের কারণে নৌপথের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার বাড়িয়া হইয়াছে ৭ হাজার ৬০০ কিলোমিটার। সরকার সচেষ্ট থাকিলেও ড্রেজিংয়ে নানা সংকট রহিয়াছে। রহিয়াছে প্রয়োজনীয় ড্রেজারের অভাব। জানা গিয়াছে, দেশে নদীর নাব্য রক্ষায় দুইটি মন্ত্রণালয় কাজ করিলেও ড্রেজার-সংকটে কাজগুলি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যাইতেছে না। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩৫টি ড্রেজার থাকিলেও বেশিরভাগই অচল। অন্যদিকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১০টি ড্রেজারের মধ্যে দুইটির অবস্থা খারাপ। অথচ দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথকে নৌযান ও ফেরি চলাচল উপযোগী রাখতে বছরে অন্তত ১ কোটি ঘনমিটার পলি খনন করা দরকার। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) তাদের ১০টি খননযন্ত্র দিয়া ৫০ লক্ষ ঘনমিটার পলি অপসারণ করিতে পারে। অন্যদিকে আগামী পাঁচ বত্সরে দেশের ৮১টি নৌ-রুটের প্রায় ২৬ দশমিক ৪৮১ কোটি ঘনমিটার পলি ড্রেজিং করিতে হইবে। দুইটি মন্ত্রণালয়ের নেওয়া প্রকল্প অনুযায়ী ৩০টি ড্রেজার সংগ্রহ করা হইলে একদিকে নদীগুলির নাব্য যেমন ফিরিয়া আসিবে অন্যদিকে বন্যার হাত থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করাও সম্ভব হইবে। ইহা ছাড়া নিরাপদ নৌচলাচল ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে অভ্যন্তরীণ নৌপথের দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় বিআইডব্লিউটিএ আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসংবলিত ছয়টি ভেসেল স্টর্ম শেল্টারস নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করিয়াছে। পাশাপাশি ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে নদীর তীরবর্তী এলাকা হইতে প্রায় ১৫ হাজার ১৭৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হইয়াছে।

আমরা আশা করি, এই সকল প্রকল্প ধারাবাহিক ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হইলে নদীপথের দৈর্ঘ্য ও নাব্য বৃদ্ধি পাইবে এবং নদীপথ তাহার হারানো গৌরব বহুলাংশে ফিরিয়া পাইবে। কারণ সুজলা সুফলা শস্যশ্যামলা যে চিরায়ত বাংলার গল্প আমরা শুনিয়া আসিয়াছি, প্রাণবান নদ-নদী ব্যতীত তাহাকে আর ফিরিয়ে পাওয়া যাইবে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৭ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন