ঢাকা রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬
৩০ °সে


এই অনিয়ম জালিয়াতির উত্স কোথায়

এই অনিয়ম জালিয়াতির উত্স কোথায়

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সাবেক প্রধান অ্যালান গ্রিনস্প্যান বলিয়াছিলেন, ‘দুর্নীতি, প্রতারণা, জালিয়াতি, অনিয়ম সর্বত্রই কমবেশি বিরাজমান। আপনি পছন্দ করুন আর না-ই করুন, দুঃখজনক হইলেও সত্যি যে, মানুষের স্বভাবের মধ্যে ইহা বিরাজমান। কিন্তু একটি সফল দেশ, বিশেষ করিয়া অর্থনৈতিকভাবে সফল দেশ ইহাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, ন্যূনতম করিয়া রাখে। আজ অবধি কেহ এই সমস্যাকে সম্পূর্ণরূপে বিলোপ করিতে পারে নাই।’ কথা হইল, আমরা এই প্রতারণা জালিয়াতি এই ‘ন্যূনতম’ পর্যায়ে নামাইয়া আনিতে পারিব কবে? নাকি সেই সম্ভাবনা সুদূর পরাহত? দেশে প্রতারণা জালিয়াতি এমন এক স্তরে পৌঁছাইয়াছে, জালিয়াত চক্রের স্পর্ধা এমন পর্যায়ে পৌঁছাইয়াছে যে খোদ উচ্চ আদালতও ইহার শিকার হইতেছে। সহযোগী একটি পত্রিকা জানাইয়াছে, ভুয়া নথি দাখিল করিয়া বা হাইকোর্টের জাল জামিন আদেশ বানাইয়া কারাগার হইতে আসামি মুক্ত করাইয়া লইতেছে। মামলার ভুয়া এফআইআর, চার্জশিট ও জব্দ তালিকা এমনভাবে তৈরি করিয়া দাখিল করা হইতেছে যাহাতে মামলার গুরুত্ব কমিয়া যায়। অর্থাত্ আদালতকে বিভ্রান্ত করা হইতেছে। পত্রিকাটির মতে, এই ধরনের অপরাধ দিন দিন কমিতেছে না, বরং বাড়িতেছে। আর এইসব জালিয়াতির পিছনে রহিয়াছে কিছু অসাধু আইনজীবী, অসাধু কর্মচারী, মামলার তদবিরকারক এবং আইনজীবীর সহকারীরা। ১৫ জুলাই এইরকম একটি ঘটনা মাননীয় উচ্চ আদালতের নজরে পড়িয়াছে। পরে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ নিম্ন আদালতের জাল নথি দাখিল করিয়া জামিন নেওয়া খুলনার তিন আসামি, জামিনের তদবিরকারক এবং ঘটনায় জড়িত আইনজীবীর সহকারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করিতে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়াছেন।

বিচারকার্য একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। যে কোনো দেশের বিচারব্যবস্থার মূল কথা হইল, বিচারে একজন অপরাধী দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে যথোপযুক্ত শাস্তি পাইবেন আর নিরপরাধী অভিযোগ হইতে মুক্তি পাইবেন। এই বিচারকার্য খুবই সংবেদনশীল। বিচারকগণ নথিপত্র দেখিয়া, আর্গুমেন্ট শুনিয়া অতঃপর চুলচেরা বিশ্লেষণ করিয়া রায় প্রদান করিয়া থাকেন। সেই কাজ করিতে গিয়া তাহারা সচেষ্ট থাকেন, যাহাতে কোনোক্রমেই একজন নিরপরাধী ব্যক্তি শাস্তি না পায় এবং অপরাধীর যাহাতে যথাযথ শাস্তি হয়। এহেন একটি স্পর্শকাতর কর্মে আদালতকে বিভ্রান্ত করা গর্হিত অপরাধ। এই রকম একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থার সঙ্গে যাহারা বিভিন্ন পেশাগতভাবে জড়িত, তাহাদের কি খানিকটা মূল্যবোধ থাকা উচিত নহে? আমরা বুঝিতে পারি, যাহারা জানিয়া-বুঝিয়া আসামিদের পক্ষে এই ধরনের কর্মে লিপ্ত হন তাহারা প্রধানত আর্থিকভাবে লাভবান হইতেই ইহা করিয়া থাকেন। এই ধরনের অনিয়ম জালিয়াতির স্পর্ধার পিছনে দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবেশ ও মানসিকতা কাজ করিয়া থাকে, তাহাতে সন্দেহ নাই। দুর্নীতি, অনিয়মের লাগাম টানিয়া ধরা গেলে, অর্থাত্ ন্যূনতম করিয়া ফেলা গেলে এই ধরনের অপরাধ করিতে কেহ সাহস পাইবে না—তাহা বলিবার অপেক্ষা রাখে না।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১৮ আগস্ট, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন