ঢাকা সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


‘অনেক কথা যাও যে বলে কোনো কথা না বলি’

‘অনেক কথা যাও যে বলে কোনো কথা না বলি’

দেশ আগাইতেছে, কিন্তু আপনি কতদূর আগাইলেন—এই বিষয়ে ইত্তেফাকে পাঠকের নিকট মতামত চাওয়া হইয়াছিল কিছুদিন পূর্বে। পাঠকের মতামত বিভাগে তখন বিচিত্র মন্তব্য আসিয়াছিল। বেশিরভাগ পাঠক যাহা বলিতে চাহিয়াছেন, তাহা হইল—দেশের এতসব উন্নয়নের উচ্ছ্বাসের ভিতরেও তাহাদের বৃহত্ একটি অংশের মনে চাপা ক্ষোভ-দুঃখ-কষ্ট-মনোযাতনা প্রবলভাবে রহিয়াছে। ছাইচাপা দুঃখের মতো তাহা দেখা যায় না। অত্যন্ত সূক্ষ্ম অন্তর্ভেদী দৃষ্টি দিয়াই কেবল সেই কষ্টের হদিস পাওয়া যায়।

শরীর অসুস্থ হইলে আরোগ্য লাভের প্রথম শর্ত থাকে শরীরে সমস্যাটি আসলে কী—তাহা সর্বপ্রথম সঠিকভাবে নির্ণয় করা। আরোগ্য লাভ করিতে হইলে রোগ নির্ণয় সঠিক হইতেই হইবে। কিন্তু রোগ নির্ণয় ঠিকঠাক হইলে সুস্থতা কি নিশ্চিত আসিবেই? অত্যন্ত গুণী বিচক্ষণ চিকিত্সকও যদি ব্যবস্থাপত্রে সঠিক ঔষধ না লেখেন, তাহা হইলে কি শরীরের রোগমুক্তি সম্ভব? সুতরাং বিষয়টি খুব সহজ নহে। কারণ, দেশ আগাইতেছে—ইহা লইয়া কাহারো মনের মধ্যে যেমন কোনো সংশয়ের অবকাশ নাই, তেমনি অন্তঃসলিলার মতো দুঃখধারা বহিয়া চলিতেছে হূদয়ের অন্দরে। সেই কারণে দেশের প্রধানের নিকটও আমরা প্রায়শই শুনিতে পাইতেছি—এত পরিশ্রম এবং এত কাজের পরও যদি অনিয়ম ও অপচয়ের কারণে সকল অর্জন নষ্ট হইয়া যায় তাহা হইবে অত্যন্ত দুঃখজনক। ইহা কোনোভাবেই সহ্য না করিবার হুঁশিয়ারিও আমরা শুনিতেছি অহরহ। দেশের উন্নয়নটা যেন দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, অন্যায়, অনিয়ম, অপচয় যেন উন্নয়ন না খাইয়া ফেলে—এই ব্যাপারে জিরো টলারেন্সের কথাও বারবার শুনিতে পাইতেছি। কিন্তু দিন শেষে দেখা যাইতেছে টলারেন্স ‘জিরো’ না হইয়া বরং হুঁশিয়ারিটাই ‘জিরো’ হইয়া যাইতেছে। কিন্তু কেন?

অর্থনীতির রক্তক্ষরণ কোথায় কীভাবে হইতেছে, কাহাদের কারণে উন্নয়নের শুভ্রতায় কর্দমা লাগিতেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কেন সকল ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করিতে পারিতেছে না—এইসকল রোগের উত্স কোথায় তাহা প্রধান চিকিত্সক জানেন। কিন্তু সেই অনুযায়ী নিদান না দিলে শতকথা বলিলেও তাহা বোধগম্য হইবে কাহারো? এই ধরনের পরিস্থিতিতে রবীন্দ্রনাথের একটি পঙিক্ত প্রাসঙ্গিক বলিয়া বিবেচিত হইতে পারে—‘অনেক কথা যাও যে বলে কোনো কথা না বলি।/তোমার ভাষা বোঝার আশা দিয়েছি জলাঞ্জলি।’

অনেকের মতে, উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রচলিত এই ধরনের গণতন্ত্রের ভিতরেই লুকাইয়া রহিয়াছে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য, যাহার কারণে রোগ সঠিকভাবে নির্ণয় করা গেলেও ব্যবস্থাপত্রে সঠিক ঔষধ লেখা যায় না। গ্রামবাংলায় প্রচলিত আছে যে, ‘একজন সাপুড়ের নিকট তাহার সর্পকুল সবচাইতে বড়ো সম্পদ। কিন্তু তাহারা যাহাতে অধিক ফোঁসফাঁস করিতে না পারে, সেই দিক সামলানোটাও সাপুড়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’ এই ক্ষেত্রে শ্যাম ও কুল যুগপত্ ঠিক রাখা খুব সহজ কাজ নহে। বিষয়টি সেই কারণে অত্যন্ত জটিলও বটে। আর তাহা স্পষ্ট করিয়া প্রকাশ করা আরো বেশি কঠিন। সেই কারণেই সম্ভবত রবীন্দ্রনাথ বলিয়াছেন—‘সহজ কথায় লিখতে আমায় কহ যে,/সহজ কথা যায় না লেখা সহজে।’

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৯ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন