ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই ২০১৯, ৮ শ্রাবণ ১৪২৬
৩৪ °সে


যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকেই কেবল এমপিওভুক্ত করা হউক

যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকেই কেবল এমপিওভুক্ত করা হউক

শেষ সময়ে আসিয়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির শর্ত কিছুটা শিথিল করিবার কথা ভাবিতেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সকল উপজেলায় এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান রাখিতে এবং হাওর, চরাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা, নারী এবং প্রতিবন্ধীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অনগ্রসর এলাকার কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করিতেই মূলত ঐসকল এলাকার প্রতিষ্ঠানের জন্য শর্ত শিথিল করা হইতেছে। অন্যদিকে আবার এমপিওভুক্ত করিবার জন্য এখন বিভিন্ন এলাকার সাংসদসহ ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের চাপও বাড়িতেছে। সাংসদদের অনেকে শুধু নীতিমালার ভিত্তিতে এমপিওভুক্তির পক্ষে নন। তাঁহাদের বক্তব্য, নীতিমালার পাশাপাশি তাঁহাদের সুপারিশও গ্রহণ করিতে হইবে। তবে নীতিমালা অনুযায়ী সকল যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির জন্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শেষ করিয়াছে। এখন সরকারের শীর্ষ পর্যায় হইতে সম্মতি পাইলেই তালিকা ঘোষণা করা হইবে, এই মাসে সম্ভব না হইলেও আগামী মাসেই। তবে মনে রাখা দরকার, ইতঃপূর্বে ২০১০ সালে এমপিওভুক্তির সময়ও সংকট দেখা দিয়াছিল। তখন একবার তালিকা ঘোষণা করিয়াও তাহা বাতিল করিতে হইয়াছিল।

দীর্ঘ ৯ বত্সর পর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হইতেছে। সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হইয়াছিল। এমপিওভুক্ত হইলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার হইতে মাসে মূল বেতন ও কিছু ভাতা পাইয়া থাকেন। ফলে তাঁহাদের স্বল্প বেতনের পেশাজীবনে এমপিওভুক্তির বিশেষ গুরুত্ব রহিয়াছে। বর্তমানে সমগ্র দেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ২৬ হাজারের বেশি। এইগুলিতে শিক্ষক-কর্মচারী আছেন প্রায় ৫ লক্ষ। ইহার বাহিরে স্বীকৃতি পাওয়া নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে সাড়ে ৫ হাজারের মতো। এইগুলিতে শিক্ষক-কর্মচারী ৭৫ হইতে ৮০ হাজার। স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এইসকল নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘ ১৫-২০ বত্সর ধরিয়া সরকারি প্রণোদনা ব্যতিরেকেই চাকরি করিতেছেন। এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এইসকল শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলনও করিয়া আসিতেছেন। এখন তাঁহাদের দাবি অনেকটাই পূরণ হইতে চলিয়াছে। এইবার প্রতিটি উপজেলায় অন্তত দুইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করিবার পরিকল্পনা করিয়াছে সরকার।

এইদিকে বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িলেও তাহা যথোপযুক্ত নয় বলিয়া মনে করিতেছেন শিক্ষাবিদরা। তদুপরি, জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের জন্য এইবারের বাজেটেও পৃথক কোনো বরাদ্দ নাই। ফলে এমপিওভুক্তি লইয়া কিছু উদ্বেগ থাকিয়াই যাইতেছে। শিক্ষামন্ত্রী ইতঃপূর্বে জানাইয়াছিলেন যে, সমগ্র দেশ হইতে ৯ হাজার ৫০০ আবেদন পাওয়া গিয়াছে। তাহার মধ্যে আড়াই হাজারেরও কিছু বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির যোগ্যতা আছে। বাজেট ঘোষণার পর এমপিওভুক্তির কাজে গতি বাড়িয়াছে। এখন শেষবারের মতো উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান যাচাই-বাছাই করা হইতেছে। আমরা আশা করিব যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকেই কেবল এমপিওভুক্ত করা হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ জুলাই, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন