ঢাকা শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬
২৮ °সে


প্রতিষ্ঠানসমূহ রক্ষিত না হইলে কে বাঁচিবে?

প্রতিষ্ঠানসমূহ রক্ষিত না হইলে কে বাঁচিবে?

মানবসভ্যতা টিকিয়া আছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নিয়মতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের খুঁটির ওপর ভর করিয়া। এক-একটি প্রতিষ্ঠান গড়িয়া ওঠে উহার অন্তর্নিহিত প্রবল শক্তির দ্বারা। এই কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান গড়িয়া তোলা যেমন কঠিন কাজ, তেমনি উহাকে ভাঙিয়া ফেলাটাও সহজ কাজ নহে। ছোট্ট একটি বীজ হইতে মহিরুহরূপে আকাশে মাথা তুলিয়া দাঁড়ায় অশ্বত্থ বৃক্ষ। যত বড়ো হয় ততই ঝুড়ি নামিয়া আসে ঐ বৃক্ষের শাখা-প্রশাখা হইতে। সুতরাং ঝড়ঝাপটা আসিয়া উহার শিকড় উপড়াইতে পারে না সহজে। অসংখ্য ঝুড়ির মাধ্যমে অশ্বত্থ বৃক্ষ তখন এক ধরনের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়। কিন্তু উহারা আলগা হইয়া গেলে কিংবা কর্তন করিয়া ফেলা হইলে প্রকৃতির সামান্য রোষানলেও উপড়াইয়া পড়িতে পারে অত বড়ো মহিরুহটি। একই উদাহারণ দেওয়া যায় সুন্দরবনের ক্ষেত্রে। আইলা, সিডরের মতো অতি ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় বহুলাংশে দুর্বল হইয়া গিয়াছিল সুন্দরবনের মতো অতিবৃহত্ ঢালের কারণে। সুন্দরবন বিশাল-বিপুল-ব্যাপক বলিয়াই উহা সহ্য করিতে পারিয়াছিল ঐ ধরনের অতি ভয়াবহ ঝড়ের ঝাপটা। সুন্দরবনও এইক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠানে মতো, যাহা রাতারাতি গড়িয়া উঠে নাই এবং যাহার ক্ষমতাও অত্যন্ত সমীহযোগ্য।

মানবসভ্যতার সুষ্ঠু বিকাশে তেমনি নানা ধরনের শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি হইয়াছে। ইহার প্রতিটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি গাছ জন্মাইতে যেমন প্রতিষ্ঠানস্বরূপ আলো, মাটি, পানি ও বাতাস লাগে—তেমনি মানব সভ্যতার বিকাশ ও সুশৃঙ্খলের জন্য সমাজ, রাষ্ট্র তথা আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ লাগে। ইহার প্রতিটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি বৃক্ষকে আলো, মাটি, পানি কিংবা বাতাসের মতো যে কোনো একটি উপাদান হইতে বঞ্চিত করা হইলে গাছটি আর বাঁচিতে পারিবে না, তেমনি মানবজাতির নিয়মতান্ত্রিক সুষ্ঠু বিকাশধারার জন্য তৈরিকৃত প্রতিষ্ঠানসমূহের কোনো একটি নষ্ট বা দুর্বল হইয়া পড়িলে তাহা ঐ সমাজকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলিয়া দেয়। ইহারই কিছু কিছু আলামত আমরা দেখিতে পাই তৃতীয় বিশ্বের দেশসমূহে। এই বাস্তবতা মানিতেই হইবে যে, উন্নয়নশীল দেশসমূহের ভিতরে এখনো আধা সামন্তবাদের গন্ধ দূর হয় নাই। সেই কারণে সকলকিছু নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত করিবার বিষয়টি তৃতীয় বিশ্বের দেশে প্রায়শই বিবর্ণ হইয়া পড়ে। এই সকল বিষয় লইয়া যাঁহারা গবেষণা করেন, তাঁহারা মনে করেন, বহু যুগ ধরিয়া তৃতীয় বিশ্বের সমাজ গড়িয়া উঠিয়াছে এক ধরনের নৈরাজ্যের ভিতর দিয়া। সেই কারণে কোনো প্রতিষ্ঠান এইখানে গড়িয়া উঠিলেও তাহার সুরক্ষাকবচ সুরক্ষিত থাকে না পুরোপুরি।

তৃতীয় বিশ্বের এই মানসচিত্রের পাশাপাশি আমরা বিস্মিত হইয়া লক্ষ করিতেছি আইন ও নিয়মতান্ত্রিকতায় অত্যন্ত সুপ্রতিষ্ঠিত বিশ্বের সবচাইতে শক্তিশালী একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কর্মকাণ্ড—কীভাবে প্রতিনিয়ত তিনি নিয়ম ভাঙিতেছেন, কীভাবে প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়মনীতিগুলিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইতেছেন! ইহা এমন পর্যায়ে চলিয়া যাইতেছে যে, বসবাসের জন্য বিশ্বের সবচাইতে আরাধ্য ঐ দেশটিকেই অনেকে এখন বসবাস-অনুপযুক্ত বলিয়া মনে করিতেছেন। সুতরাং সকল ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠান রক্ষা করিবার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানসমূহ রক্ষিত না হইলে উহা সৃষ্ট নৈরাজ্য হইতে কেহই রক্ষা পায় না শেষাবধি।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন