ঢাকা শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬
৩৩ °সে


ওয়াসার এটিএম বুথে বিশুদ্ধ পানি

ওয়াসার এটিএম বুথে বিশুদ্ধ পানি

পানি ব্যতীত জীবনধারণ একপ্রকার অসম্ভব। নাগরিক জীবনে পানির উপর নির্ভরশীলতা আরো প্রকট আকারে দেখা দেয় যখন দায়িত্বশীল ওয়াসা বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে ব্যর্থ হয়। রাজধানী ঢাকায় বিশুদ্ধ সুপেয় পানির অভাব মাঝেমধ্যেই দেখা দেয়। বিশুদ্ধ পানির অভাবে বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত পানি ক্রয় করিতে হইতেছে, জারের পানি ব্যবহার করা হইতেছে হোটেলে, অফিসে। বাসাবাড়িতে পানি ফুটাইতে গ্যাস পুড়িতেছে, পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার ক্রয় করিতে গুনিতে হইতেছে বাড়তি অর্থ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, খাওয়া, রান্না ও পরিচ্ছন্নতার কাজে একজন মানুষের দৈনিক ৫০ হইতে ১০০ লিটার পানির প্রয়োজন হয়। সেই পানি কতটুকু নিরাপদ হইবে তাহার একটি নীতিমালা ঠিক করিয়া দিয়াছে সংস্থাটি, যাহার ভিত্তিতে রাষ্ট্রগুলি নিজেদের পানির মান নির্ধারণ করিয়া থাকে। ইউএনডিপির মতে, পানির দাম পরিবারের আয়ের ৩ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নহে। কিন্তু ঢাকায় ইহার চাইতে বেশি অর্থব্যয়েও বিশুদ্ধ পানির সংস্থান হইতেছে না। সম্প্রতি ইহার ব্যতিক্রম একটি ইতিবাচক ব্যবস্থা চালু হইয়াছে। বুথে এতকাল টাকা উত্তোলন করা যায় বলিয়া আমরা জানিয়া আসিয়াছি, কিন্তু এখন পাওয়া যাইবে বিশুদ্ধ পানিও। ওয়াসা ঢাকায় ১৬০টি পাম্পে পানির এটিএম বুথ বসাইয়াছে। পেইড কার্ডের মাধ্যমে ৪০ পয়সা লিটার হিসাবে পানি ক্রয় করিতেছে বিভিন্ন এলাকার মানুষ।

ডেনমার্কের একটি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ওয়াসার পানির পাম্পে বসানো হইয়াছে এটিএম বুথ। সেইখান হইতে পানি লইতে হইলে ২০০ টাকা ফেরতযোগ্য জামানত দিয়া একটি কার্ড লইতে হইবে। ইহার পর চাহিদা অনুযায়ী কার্ডে টাকা রিচার্জ করিতে হয়। সর্বনিম্ন এক টাকা হইতে সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত রিচার্জ করা যায়। এলাকাভিত্তিক বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন মিটাইতে এই এটিএমগুলি বেশ জনপ্রিয় হইয়া উঠিয়াছে বলিয়া জানা গিয়াছে। মধুবাগ পুরাতন পানির পাম্পে বসানো হইয়াছে এই রকম একটি এটিএম বুথ। বর্তমানে এই বুথ হইতে পানি সংগ্রহ করে, এমন প্রিপেইড কার্ডধারীর সংখ্যা ৭৪৬। প্রতিদিন বিক্রয় হইতেছে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি। কেহ বোতল, কেহ গ্যালন, কেহ আবার কলসি লইয়া পানি লইতেছে। পানির পাত্রটি পাইপের নিচে রাখিয়া প্রিপেইড কার্ডটি প্রবেশ করানোর সঙ্গে সঙ্গে পানি পড়িতে শুরু করে। আবার কার্ড বাহির করিয়া নিলেই পানি পড়া বন্ধ হইয়া যাইতেছে। কোনো কোনো গ্রাহক বুথ অপারেটরকে কার্ড দিয়া তাহাতে কী পরিমাণ টাকা রহিয়াছে তাহা দেখিতে বলিলেই তিনি দেখাইয়া দিতেছেন। কারো প্রয়োজন হইলে অপারেটর হইতে টাকা রিচার্জ করিতেছেন।

এই পানির মান লইয়া গ্রাহকরা সন্তুষ্ট। ওয়াসার অন্যান্য পানির ন্যায় এই পানিতে গন্ধ বা অন্য কোনো সমস্যার ব্যাপারে গ্রাহক পর্যায়ে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ নাই। গ্রাহকরা অল্প ব্যয়ে বিশুদ্ধ পানি পাইয়া খুশি। ওয়াসার এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। ঢাকার অন্যান্য এলাকায়ও ওয়াসা এই সুবিধা সম্প্রসারণ করিতে পারে।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন