ঢাকা রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬
৩২ °সে


ব্যবহার না হইলে নির্মাণ কেন?

ব্যবহার না হইলে নির্মাণ কেন?

আমরা প্রায়শই দেখিয়া থাকি সরকারি অর্থব্যয়ে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ হওয়ার পর তাহা বত্সরের পর বত্সর পার হইয়া গেলেও চালু হয় না। তখনই প্রশ্ন আসিয়া উদয় হয়, যদি চালুই না করা হয়, তাহা হইলে নির্মাণের উদ্দেশ্য কী কেবল সংশ্লিষ্ট মহল এবং ঠিকাদারকে লাভবান করিবার জন্য অবকাঠামো নির্মাণ? বৃহস্পতিবার দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন হইতে জানা যায়, ঝিনাইদহে তিন একর জমির উপর ঝিনাইদহ শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হয় ২০০৬ সালে। হাসপাতাল ভবন, ডাক্তার-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন নির্মাণে ব্যয় হয় তত্কালীন মূল্যে ৬ কোটি ৩৪ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা। কিন্তু আজ অবধি তাহা চালু হয় নাই। এখন পুরা কমপ্লেক্স এলাকা অযত্নে পড়িয়া থাকিয়া নষ্ট হইতেছে। ইহাও হতাশাজনক যে, নির্মাণের পর আসবাবপত্র এবং চিকিত্সা-সরঞ্জামও সরবরাহ করা হইয়াছিল। কিন্তু তাহাও অযত্নে অব্যবহারে থাকিয়া নষ্ট হইতেছে। আরো উপহাসের বিষয় হইল, ২০০৬ সালে নির্মাণ সম্পন্ন হইবার পর তাহা তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করিতে গেলে হাসপাতালটি চালু আছে দেখাইবার জন্য সদর হাসপাতাল হইতে বেড, আসবাবপত্র এবং ডাক্তার হাওলাত আনিয়া দেখানো হয়। উদ্বোধন হইবার পর আবার তাহা সদর হাসপাতালকে ফিরাইয়া দেওয়া হয়। বর্তমানে হাসপাতালটি আগাছা-জঙ্গলে ছাইয়া গিয়াছে। যেইসকল আসবাবপত্র এবং মেডিক্যাল সরঞ্জাম পরবর্তীসময়ে ক্রয় করা হইয়াছিল তাহাও কিছু নষ্ট হইয়াছে এবং কিছু চুরি হইয়া গিয়াছে। বর্তমানে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসারকে প্রেষণে পাঠাইয়া নামমাত্র আউটডোর চালু করা হইয়াছে। কিন্তু না আছে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ, না আছে কোনো সরবরাহের ঔষধ, না আছে আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনা।

শিশু হাসপাতাল অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ঐ হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গ চালু হইলে কেবল ঝিনাইদহ নহে, পার্শ্ববর্তী চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, মাগুরা ও যশোর জেলার শিশুদের চিকিত্সায় বিশেষ সুবিধা হইত। কিন্তু কেন সরকারের এত অর্থ ব্যয় করিয়া অবকাঠামো নির্মাণ এবং তাহার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরও হাসপাতাল পরিপূর্ণরূপে চালু করা গেল না—তাহা কেবল স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকারী ঝিনাইদহের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বলিতে পারে। কিন্তু কোনো ব্যাখ্যা, কোনো অজুহাতই গ্রহণযোগ্য হইবার কথা নহে। একটি শিশু হাসপাতাল সম্পূর্ণরূপে নির্মিত হইবার পর, মেডিক্যাল সরঞ্জাম ক্রয়ের পর ১৩ বত্সরেও কেন পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করা গেল না—তাহার কী জবাব থাকিতে পারে? হাসপাতালটির জন্য পাঁচজন চিকিত্সক, ২১ জন স্টাফ নার্স, ছয় জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করিয়াও কেন লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয় নাই? সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন হইবার পর, লোকবলের জন্য পদ সৃষ্টির পরও শিশু হাসপাতালের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কেন চালু হইবে না? এই হাসপাতালটি যাহাতে কালক্ষেপণ না করিয়া অতি দ্রুত সম্পূর্ণরূপে চালু করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, সেই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকরী ভূমিকা পালন করিতে হইবে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন